ইসরাইলের “স্যামসন একশন” স্ট্র্যাটেজি ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা
ইসরাইলের “স্যামসন একশন” বা “স্যামসন অপশন” স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই আমাদের ফিরে যেতে হবে প্রাচীন হিব্রু বাইবেলের সেই প্রতিহিংসাপরায়ণ চরিত্র স্যামসনের উপাখ্যানে। ইতিহাসের পাতায় স্যামসন ছিলেন এমন এক উদ্ধত চরিত্র, যিনি নিজের ধ্বংস নিশ্চিত দেখে চারপাশের নিরপরাধ হাজার হাজার মানুষকেও সাথে নিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। আধুনিক ভূ-রাজনীতিতে ইসরাইলের পারমাণবিক রণকৌশল ঠিক এই বর্বর ও আত্মঘাতী দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়ে আছে। এটি কেবল একটি সামরিক কৌশল নয়, বরং এটি পুরো মানবসভ্যতাকে জিম্মি করার এক চূড়ান্ত ঔদ্ধত্য, যা গত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এক বিষাক্ত পারমাণবিক তলোয়ারের মতো ঝুলে আছে। ২০২৬ সালের এই অগ্নিগর্ভ মুহূর্তে, যখন ইরান, ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি সরাসরি এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে লিপ্ত, তখন এই স্যামসন অপশন আর কেবল তাত্ত্বিক কোনো কৌশল নয়, বরং এটি এক ভয়াবহ বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক অস্থিতিশীলতাকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের এই দানবীয় সক্ষমতার বিষয়টি তারা সবসময়ই ধূর্ততার সাথে ধোঁয়াশায় রেখেছে। একে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘নিউক্লিয়ার অ্যামবিগুইটি’ বা পারমাণবিক শঠতা বলা হয়। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে যখন ইসরাইল তাদের কুখ্যাত ডিমোনা পারমাণবিক চুল্লিতে কাজ শুরু করে, তখন থেকেই এই স্যামসন অপশনের ধ্বংসাত্মক বীজ বপন করা হয়েছিল। এই অশুভ কৌশলের মূল ভিত্তি হলোঃ যদি কোনো দিন আরব রাষ্ট্রগুলো বা নিপীড়িত কোনো শক্তি ইসরাইলের অবৈধ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তাদের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ জানায়, তবে ইসরাইল তার হাতে থাকা সর্বশেষ অস্ত্র ব্যবহার করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে মানচিত্র থেকে মুছে দেবে। এটি মূলত একটি ‘ব্লাড লাস্ট’ বা রক্তপিপাসু মানসিকতা, যেখানে তারা বিশ্বাস করে যে ইসরাইল যদি না বাঁচে, তবে পুরো বিশ্বকেও তারা বাঁচতে দেবে না। এই ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইল নীতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে এক নিরন্তর আতঙ্ক এবং চরম অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি করে রেখেছে।
১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধের ইতিহাস ঘাঁটলে এই স্ট্র্যাটেজির নারকীয় রূপ স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়। যুদ্ধের শুরুর দিকে যখন নিজেদের সীমাহীন দম্ভ ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছিল এবং সিরিয়া ও মিশরের যৌথ বাহিনী ইসরাইলি আগ্রাসন রুখে দিচ্ছিল, তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে দায়ান চরম উন্মাদনায় মেতে ওঠেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথিপত্র এবং বিশ্বস্ত গোয়েন্দা রিপোর্ট সাক্ষ্য দেয় যে, সেই সংকটময় মুহূর্তে ইসরাইল তাদের পারমাণবিক অস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুর দিকে তাক করার নির্দেশ দিয়েছিল। এটি ছিল আধুনিক ইতিহাসে এক পৈশাচিক শক্তির প্রথম বাস্তব আস্ফালন। যদিও শেষ পর্যন্ত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যক্ষ মদত ও হস্তক্ষেপে সেই চরম পদক্ষেপ নিতে হয়নি, কিন্তু সেই মুহূর্তটি বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে ইসরাইল তাদের ক্ষমতার দাপট টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনে পুরো অঞ্চলকে শ্মশানে পরিণত করতেও দ্বিতীয়বার ভাববে না।
