সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সর্তকতা

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ফেসবুক,টিকটক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি। এইসব যোগাযোগ মাধ্যমের সকল প্রক্রিয়াই সকলস্তরের মানুষের মাঝে এমনভাবে চেপে বসেছে যেন একদিনও একে বাইরে রেখে বেঁচে থাকা সম্ভব না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশে সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে পরিচিত শব্দ ফেসবুক।কিছু কিছু মানুষের কাছে কিছুটা বিরিক্তকর হলেও যুব ও কিশোর সমাজের কাছে তা অ্যতন্ত জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবেই পরিচিত হয়ে ওঠেছে।একসময় বিদ্যালয়ের মাঠ যখন বিকেলে কানায় কানায় পরিপূর্ণ থাকতো খেলোয়ারদের নিয়ে এখন সে চিত্র আর লক্ষ্য করা যায় না। মাঠ আছে খেলোয়ার নেই। মাঝে মাঝে বিকেলে মাঠের উপর বসে থেকে দলবেঁধে চলে ফেসবুক দেখা। প্রতিটি জিনিসের যেমন ভালো-মন্দ দুটি দিক থাকে। তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও রয়েছে ভালো-মন্দ দুটি দিক। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শুধু উত্তম ব্যবহারে সীমাবদ্ধ নেই। এর নানাবিধ মন্দ ব্যবহার ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেমন: ভুয়া খবর ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়া, অপপ্রচার, সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব। এইসব উদ্বেগ চরম আকারে ধারণ করছে।বিভিন্ন রকমের অপকর্মে জড়িয়ে যাচ্ছে বর্তমান প্রজন্ম। সরে যাচ্ছে লেখাপড়ার টেবিল থেকে। এমনকি সামাজিকতা ও নষ্ট হচ্ছে।
আমরা যদি উন্নত দেশগুলোর দিকে লক্ষ্য করি, তাহলে দেখতে পাই—অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো ১৫/১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার আইনগতভাবে সীমিত বা নিষিদ্ধ করেছে। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অপরাধপ্রবণতা কমানোর লক্ষ্যে।
এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হলে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে ওঠতে ভূমিকা রাখবে। কিশোর ও যুব সমাজ পড়াশোনায়, সামাজিকতায়, পারিবারিক বন্ধনে এবং রাষ্ট্র উন্নয়নের লক্ষ্যে মনোযোগী হবে।এছাড়াও অপরাধপ্রবণতা, গুজব ও অপপ্রচার রোধ হবে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে আইন প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি।

