রবিবার, ৩ মে ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

মা: The Unpaid Hero Behind Every Success

Author

স্নেহা ফেরদৌস মীম , গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১ মে ২০২৬ পাঠ: ১০ বার

আমরা যখন “শ্রম” শব্দটি শুনি, খুব স্বাভাবিকভাবেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কোনো কর্মজীবী মানুষ, যার কাজের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক রয়েছে। কিন্তু আমাদের ঘরের ভেতরেই এমন একজন শ্রমিক আছেন, যিনি দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যান কোনো বেতন, ছুটি বা স্বীকৃতির প্রত্যাশা ছাড়াই। আর সেই মহান মানুষটি হলেন আমাদের মা।

একজন মা দিনের শুরুটা করেন সবার আগে। পরিবারের সকালের নাস্তা তৈরি থেকে শুরু করে সন্তানের যত্ন, ঘর গুছানো, কাপড় ধোয়া, অসুস্থ সদস্যের সেবা সবকিছুই যেন তার নিত্যদিনের দায়িত্ব। তার কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই; ২৪ ঘণ্টাই তিনি প্রস্তুত, নিঃশব্দে নিজের দায়িত্ব পালন করে যেতে।

অথচ এই বিশাল পরিশ্রমকে আমরা কত সহজেই “স্বাভাবিক” বলে ধরে নিই! আমরা কখনো ভাবি না যদি এই কাজগুলোর প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা কর্মী নিয়োগ করা হতো, তবে তার আর্থিক মূল্য কত দাঁড়াত? কিন্তু মায়ের শ্রমের প্রকৃত মূল্য কোনো অর্থেই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, কারণ এতে জড়িয়ে থাকে ভালোবাসা, মমতা আর নিঃস্বার্থতার এক অপূর্ব মিশেল।

সমাজে আমরা কর্মজীবী নারীদের স্বীকৃতি দিই, তাদের সাফল্য উদযাপন করি যা অবশ্যই তাদের প্রাপ্য। কিন্তু গৃহিণী মায়েদের শ্রম?তাদের শ্রম কেন প্রায়ই অবহেলিত থেকে যায়? অথচ তারাই একটি পরিবারের ভিত্তি গড়ে তোলেন, একটি প্রজন্মকে তৈরি করেন। নিজেদের স্বপ্ন, ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন বিসর্জন দিয়ে তারা পরিবারের জন্যই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেন।

এই  যে “মে দিবস”-এ যখন আমরা শ্রমিকদের অধিকার, সম্মান ও প্রাপ্যতা নিয়ে কথা বলি, তখন কি আমাদের এই অদৃশ্য শ্রমিকদের কথা মনে পড়ে? তাদের জন্য কি কোনো ছুটি আছে? কোনো পারিশ্রমিক? কিংবা অন্তত একটি আন্তরিক “ধন্যবাদ”?

আমার নিজের মাকে আমি প্রতিদিন দেখি অসুস্থ শরীর নিয়েও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করে যেতে। তার এই অসীম দায়িত্ববোধ আর ত্যাগ আমাকে প্রতিনিয়ত আবেগাপ্লুত করে তোলে। কখনো কখনো আমি নিজেই অবাক হয়ে ভাবি তিনি কি সত্যিই একজন সাধারণ মানুষ, নাকি এক অসাধারণ শক্তির অধিকারী, যিনি এক হাতে এত কিছু সামলে নিতে পারেন!

মায়ের এই শ্রমের প্রকৃত মূল্য হয়তো কখনো পরিমাপ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা অন্তত তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, তার কাজকে সম্মান দিতে পারি এবং তার বিশ্রামের প্রয়োজনটুকু বুঝতে শিখতে পারি। কারণ একজন মা শুধুমাত্র একজন “গৃহিণী” নন তিনি একজন নিরলস শ্রমিক, যিনি ভালোবাসা দিয়ে আমাদের জন্য একটি পুরো পৃথিবী গড়ে তোলেন।

লেখক: N/A, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!