বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

নতুন শিক্ষা পরিকল্পনায় তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক নয় প্রয়োজন কারিগরি শিক্ষার সমস্বয়

Author

মো রিমেল

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ৩৮৩ বার

নতুন শিক্ষা পরিকল্পনায় তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক নয় প্রয়োজন কারিগরি শিক্ষার সমস্বয়

একটি দেশের উন্নয়ণের অন্যতম সূচক হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কেবল সারা বিশ্বে নয় দক্ষিণ এশিয়াতে ও শিক্ষা সূচকে তলানীতে অবস্থান করেছে।২০২৫ সালে গ্লোবাল নলেজ ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৯৫টি দেশের মধ্যে ১২২ তম।বিগত বছরগুলোতে ও ছিল নাজুক অবস্থা।ফল সদ্য গঠিত সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যেসকল পরিকল্পনা আছে তার মধ্যে একটি হলো বাংলা ইংরেজির পাশাপাশি আরেকটি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা যেমন:জাপানিজ,চীনা ইত্যাদি।কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

 

বাংলাদেশে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে মোট লক্ষাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে।তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী আছে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়।আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সাধারণ দুইটি মাধ্যম আছে।একটি হলো বাংলা আরেকটি হলো ইংরেজি।তবে একটি বিশাল অংশ বাংলা মাধ্যমে পড়াশুনাতে অভ্যস্ত।ফলে তাদের কাছে ইংরেজি ভাষাকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণ করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে।মাউশির একটি গবেষণা জরিপ বলছে ২০২৩ সালে ইংরেজি বিষয়ে অষ্টম শ্রেণিতে  ভালো ছিল ৪৬ শতাংশ আর দশম শ্রেণিতে তা ছিল ৬১ শতাংশ।দ্বিতীয় ভাষা শিক্ষা হিসেবে ইংরেজীতে এমন দশা প্রাথমিকে আরো বেশি।কেবল ইংরেজি ভাষা নয় প্রথম ভাষা হিসেবে বাংলা ও ভালো ভাবে আয়ত্ম করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।বাংলা ভাষায় অষ্টম শ্রেণিতে ভালোভাবে আয়ত্ম করতে পারা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫১ শতাংশের মতো।যেখানে মাতৃভাষাতে সমস্যা,ইংরেজি ভাষা ভালোভাবে বলতে শিখতে পারছে না শিক্ষার্থীরা তার মাঝে তৃতীয় আরেকটি ভাষা তাদের মধ্যে চালু করলে কখনো ভালো ফল আসবে না।

আমাদেরকে কেবল অন্যদেশের কারিকুলামের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না।বরং বাংলাদেশের অবস্থা বিবেচনা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজাতে হবে।এক্ষেত্রে সময়ের সাথে কম সামাজস্যপূর্ণ বিষয়সমূহকে বাতিল করে সময় উপযোগী বিষয় প্রনণয় করতে হবে।আবার বইগুলোকে করতে হবে আধুনিকায়ণ।মাধ্যমিক শ্রেণিতে ইংরেজি ২য় পত্র বই এ কনন্টেন্ট মান খারাপ হওয়ায় সে বইটি দেশের বেশিরভাগ স্কুলে পড়ানো হয় না।বিকল্প হিসেবে তারা নানা গাইড বই এর উপর নির্ভরশীল হয়।এদিকে এই বইটি ছাপাতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।যা শিক্ষা বাজেটকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে তোলছে।মূলত ভাষা শিক্ষার বইগুলো আমাদের শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।ফলে অনগ্রসর অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা আরো পিছিয়ে পড়ছে।আমাদের শিক্ষকরা ভিন্ন বিষয়ে পাঠদানের প্রবণতা আছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।নিজ বিষয়ে পাঠদান না করে অন্য বিষয়ের শিক্ষক হয়ে যাচ্ছে।

 

