সৎ লোকের পিছুটানে সমাজটা লুটেপুটে খাচ্ছে অসৎ লোকগুলো।
সমাজটা পরিচালিত হচ্ছে মূলত অসৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে। নেতায় ভরপুর এই সমাজে সৎ নেতা পাওয়া খুবই দুষ্কর। যারা নেতা হয় সুযোগ পেলেই স্বার্থ লাভের আশায় তারা নিজেদের সততাকে বিসর্জন দেয় মুহুর্তেই।
এধরণের লোকের সাধারণত টার্গেট থাকে জনগণকে ঠকিয়ে নিজের গদি প্রসারিত করার। তবে জনগণের আস্থা অর্জনই তাদের নেতা হওয়ার পথ সুগম করে। তাই জনগণের আস্থা লাভের উদ্দেশ্যে এরা কিছু কিছু ভালো কাজ করে।
যেমন ধরুন জনগণের বিপদে জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। হয়তো দাঁড়ানোর মাধ্যমে বিপদগ্রস্তের কাছ থেকেই অনেক সময় কৌশলে অর্থ কামিয়ে নেয় কিন্তু ভুক্তভোগী টেরই পায় না। পরে ঐ ঠকবাজ নেতার সুনাম করে বলে যে বিপদের সময় নেতাকে পাশে পেয়েছে।
গ্রাম্য সালিশ গুলোতে লক্ষ্য করবেন, কিছু অসৎ নেতা দু’পক্ষের কাছ থেকেই অর্থ লুটে তাদের মিমাংসা করিয়ে দেয়। এতে বাদি-বিবাদিরাও খুশি, অর্থ লুটে নেতাও খুশি। মূলত এসকল অসৎ নেতৃত্বের মাধ্যমেই ঘুনেধরা এই সমাজটা পরিচালিত হচ্ছে।
তবে সমাজে কিছু সৎ নেতাও আছে। এদের মধ্যে কেউ হয়তো মসজিদের কামিটিতে জায়গা পেয়েছে। বিভিন্ন ইসলামী প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আছে। আবার কেউ ইসলামের রাজনীতিতে দায়িত্বপালন করছে। এদের মধ্যে সততা আছে। সমাজে এদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পর্যন্তও পারে না।
কিন্তু এধরণের নেতৃবৃন্দ সততা নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর হিম্মত রাখে না। জনগণের বিপদে সততার সাথে সহযোগিতা করার প্রচেষ্টা করে না। গ্রাম্য সালিশে একপক্ষের কাছে খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়াতে ভয় পায়।
বলা যায়, সমাজে সৎ নেতার অভাব নাই কিন্তু সততার সাথে সমাজ পরিচালনা করার জন্য হিম্মত ওয়ালা নেতা নাই। এসকল সৎ লোকের পিছুটান মানসিকতার সুযোগে অসৎ নেতৃবৃন্দ সমাজ পরিচালনা সুযোগে সমাজ টাকে লুটেপুটে খাচ্ছে।