পরবর্তী বছরগুলোতে ইসরাইলের এই আগ্রাসী কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতাকে এক বিপজ্জনক মোড়ে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে যখনই কোনো আঞ্চলিক শক্তি নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করার চেষ্টা করেছে, ইসরাইল তার ‘বেগিন ডকট্রিন’ নামক সন্ত্রাসী নীতি প্রয়োগ করে তা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ১৯৮১ সালে ইরাকের ওাসিরাক পারমাণবিক চুল্লি ধ্বংস করা কিংবা ২০০৭ সালে সিরিয়ার আল-কিবর কেন্দ্রে অতর্কিত বিমান হামলা চালানো—সবই ছিল ইসরাইলের সেই একচ্ছত্র আধিপত্য এবং পারমাণবিক একাধিপত্য ধরে রাখার নির্লজ্জ প্রচেষ্টা। ইসরাইল মনে করে, অন্য কোনো মুসলিম রাষ্ট্র যদি আত্মরক্ষার শক্তি অর্জন করে, তবে তাদের এই ব্ল্যাকমেইল করার ক্ষমতা খর্ব হয়ে যাবে। এই একপক্ষীয় আধিপত্য বিস্তারের লিপ্সা ইরান ও তুরস্কের মতো দেশগুলোকে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ঠেলে দিয়েছে, যার ফলে পুরো অঞ্চলটি এখন একটি অন্তহীন এবং বিধ্বংসী অস্ত্র প্রতিযোগিতার নরকে পরিণত হয়েছে।
২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যখন ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ একটি সরাসরি মহাযুদ্ধে রূপ নিয়েছে, তখন স্যামসন অপশনের গুরুত্ব কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। গত কয়েকমাস ধরে তেহরানের ওপর ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলা এবং পাল্টা জবাবে ইরানের অত্যাধুনিক হাইপারসনিক মিসাইল তেল আবিবের সুরক্ষা কবচ ‘আয়রণ ডোম’ ও ‘অ্যারো’ সিস্টেমকে তছনছ করে দিয়েছে। এই প্রথম ইসরাইল বুঝতে পারছে যে তাদের প্রচলিত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব আর অজেয় নয়। যখনই ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানছে, তখনই ইসরাইলের কট্টরপন্থী সরকার পুনরায় সেই স্যামসন অপশনের হুমকি সামনে নিয়ে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটনের মদতে ইসরাইল এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তারা মনে করছে, যদি ইরানকে তারা পুরোপুরি পরাস্ত করতে না পারে, তবে তারা তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডার খুলে দেবে। এটি কেবল ইরানের জন্য নয়, বরং এই যুদ্ধে লিপ্ত মার্কিন সেনাদের জন্যও এক চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান সময়ে গাজায় চলমান গণহত্যা, লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে সীমান্ত যুদ্ধ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে ইসরাইল আজ কোণঠাসা। ২০২৬-এর এই বসন্তে যখন আমরা দেখছি যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ কামী শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে জায়নবাদী রাষ্ট্রকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরেছে, তখন স্যামসন অপশনই তাদের শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০২ সালে ইসরাইলি ইতিহাসবিদ মার্টিন ভ্যান ক্রেভেল্ডের সেই দম্ভোক্তি আজ ২০২৬ সালে এসে এক নিষ্ঠুর সত্যে পরিণত হওয়ার পথে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ইসরাইল যদি পতনোন্মুখ হয়, তবে তারা পুরো পৃথিবীকেও ধ্বংসের অতলে নিয়ে যাবে। একজন বুদ্ধিজীবীর মুখ থেকে এই ধরনের পৈশাচিক বক্তব্য মূলত ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদেরই বহিঃপ্রকাশ। আজ যখন ইসরাইলের রাজপথে সাধারণ মানুষ যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে এবং অন্যদিকে সরকার পারমাণবিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বিশ্ব বিবেক এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তাদের দোসররা জানে যে, ইসরাইলকে যদি তাদের সব অন্যায়ের লাইসেন্স দেওয়া না হয়, তবে তারা এমন এক পারমাণবিক প্রলয় ঘটাবে যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের চূড়ান্ত সূচনা করবে। ফলে বিশ্ব আজ ইসরাইলের এই ‘পারমাণবিক উন্মাদনা’র কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে।
