কম খরচে ঘুরে আসুন চাঁদপুর থেকে

প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যে ঘেরা ‘ইলিশের বাড়ি’ চাঁদপুর। এই স্থানটি ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক আদর্শ গন্তব্য। নদীর তীরে বসে আড্ডা, মেঘনা ডাকাতিয়া আর মোহনার গর্জন সাথে শীতল বাতাসে সময় কাটানোর আনন্দ এখানে অনন্য।
সেই সাথে টাটকা ইলিশ সাথে স্থানীয় খাবারের বৈচিত্র্য ভোজন রসিকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে একসাথে বাহারী খাবারের স্বাদ উপভোগ্য। তাই কম বাজেটে চাঁদপুর হতে পারে আনন্দ নেয়া ও সময় কাটানোর জন্য সেরা গন্তব্য।
কী কী দেখবেন
ইলিশের বাড়ি হিসেবে খ্যাত চাঁদপুর জেলা তিন নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত এক অনন্য পর্যটন এলাকা। চাঁদপুর ভ্রমণে গেলে বড় স্টেশন নামে পরিচিত তিন নদীর মোহনা না দেখে ফেরা ভ্রমণ যাত্রা যেন অসম্পূর্ণ। পাশাপাশি ইলিশ চত্বর, ডিসির বাংলো ও রক্তধারা ও অঙ্গীকার স্মৃতিসৌধ পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
চাঁদপুরের সেরা ঐতিহাসিক স্থাপনা রূপসা জমিদার বাড়ি (ফরিদগঞ্জ), বড়কূল জমিদার বাড়ি ও সাহাপুর রাজবাড়ি (শাহরাস্তি), ৫০৬ বছরের পুরনো হরিপুর জমিদার বাড়ি- (হরিপুর বাজার- সদর উপজেলা)– এই পুরনো ঐতিহাসিক সৃতিময় ভবনগুলো যে কারও চোখকে শীতল করবে। চাঁদপুর মানেই ইলিশের স্বর্গরাজ্য। তাই এখানে এসে ইলিশের স্বাদ না নিলে আনন্দটাই যেন অধরা থেকে যায়। ভ্রমণের শুরুতেই ইলিশের নানা স্পেশাল ডিশ, ইলিশ ভাজা আর বাহারি ভর্তার গন্ধ মনকে টেনে নেয় খাবারের প্লেটে!
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে চাঁদপুরের দূরত্ব কম হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক ভালো। চাইলে স্বল্প সময়ে ও কম খরচে আসা যায়। সদরঘাট থেকে চাঁদপুরগামী লঞ্চে চাঁদপুর নেমে পড়বেন। রাতে রওনা দিয়ে এক দিনে ঘুরে বিকেলে চলে যেতে পারবেন। এ ছাড়া বাসে আসতে পারবেন অথবা ট্রেনে কমলাপুর থেকে লাকসাম নেমে, সেখানে থেকে চাঁদপুর আসা সহজ। কিন্তু সে ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগবে। তাই লঞ্চেই চাঁদপুর ভ্রমণ বেশ আরামদায়ক।
কোথায় থাকবেন
চাঁদপুরে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় সকালে বের হয়ে সন্ধ্যার মধ্যেই ফিরে আসা সম্ভব। তবে যারা রাত কাটাতে চান, তাদের জন্য স্বল্পমূল্যে বিভিন্ন হোটেলের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও গেস্ট হাউজ রয়েছে যথাযথ বিধি মেনে চাইলে আরামে অবস্থান করতে পারেন।
ভ্রমণ যাত্রার প্রস্তুতি
ভ্রমণকে সুন্দর ও ঝামেলামুক্ত করতে যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া জরুরি। ভ্রমণের স্থান, যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা আগেই ঠিক করে নিতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে প্রয়োজনীয় কাপড়, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। সামান্য নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখাও প্রয়োজন। পরিকল্পিত প্রস্তুতি থাকলে ভ্রমণ হয় নিরাপদ ও আনন্দময়।
সতর্কতা-
ভ্রমণের সময় যথাযথ প্রস্তুতি নে য়া আবশ্যক। স্থানীয়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও সব পরিস্থিতিতে সহযোগিতামূলক মনোভাব বজায় ভ্রমণকে সুন্দর করে। পর্যটন এলাকা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা অবশ্যক। মনে রাখতে ভ্রমণ কালে জমিদার বাড়িতে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রবেশ করলে অতিথি হিসেবে বেশ আপ্যায়ন পাওয়া যায়।
লেখক: সদস্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সময় টেলিভিশন পত্রিকায় প্রকাশিত।