সাধারণত প্রাক প্রাথমিকে থাকাকালীন শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ঘটে বেশি।ফলে এমনেতেই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা তিনটি ভাষার দিকে জোড় দিয়ে থাকেন।সেগুলো হলো বাংলা,ইংরেজি আর ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে আরবি ভাষা।অনেকে এই তিনটি ভাষাতে সঠিক সময়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।কেননা মানসিক বিকাশের কারণে তাদের মধ্যে আমরা জোড় করে সবকিছু চাপিয়ে দিচ্ছি আর তারা কেবল রেজাল্ট বা পাস করার জন্য পড়াশুনা করে । যেটা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি এুটি।এর মধ্যে আরেকটি নতুন ভাষা প্রবেশ করালে তারা স্কুল মুখী হওয়ার বদলে আরো স্কুল বিমুখী হয়ে পড়বে।

প্রাথমিকে শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন দেখা শুরু করে।যেহেতু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করার একটা প্রয়াস আছে তাই প্রাথমিকে তৃতীয় ভাষা তথা বিদেশী আর কোনো ভাষা না রেখে বরং তাদের স্বপ্নগুলোর স্থায়ীকরণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।কেননা এডমিশন সময়ে এসে ও শিক্ষার্থীরা নিজে কোন বিষয়ে পড়বে তা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।সেজন্য প্রাথমিকে বাংলা ইংরেজির পাশাপাশি কারিগরী বিষয়ের জন্য সপ্তাহে ”আমার স্বপ্ন” নামে একটি বিষয় রাখা যেতে পারে।মূলত এই ভাবনাটিকে আগের কারিকুলামে কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা নামে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিকে দেওয়া হয়েছিল।তার পরে ও কোনো সমাধান হয়েনি নিজের লক্ষ্য বিষয়ে।”আমার স্বপ্ন” এই আইডিয়া বাস্তবায়ন করলে হবে না ।পাশাপাশি যদি কোনো পরীক্ষা নেওয়া হয় তাতে যাতে কেবল পাস আর ফেইল থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।রোল পদ্ধতি কিংবা মার্কস পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

 

মাধ্যমিকে এসে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি শ্রেণিতে কারিগরি শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে হবে।সে জন্য প্রতিটি শ্রেণিতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার বিষয়গুলো বয়স ভিত্তিক অনুসারে চালু করতে হবে।পাশাপাশি স্কুল থেকেই কারিগরি শিক্ষার কোর্সগুলোতে মোবাইল সাভিসিং,কম্পিউটার শিক্ষা সহ ছোট ছোট আরো কোর্সগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়ার্কসপ আয়োজন করতে হবে।ফলে নিজ এলাকার মোবাই সাভির্সিং দোকান ‍গুলো সহ নিজের প্রতিষ্ঠানে কম্পিটারের কাজ করার মাধ্যমে অবসর সময়ে কিছু টাকা ইনকাম করার একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে।যা বেকারত্ব কমাতে একটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবে কাজ করবে।

 

শিক্ষার্থীরা সাধারণত বিদেশ গমণের স্বপ্ন দেখে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার পরর্বতী সময়ে তাই এসএসসির পরে যে সময় থাকবে কলেজ ভতি হওয়ার আগে পর্যন্ত সে সময়ে আরেকটি বিদেশী ভাষা শিক্ষার দিকে ফোকাস দিতে হবে।এসএসসি ফলাফলের আগে পর‌্যন্ত শিক্ষার্থীরা নিজের স্কুলের শিক্ষার্থী থাকে ফলে তা বাস্তবায়ণ করা তেমন কঠিন হবে না।ফলে যারা বিদেশে যেতে যেতে চায় তারা তখন যদি মনে হয় মাধ্যমিকের কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দেশে কিছু করতে পারবে তাহলে তারা দেশে থাকবে।আর যারা উচ্চ শিক্ষা নিতে চায় তারা ও তখন ভাষা শিক্ষা করে রাখবে।এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ও ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট বাধ্যতামূলক করতে হবে।যেহেতু এসএসসি থেকে ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান নিয়ে আসবে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আরো ভালো ভাবে বিদেশী ভাষা আয়ত্ব করতে পারবে।পরিশেষে বলা যায় প্রাথ-প্রাথমিক কিংবা মাধ্যমিক নয়,এই স্তরে কারিগরি শিক্ষা আর মাধ্যমিকের শেষে বিদেশী ভাষার শিক্ষাই আমাদের বেকারত্ব আর শিক্ষার মানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে

 

লেখক:মো.রিমেল,শিক্ষার্থী,বাংলা বিভাগ,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

লেখক: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!