এই অস্থিতিশীলতার আরেকটি গভীর ও অন্ধকার দিক হলো ইসরাইলের কৃত্রিম ও ভঙ্গুর ভৌগোলিক অবস্থান। ২০২৬ সালের এই যুদ্ধে এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে ইসরাইলের কোনো ‘স্ট্র্যাটেজিক ডেপথ’ নেই। এই দুর্বলতাকে ঢাকতেই তারা স্যামসন অপশনকে একটি মনস্তাত্ত্বিক বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আজকের এই সময়ে যখন ইরানের ফাত্তাহ-২ বা খোররামশাহর মিসাইলগুলো তেল আবিবের আকাশে গর্জনের সৃষ্টি করছে, তখন ইসরাইলি জেনারেলরা বারবার তাদের পারমাণবিক ডকট্রিনের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। এটি মূলত এক ভয়াবহ উসকানি। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশ এখন ইসরাইলের এই একতরফা ত্রাস মোকাবিলায় নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আক্রমণের ধারা পরিবর্তন করছে। এই নজিরবিহীন সামরিকায়নের মূল দায়ভার ইসরাইলের সেই আদিম ও হিংস্র শ্রেষ্ঠত্বের কামনার ওপরই বর্তায়।
স্যামসন একশন স্ট্র্যাটেজি নিয়ে সেমুর হার্শ-এর বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ ‘দ্য স্যামসন অপশন’ (The Samson Option) এক অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। হার্শ তার গ্রন্থে নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কীভাবে ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবং পশ্চিমের অন্ধ সমর্থনে গোপনে তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে। এছাড়া অ্যাভনার কোহেনের ‘ইসরাইল অ্যান্ড দ্য বোম্ব’ গ্রন্থটি পড়লে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ইসরাইলের এই পারমাণবিক সক্ষমতা কোনো আত্মরক্ষার ঢাল নয়, বরং এটি ছিল এই অঞ্চলে একটি জায়নবাদী আধিপত্যবাদ কায়েমের নীল নকশা। এই বইগুলো সাক্ষী দেয় যে, ইসরাইল শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নিজেদের ইচ্ছা এবং অন্যায় সিদ্ধান্তগুলো চাপিয়ে দিতে এই মারণাস্ত্রকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ২০২৬ সালে এসে আমরা দেখছি হার্শের সেই সতর্কবার্তা কতটা সত্য ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন কেবল ইসরাইলকে রক্ষাই করছে না, বরং তারা ইসরাইলের এই পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলের অংশীদার হয়ে পুরো বিশ্বের শান্তিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
আজ ২০২৬-এর এই চূড়ান্ত সংঘাতের বিষচক্রে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন। একদিকে ইসরাইলের এই পারমাণবিক ধ্বংসলীলার হুমকি, অন্যদিকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ, সব মিলিয়ে এই অঞ্চল এখন একটি ফুটন্ত কড়াই। ইসরাইলের হাতে থাকা আনুমানিক ২০০টি পারমাণবিক বোমা কেবল সংখ্যা নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সভ্যতার বিনাশের এক শাশ্বত ষড়যন্ত্রের নাম। ইরানের সাথে চলমান এই সরাসরি যুদ্ধে যদি কোনোদিন কোনো ভুল হিসাব বা হঠকারিতায় এই স্যামসন অপশন কার্যকর করা হয়, তবে তার প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তেজস্ক্রিয় মেঘ পুরো এশিয়া ও ইউরোপের আকাশকে অন্ধকার করে দেবে এবং মানবজাতি এক দীর্ঘ পারমাণবিক শীতের কবলে পড়বে।
পরিশেষে বলা যায়, ইসরাইলের স্যামসন একশন স্ট্র্যাটেজি হলো আধুনিক যুগের সবচেয়ে বড় একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ ও সামরিক শঠতা। ২০২৬ সালের এই যুদ্ধ প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এই কৌশলটি মধ্যপ্রাচ্যকে এমন এক নরককুণ্ডে পরিণত করেছে যেখানে শান্তির প্রতিটি অঙ্কুর অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই কৌশলটি ইসরাইলকে তথাকথিত নিরাপত্তা দিলেও এটি এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জন্য বয়ে এনেছে দীর্ঘমেয়াদী দুর্দশা ও মৃত্যুভয়। যতদিন না ইসরাইলের এই পারমাণবিক একাধিপত্য এবং তাদের জায়নবাদী আগ্রাসনের অবসান ঘটবে, ততদিন স্যামসন অপশনের এই অশুভ ছায়া মধ্যপ্রাচ্যকে কুরে কুরে খাবে। ইতিহাস একদিন অবশ্যই ইসরাইলের এই হঠকারিতার বিচার করবে, যারা ২০২৬ সালে এসে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পুরো বিশ্বসভ্যতাকে ধ্বংসের বাজি ধরেছে। কিন্তু আপাতত, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি রক্তবিন্দু আর ধ্বংসস্তূপ চিৎকার করে বলছে যে, ইসরাইলের এই স্যামসন অপশনই হলো এই অঞ্চলের সব অশান্তি আর অস্থিতিশীলতার মূল উৎস এবং মানবজাতির জন্য এক অশনি সংকেত।

