ব্যাকটেরিয়ার কথোপকথন !!

শিরোনামটা পড়ে অনেকেরই হয়ত মাথায় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে “ব্যাকটেরিয়া কি কথা বলতে পারে?”
“পারলে কার সাথে কথা বলে,মানুষ,পশু,গাছ নাকি নিজেদের সাথে?”
“কোন ভাষায় তারা কথা বলে?”
“কীভাবে তারা কথা বলে?”
“কেনই বা তাদের কথা বলার প্রয়োজন হলো?”
“তাদের এই কথোপকথন কি আমাদের জন্য উপকারী?”
বরং তারা কথা বলে কীভাবে জীবদেহে কলোনি গঠন করা যায় অথবা কীভাবে জীবদেহে রোগ তৈরি করা যায়,অর্থাৎ তাদের মূল লক্ষ্য কীভাবে পরিবেশ বা host দেহে টিকে থাকা যায়!
ধরুন আপনি আপনার কয়েকজন বন্ধু মিলে বান্দরবান বেড়াতে গেলেন।অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আপনি হারিয়ে গেলেন,বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন।কিন্তু আপনি ভয় পেলেন না,বরং বন্ধুদের ফোন দিয়ে বা গুগল ম্যাপে তাদের লোকেশন জেনে নিলেন এবং এলাকাবাসীর দেওয়া নির্দেশনা শুনে ঠিকি বন্ধুদের কাছে পৌঁছে গেলেন।
কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার তো মোবাইল ফোন নেই।আবার তাদের তো আমাদের মত অক্ষরজ্ঞানও নেই। তাহলে?!
মূলত কোনো এক পরিবেশে একটি ব্যাকটেরিয়াম এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ (extracellular signaling molecules) উৎপন্ন এবং নির্গত করে।এই extracellular signaling molecules কে বিজ্ঞানীরা autoinducers বলে।এরপর উক্ত পরিবেশে আশেপাশে থাকা অপর ব্যাকটেরিয়াম নির্গত autoinducers সনাক্ত করতে পারে এবং সেও একই autoinducers নির্গত করে,যা আরেক ব্যাকটেরিয়াম সনাক্ত করে এবং আবার autoinducers নির্গত। এভাবে একই ফ্যামিলির অধিক সংখ্যক ব্যাকটেরিয়া নিজেদের মধ্যে autoinducers আদান-প্রদান করার মাধ্যমে একটা দল গঠন করে এবং দলবেঁধে তাদের কাঙ্ক্ষিত কাজ শুরু করে।
ব্যাকটেরিয়ার এই কথোপকথন বা যোগাযোগের কৌশলকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে
Quorum sensing এবং এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া।
বিষয়টা আরেকটু সহজভাবে বলি-
আমরা জানি প্রতিকূল পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া বায়োফিল্ম তৈরি করে।
তাহলে এক্ষেত্রে কীভাবে quorum sensing কাজ করছে?
ব্যাকটেরিয়াম প্রতিকূল পরিবেশে autoinducers উৎপন্ন করে এবং তা ছড়িয়ে দেয় যেন আশে পাশে থাকা তার বন্ধু ব্যাকটেরিয়া যেন তার বিপদটা বুঝতে পারে এবং এগিয়ে আসে। আশেপাশের বন্ধু ব্যাকটেরিয়াগুলো autoinducers গুলো রিসিভ করে এবং তারাও তখন autoinducers উৎপন্ন করে এবং নির্গত করে আরও বন্ধু ব্যাকটেরিয়াদের খোঁজ করে।
এভাবে একটা সময় পর যখন autoinducers এর ঘনত্ব অনেক বেড়ে যায় তখন ব্যাকটেরিয়া বুঝতে পারে তাদের সংখ্যা এখন অনেক এবং তখন তারা প্রতিকূল পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে অর্থাৎ বায়োফিল্ম তৈরি করে।
বাংলায় একটা প্রবাদ আছে – ” দশের লাঠি, একে বোঝা” অর্থাৎ কোনো কাজ অনেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করা সহজ,কিন্তু সেটা একার পক্ষে করা অতি কঠিন।
কোনো ব্যাকটেরিয়াম quorum sensing ব্যবহার করে জানতে পারে তার আশেপাশে কতসংখ্যক ব্যাকটেরিয়া আছে এবং পরে a high population of bacteria নিয়ে একটি cluster গঠন করে কাঙ্ক্ষিত কাজ সম্পাদনের জন্য বা প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য,যা কোনো ব্যাকটেরিয়া একা একা পারতো না।
(প্রথম অংশ)
লেখক: সাধারণ সদস্য, সমন্বিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
