বিচার হোক নিরপেক্ষ,আইন চলুক নিজের ছন্দে

প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল শক্তি হলো সুশাসন, যার মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনের উপর। আইন ও বিচারব্যবস্থা যদি সঠিক পথে চলে, তবে রাষ্ট্রের সব অঙ্গই ভারসাম্যপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, অনেক সময় প্রভাবশালী গোষ্ঠী, রাজনীতিক কিংবা অর্থবলের প্রভাবে আইনের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। বিচার হয় পক্ষপাতদুষ্ট, আর সাধারণ মানুষ হয়ে পড়ে বঞ্চিত ও অবহেলিত। ঠিক এখানেই জনতার কণ্ঠস্বর—ন্যায়বিচার হোক নিরপেক্ষ, আইন চলুক নিজের ছন্দে।জনগণের এই দাবি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি একটি মৌলিক অধিকার। তারা চায় এমন একটি সমাজ, যেখানে বিচার হবে শুধু সত্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে, কারও পরিচয়, প্রভাব বা অর্থের ভিত্তিতে নয়। তারা চায়, প্রতিটি অপরাধের বিচার হোক দ্রুত, সঠিক ও প্রভাবমুক্তভাবে। জনগণ দেখতে চায়, একজন সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের সুযোগ যেন একটি ভিআইপি নাগরিকের সমান হয়। সেই সমাজেই প্রকৃত শান্তি, স্থিতি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।আইন তার নিজের পথে চলতে পারলে মানুষ আর দুর্নীতির আশঙ্কায় ভোগে না, অপরাধীরা অব্যাহতি পায় না, নিরীহ মানুষ অন্যায়ের শিকার হয় না। বিচারব্যবস্থা যখন স্বাধীন হয়, তখন জনগণের আস্থা বাড়ে, রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় এবং একটি উন্নত জাতির ভিত্তি নির্মিত হয়।এই কারণেই আজ সারাদেশের মানুষের একটাই চাওয়া—প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা, যেখানে আইন চলবে তার নিজস্ব গতিতে। ন্যায়ের বাণী যেন উচ্চারিত হয় নির্ভয়ে, আর আইন হোক সত্যের পক্ষে নির্ভীক সৈনিক। এই চেতনায় এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।
নামঃ- রনি মুহুরী
শিক্ষার্থীঃ- সরকারি সিটি কলেজ,চট্টগ্রাম
লেখক: সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে দৈনিক আজাদী পত্রিকায় প্রকাশিত।

