বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ইসলাম / নিবন্ধ

একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম চ্যালেঞ্জঃ মসজিদ ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ

Author

আজহারুল ইসলাম পিয়াস , Islamic University, Kushtia

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ৪১ বার

মসজিদ, মুসলিম উম্মাহর কেন্দ্রবিন্দু তথা নিউক্লিয়াস। মুসলিমদের ঐক্যের সূতিকাগার হলো এই মসজিদ। যেখানে নেই কোনো ভেদাভেদ। সকলে সারিবদ্ধ হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সালাত আদায়ের মাধ্যমে গড়ে উঠে মুসলিমদের মাঝে সাম্য, মৈত্রী ও সৌহার্দ্য। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী তথা খৃষ্টানদের গীর্জা, ইহুদিদের সিনাগগ, বৌদ্ধদের প্যাগোডা, হিন্দুদের মন্দির ও শিখদের গুরুদুয়ারার মতো মুসলিমদের জন্য মসজিদ শুধু উপাসনালয় নয়। বরং তা মুসলিমদের ব্যক্তিজীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন ও আন্তর্জাতিক জীবনের সকল কিছুর কেন্দ্রবিন্দু। মসজিদ হলো সৎকাজ করার এবং অসৎকাজের ধ্বংসের জনমত তৈরির কারখানা। আমরা সিরাত অধ্যয়নকালে দেখেছি, মসজিদে নববি ছিল সমস্ত সামাজিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু। শুধু পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আর জুমার সালাতের জন্য মসজিদ কেন্দ্র নয়। বরং, আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি জাগতিক সমস্যা সমাধানে মসজিদ অদ্বিতীয় ভূমিকা পালন করে।

 

‘মসজিদ’ নামকরণ:

মসজিদ শব্দের উৎপত্তি আরবি শব্দ سجد শব্দমূল থেকে। যার আভিধানিক অর্থ হলো শ্রদ্ধাভরে মাথা অবনত করা। اسم المكان হওয়ায় হিসেবে مسجد মসজিদ শব্দের অর্থ হয় অবনত হওয়ার স্থান। এক্ষেত্রে নামকরণের ব্যাখ্যায় আল্লামা জারকাশি (রহ.) বলেন, যেহেতু মসজিদে সালাত আদায় করা হয়, আর সালাতের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত হলো সাজদা যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের সবচেয়ে বড় মাধ্যম, এ কারণেই এ স্থানটির নাম মসজিদ। (ইলমুস সাজিদ বিআহকামিল মাসজিদ, পৃষ্ঠা নং. ২৮)

 

মসজিদে বিশ্বনবী যা করতেন:

 

মহানবি সা. কর্তৃক নির্মিত মসজিদে নববী ছিল মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান বিচারালয়, সংসদ, মন্ত্রণালয় ও রাজনৈতিক কার্যালয়। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিগণ আসলে রাসুলুল্লাহ সা. এখানে বসেই তাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেন। সমাজে কিংবা রাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতেন। মসজিদে নববীকে ঘিরে হতো বিচারকার্য পরিচালনা, বিয়ে, যুদ্ধের ফয়সালা এবং তার ঘোষণা ইত্যাদি। মসজিদে নববীতেই বিশ্বনবি তাঁর ওপর নাজিল কৃত কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং সেখানে বসেই কাতেবে ওহিগণ তা লিপিবদ্ধ করতেন। আহলে সুফফাগণের প্রথম বাসস্থান ছিল মসজিদে নববী। পরবর্তীতে খলিফা গণের যুগেও তা বলবৎ ছিল।

 

মসজিদ নিয়ে সমাজে বিভ্রান্তি:

 

বর্তমানে আমরা মসজিদকে সালাতের জন্য খাস বানিয়ে ফেলেছি। আমরা ভুলে গেছি মহানবী সা. এর মসজিদ ভিত্তিক কর্মনীতি। আমরা আজ সালাত ছাড়া অন্যান্য কাজ মসজিদে সম্পাদন করতে নারাজ। আজ সমাজ থেকে মসজিদকে আমরা আলাদা করে ফেলেছি। আর এটিই মসজিদ ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম প্রধান সমস্যা। অনেক সময় দেখা যায়, মসজিদের ব্যানারে অথবা দেয়ালে লিখা থাকে “মসজিদে দুনিয়াবি কথা বলা হারাম।” কী আশ্চর্য! অথচ রাসূল সা. তাঁর যাবতীয় কাজ যেমন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় সকল কাজের আঞ্জাম দিতেন সমাধা করতেন মসজিদেই। এমনকি যখন বিভিন্ন দেশের অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যেমন ইহুদি খ্রিস্টান প্রতিনিধিরা মদিনায় আসতো, তখন তিনি তাদের নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করতেন। রাসুল সা. যে নিজে মসজিদে দুনিয়াবি বিভিন্ন বিষয়ে করেছেন, তা কি নিষিদ্ধ জেনেও তিনি করেছেন? (নাউজুবিল্লাহ)

