টাকার যত্ন নিচ্ছি তো?

বার্থহোল্ড আউরবাখের একটা উক্তি আছে—‘অর্থ অর্জনের জন্য বীরত্বের প্রয়োজন, অর্থ রাখতে হলে বিচক্ষণতার প্রয়োজন।’ বাংলাদেশে বিভিন্ন মূল্যমানের টাকার প্রচলন রয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছাপানোর পর জনসাধারণের সুবিধার্থে প্রচলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। আকর্ষণীয় মনেমুগ্ধকর নোটগুলো দেখলেই মন আনন্দে ভরে ওঠে। কথায় আছে— ‘টাকা দেখলে কাঠের পুতুলও হা (মুখ খোলা) করে।’ কাঁচা টাকার প্রতি সবারই একটা আকর্ষণ থাকে।
কোনো দেশের টাকা (মুদ্রা) সেই দেশেরই সম্পত্তি। মানুষ সেটার তাৎক্ষণিক ব্যবহারকারী তবে মালিক নয়। দেশের পরিচয় বহনেও টাকার গুরুত্ব প্রগাঢ়। এবার আসি মূল কথায়, আমরা প্রায়ই দেখি টাকার ওপরে কলম অথবা পেন্সিল দিয়ে লেখা থাকে।
টাকায় আজেবাজে মন্তব্য লিখে তারা কুরুচিপূর্ণ মনের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। টাকার ওপর লেখা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অনেকে বাজে মন্তব্য লিখে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সার্কুলার জারি করা হয় টাকার ওপর না লেখার জন্য। কিন্তু সত্যি কথা হলো, কেউ এ ব্যাপারে সচেতন নয়। কোনোটাতে লেখা থাকে প্রেমপত্র, আবার কোনোটায় মোবাইল নম্বর, কিংবা অপ্রকাশ্য কোনো ভাষা। এগুলো সাধারণ মানুষের কাজ। এতে টাকার মান নষ্ট হয়।
পৃথিবীর অনেক দেশেই টাকার ওপর লেখা নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে গতানুগতিক নিষিদ্ধ হলেও এর প্রয়োগ লক্ষ করা যায় না। নতুন ও পুনঃপ্রচলনযোগ্য ব্যাংক নোটের ওপর যে কোনো ধরনের লেখা, সিল মারা এবং নোটের প্যাকেটে স্ট্যাপলিং পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, টাকার ওপর না লিখে ব্যাংকের মুদ্রিত ফ্লাইলিফে ব্যাংকের শাখার নাম, সিল ও নোট গণনাকারী ও প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর ও তারিখ অবশ্যই দিতে হবে।
তবে এ কথা সত্য, টাকার ওপর বেশি লেখালেখি করা হয় ব্যাংকে। ব্যাংক কর্মকর্তারা টাকার ওপর লেখেন কারণ হলো গ্রাহকদের সততা। শুধু লিখেই ক্ষান্ত থাকেন না, টাকায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির ওপর পিন মারা হয়। যেটা অনুচিত কাজ।
আবার দেখা যায়—অনেকে টাকাকে এমনভাবে ভাঁজ করে যেন টাকাটা আজীবন তার কাছেই লুকিয়ে রাখবে। বাচ্চাদের হাতে টাকা দিলে দেখা যায়, ওরা টাকা মুখের মধ্যে নেয়, আবার ছিঁড়েও ফেলে। টাকা হাত থেকে বেহাত হয় যার ফলে নানান রকম জীবাণু থাকে যা শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে। আক্রান্ত হয় বিভিন্ন রোগে। এজন্য বাচ্চাদের হাতে টাকা না দেওয়ায় ভালো, প্রয়োজনে যা খেতে চায় সেটা কিনে দিন।
একটা গল্প বলি, এই তো দুই দিন আগের ঘটনা। ক্যাম্পাস গেটে নামতেই ফুটবল মাঠের পাশেই দেখি ৫০০ টাকার একটা নোটের তিনটা অংশ পড়ে আছে। বাকি অংশ খুঁজেও পেলাম না। এখন কথা হচ্ছে, এই টাকাটা যে যারা ছিঁড়েছে তারা হয়তো বুঝবেও না এই ৫০০ টাকার মূল্য কতটা। হতে পারে তাদের বাবা অনেক বিত্তশালী। কিন্তু একজন দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষের কাছে এর মুল্য হীরার সমান। তাদের দুই দিনের হাড়ভাঙা পরিশ্রম করার পর হয়তো ৫০০ টাকা উপার্জন করতে পারে।
টাকা যে অমূল্য সম্পদ তা উপরি উক্ত বিষয়গুলো ভাবলে মোটেও মনে হয় না। টাকা যেন প্রেমপত্র লেখার কাগজ আর ভাজ করে গুটি খেলার বস্তু। পৃথিবীর সবাই টাকার পেছনে ছোটে কিন্তু টাকার মান রক্ষা করতে পারে কয়জন? আমরা নিজেরাই টাকার মান নষ্ট করছি। কেউ কেউ ভাবছি টাকা নিছকই খড়কুটো দিয়ে তৈরি কাগজ।
মোদ্দা কথা, টাকা নিয়ে এত অবহেলা কেন! টাকাকে নিজের শখের বসে কেনা বস্তু ভাবলে টাকার প্রতি যত্ন বেড়ে যেত। যারা টাকার ওপর আজেবাজে শব্দ লেখে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিলে টাকার ওপর লেখা বন্ধ হয়ে যেত।
লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

