বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

নিঃসঙ্গতায় হারাচ্ছে শহরের শিশুদের রঙিন শৈশব

Author

মিনহাজ হোসেন , বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ২৬ বার

 

শহরের বারান্দা কিংবা জানালার গ্রিল ধরে একা দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের প্রায়ই দেখা যায়। তারা চেয়ে থাকে বাইরের পৃথিবীর দিকে—যেখানে নেই কোনো খেলার সঙ্গী, নেই নির্মল আনন্দের ক্ষেত্র। ব্যস্ত বাবা-মা, চার দেয়ালের মাঝে বন্দি পরিবেশ এবং অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপে তারা হারিয়ে ফেলছে শৈশবের রঙ। শিশুদের চোখে যেন মিশে আছে একাকিত্ব, ক্লান্তি ও বন্ধুত্বের অভাব—যা মনকেও ভারাক্রান্ত করে তোলে।

একটি সময় ছিল, যখন বিকেলের রঙিন আকাশের নিচে শিশুদের হাসি-আনন্দে মুখরিত হতো পাড়ার অলিগলি। মাঠে দৌড়ানো, লুকোচুরি খেলা, কাঁচের মার্বেল কিংবা কাগজের ঘুড়ির টানে শৈশব ছিল প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত। অথচ আজকের শহরজীবনে সে চিত্র অনেকটাই অতীত। প্রযুক্তি আর যান্ত্রিকতার নগরে নিঃসঙ্গতায় হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের রঙিন শৈশব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশব যদি আনন্দহীন ও একঘেয়ে কাটে, তবে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। দেখা দেয় হতাশা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, এমনকি বিষণ্নতার মতো সমস্যা। ডিজিটাল গ্যাজেটের অতিরিক্ত ব্যবহারে সামাজিক ও শারীরিক বিকাশেও সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা।

আমাদের শৈশবে ছিল মাঠের পর মাঠ, খেলাধুলা আর বন্ধুত্বের সম্পর্ক, ছিল নানা ধরনের সামাজিক যোগাযোগ। অথচ আজকের শিশুরা বড় হচ্ছে দেয়ালের চারপাশে ঘেরা এক সীমাবদ্ধ জগতে। ফলে তাদের শৈশব হয়ে উঠছে হতাশাজনক, যা সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

শিশুদের জন্য একটি সুস্থ, আনন্দময় ও মুক্ত পরিবেশ তৈরিতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি শৈশববান্ধব সমাজ গড়ে তুলি—যেখানে শিশুরা হাসবে, ভাববে, স্বপ্ন দেখবে।

 

লেখক: সদস্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!