 

আমরা মসজিদে যা করি:

 

আমরা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ছাড়া মসজিদ ভিত্তিক আর কোনো কার্যক্রম মসজিদে সম্পাদন করতে নারাজ। এমনিকি এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতও মসজিদে আদায় সম্ভব হয় না অনেকের। সাপ্তাহিকভাবে শুধু জুমাবার মসজিদে মুসলমানদের জমায়েত হয়। জুমার সালাত আদায়ের পর আবারও পুরো সপ্তাহ জুড়ে মসজিদ শুন্য হয়ে থাকে। তাই এখান থেকে বের হয়না হেদায়াতের কোনো আলো। নামাজরত অবস্থায় মসজিদে আমরা একরকম থাকি আর মসজিদ থেকে বের হলে আমরা অন্যরকম হয়ে যাই, হয়ে যাই অপরাধপ্রবণ। অথচ এই চিন্তাটা আমাদের কাজ করে না যে, মসজিদে যা করা হারাম তা বাহিরে করাও হারাম। এজন্যই আমাদের সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে সালাত শুধু আদায় নয় বরং কায়েম করতে হবে। আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে অসংখ্যবার উল্লেখ করেছেন সালাত কায়েমের কথা। নইলে সমাজ পরিবর্তন কখনোই হবে না। এজন্য মসজিদকে ঘিরে সালাত কায়েম করতে হবে, সালাত দিয়ে মসজিদকে আবাদ করতে হবে এবং এর পাশাপাশি জীবন সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কার্যাদির সমাধান মসজিদ ভিত্তিক করতে হবে।

 

মসজিদ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার যাত্রা এবং এর অনুপস্থিতির দরুন অপরাধপ্রবণতার প্রকট আকার ধারণ:

আজকের শিশু আগামীদিনের কর্ণধার। তারাই একদিন এই সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের দিয়ে শুরু করতে হবে মসজিদ ভিত্তিক সমাজের গোড়াপত্তন। তবে আজকে আমাদের সমাজব্যবস্থায় শিশুরা মসজিদ মুখি হচ্ছে না। আমরা এক্ষেত্রে বারংবার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছি। শিশুরা হচ্ছে অনেকটা কাদামাটির মতো। তাদেরকে যেভাবেই গড়ে তোলা যায় পরবর্তী প্রজন্ম সেভাবেই গড়ে ওঠে। তবে আমরা তাদের সেভাবে মসজিদ মুখি করে গড়ে না তোলার কারণেই সমাজে অপরাধপ্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলছে। এর কারণ হলো শিশুদের মসজিদ মুখি করে না গড়ার ফলেই এই শিশুই বড় হয়ে ইসলাম থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। একটাসময় ইসলামকে তারা সাপ্তাহিক জুমার সালাত আদায় করার মাধ্যমে পালন করছে।

সাধারণত বাচ্চারা একটু দুষ্টু হয়। সুযোগ পেলেই তারা হাসে, কাঁদে, ছোটাছুটি হৈ-হুল্লোড় করে। আর এটাই স্বাভাবিক। তারা যদি বুঝত এর ভালো কিংবা মন্দ দিক তাহলে তারা তা মসজিদে করতো না। আর এজন্যই তাদের মসজিদ থেকে দূরে রাখা যাবে না। তা না হলে তারা যখন মসজিদে আসবে না তাদের জ্ঞানের ভিত্তিই আর থাকবে না। তার মাঝে থাকবে না কোনো নৈতিকতা। নৈতিকতাহীন মানুষ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। যখন তাদের মনে আল্লাহর বলয়ের থাকার কোনো তাকিদ বা প্রয়োজনীয়তা বোধ কাজ করবে না তখনই জড়িয়ে পড়বে অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, আরও নানাবিধ কার্যকলাপে। করবে হত্যা, গুম, খুন, ধর্ষণ আর ব্যভিচার। তাই সমাজ বিনির্মাণের গোড়াপত্তনের জন্য আমাদের মসজিদ মুখি হতে হবে বিশেষ করে শিশুদেরকে মসজিদে আসার জন্য ব্যাপকভাবে উৎসাহ দিতে হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, পুরষ্কার ইত্যাদি ঘোষণার মাধ্যমে তাদেরকে মসজিদের প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে। নইলে আগামীর মসজিদভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ কারা করবে? বলা হয়, যে সমাজের মসজিদ গুলোর পেছনের সাঁরিতে বাচ্চাদের দুষ্টুমি, ছোটাছুটি, হাসির উপস্থিতি টের না পাওয়া যায়, তাহলে বুঝতে হবে যে পরবর্তী প্রজন্ম মসজিদ বিমুখ হয়ে গড়ে উঠবে তাই ওই সমাজের পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে তোমরা আশঙ্কায় থাকো।

 

আদর্শিক সমাজ বিনির্মাণে মসজিদ যেমন হওয়া উচিৎ :

আমরা ইতিপূর্বেই উল্লেখ করেছি, মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়; বরং তা আলোকিত জ্ঞানী তৈরির স্থান। মসজিদে যেমন আত্মার খোরাকি তেমনি মিলবে জাগতিক সমস্যা সমাধান। আলোকিত সমাজ বিনির্মাণ উম্মাহর সকল আশা ভরসা কেন্দ্রস্থল হবে মসজিদ। তাই মসজিদগুলো হতে হবে বৃহৎ এক আয়তন নিয়ে যাতে এটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বিনোদন ও শিক্ষামসজিদ প্রাঙ্গনে শিশুদের খেলাধুলার পর্যাপ্ত জায়গা সামগ্রী শারীরিক চর্চার সুব্যবস্থা ও গবেষণামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করা যায়। ইবাদতের স্থান ছাড়াও পড়াশোনার জন্য লাইব্রেরী, গবেষণাগার, ইসলামের মৌলিক বিষয় শিক্ষাদানের জন্য ক্লাসরুম, মসজিদ প্রাঙ্গণে শিশুদের খেলাধুলার পর্যাপ্ত জায়গা, খেলার সামগ্রী ও শরীরচর্চার সুব্যবস্থা এবং সামাজিক আচার-বিচারের জন্য আলাদা কনফারেন্স রুম থাকতে হবে। এর পাশাপাশি-

* ২৪ ঘন্টা মসজিদ ব্যবস্থা এবং সিকিউরিটির ব্যবস্থা করতে হবে;

* মেয়েদের জন্য আমাদের জন্য আলাদা স্থান থাকতে হবে। যেখানে তাদের জন্য থাকবে আলাদা প্রবেশপথ, ওয়াশরুম। আরব বিশ্ব সহ অন্যান্য দেশে মুসল্লা লিস-সাইয়্যিদাত (مصلى للسيدات) নামে মসজিদে নারীদের নামাজ আদায়ের আলাদা জায়গা থাকে;

* পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা থাকতে হবে। যারা গাড়ি নিয়ে আসবেন তাদের যেন কোন বেগ পেতে না হয়;

* মসজিদটি যেন পরিবেশবান্ধব হয় তাই মসজিদের বাইরে তাই বুঝতে পেরে ফুলের বাগান থাকতে হবে;

* পরিচ্ছন্ন মনোরম এরিয়া থাকতে হবে; যাতে আল্লাহর বান্দারা ওযু সেরে সুন্দর টাওয়ালে হাত-মুখ মুছে নিতে পারে।

* এয়ারকন্ডিশন, সিসি ক্যামেরা, কার্পেট, ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম, জুতা রাখার নিরাপদ বাক্স, সুতরা, রেহাল, টিস্যুর বক্স, আতরের ছোট বোতল, পরিষ্কার লুঙ্গি ও মেয়েদের বড় হিজাব নিশ্চিত করতে হবে;

* ফ্রি বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে;

* একটি চিকিৎসাকেন্দ্র থাকতে হবে;

* কর্জে হাসানা ফান্ড থাকতে হবে;

* যুগোপযোগী দাওয়াহ সেন্টার থাকতে হবে।

 

মসজিদের ইমাম কেমন হবেন:

 

মসজিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ইমাম সাহেব। একটি আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের জন্য তিনি হবেন মূল কারিগর।এজন্য তাঁকে হতে হবে খুবই চৌকস, দক্ষ, জ্ঞানী ও অনুসরণীয় চরিত্রের অধিকারী। সমাজে কি চলছে, কি সমস্যা বিরাজ করছে তা বিশ্লেষণ করে তড়িৎ গতিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই হবে ইমামের অন্যতম প্রধান কাজ। তিনি হবেন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও রোলমডেল। দ্বীনি সমস্যা, মানসিক সমস্যা, বয়:সন্ধিকালীন সমস্যা, বার্ধক্যকালীন সমস্যা, মাদকাসক্তি, ক্যারিয়ার বিষয়ক দিকনির্দেশনা, উন্নয়ন ভাবনা ইত্যাদি বিষয়ে তিনি যোগ্য পরামর্শক ও সংগঠক হিসেবে কাজ করবেন। আর তিনিই ইমাম হবেন- যিনি সঠিক পথ চেনেন, সে পথে এগোতে পারেন এবং অন্যকে পথ দেখাতে পারেন। ইমাদ হিসেবে আরো কিছু গুণ থাকা আবশ্যক। আর তা হলো-

* ঐক্য বজায় রাখার ক্ষমতা

* নিজেকে আপডেট রাখা

* ভাষাগত দক্ষতা অর্জন

* সাবলীল উপস্থাপনের ক্ষমতা

* সকলের আস্থাভাজন হওয়া

* অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়া

* নেতৃত্বের গুণাবলি থাকা

* গবেষক হওয়া।

 

মসজিদকেন্দ্রিক কার্যক্রম:

 

* সাপ্তাহিক প্রশ্নোত্তর পর্ব

*মাসিক তাফসীর ও দরসে হাদিস

* হুজুরের উদ্যোগে জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম (খেলাধুলা, শিক্ষাসফর, লিডারশিপ ক্যাম্প ইত্যাদি)

* নারীদের বিশেষ প্রোগ্রাম

* শিশুদের বিশেষ প্রোগ্রাম

* বিভিন্ন প্রতিযোগিতা (সিরাত, প্রবন্ধ, নাশিদ, তিলাওয়াত, তাহফিজ, কবিতা আবৃত্তি; যেমনটা হাসান বিন সাবেত রাদিআল্লাহু আনহু-এর নেতৃত্বে মসজিদে নববীতে অনুষ্ঠিত হতো)

* বাৎসরিক তাফসীর প্রোগ্রাম।

 

মসজিদকেন্দ্রিক কার্যক্রম:

* সাপ্তাহিক প্রশ্নোত্তর পর্ব

*মাসিক তাফসীর ও দরসে হাদিস

* হুজুরের উদ্যোগে জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম (খেলাধুলা, শিক্ষাসফর, লিডারশিপ ক্যাম্প ইত্যাদি)

* নারীদের বিশেষ প্রোগ্রাম

* শিশুদের বিশেষ প্রোগ্রাম

* বিভিন্ন প্রতিযোগিতা (সিরাত, প্রবন্ধ, নাশিদ, তিলাওয়াত, তাহফিজ, কবিতা আবৃত্তি; যেমনটা হাসান বিন সাবেত রাদিআল্লাহু আনহু-এর নেতৃত্বে মসজিদে নববীতে অনুষ্ঠিত হতো)

* বাৎসরিক তাফসীর প্রোগ্রাম।

 

সর্বোপরি, এভাবেই গড়ে উঠতে পারে ইসলামী সভ্যতার নিদর্শন ও ইমানের ইস্পাতকঠিন দুর্গ। এ দুর্গ যেমন মুসলিমদের জ্ঞান চর্চার বাতিঘর হবে এমনিভাবে ইবাদতের মেহরাব তাওহীদের বাণী প্রচারের কেন্দ্র। তবেই আবার ফিরে আসবে সেই স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাস যখন মসজিদই ছিল কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসাবিদ, সেনাপতি, বিচারক, আইনজীবী ও রাষ্ট্রপ্রধান তৈরীর কারখানা। তাই অজ্ঞতা, দীনতা-হীনতা, হিংসা, বিভেদ, লাঞ্ছনা ও পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বাঁচতে সে মসজিদের দিকেই ফিরে যেতে হবে। বিনির্মাণ করতে হবে মসজিদ ভিত্তিক সমাজব্যবস্থার। মসজিদকেই বানাতে হবে সামাজিক ও ধর্মীয় মিলনায়তন। তাহলেই আমরা ফিরে পাব আমাদের হারানো সেই স্বর্ণালী অতীত, যশ, খ্যাতি, মান-মর্যাদা।

লেখক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!