বিচারহীনতার সংস্কৃতি: আবরার ফাহাদ থেকে ওসমান হাদী

বর্তমানে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনাটি আবরার ফাহাদ মামলার সেই অমীমাংসিত ক্ষত ও সংশয়কেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে হাদিকে মাথায় গুলি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু এবং বর্তমানে চলমান নির্বাচনী অস্থিরতার প্রেক্ষাপট একটি ভীতিকর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। হাদির ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে- প্রথমে কি সেই সন্ত্রাসীদের আদৌ ধরা সম্ভব হবে? কারণ প্রকাশ্যে গুলি করা সত্ত্বেও মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। যদি কোনোভাবে তাদের ধরাও যায়, তবে কি তাদের শাস্তি নিশ্চিত হবে, নাকি আবরার মামলার আসামিদের মতো যুগ যুগ ধরে আপিল ও আইনি মারপ্যাঁচে সময় পার করা হবে? মানুষের মনে এই গভীর শঙ্কা দানা বেঁধেছে যে, একদিন হয়তো এই খুনিরাও কারাগার থেকে পালিয়ে যাবে অথবা কোনো কুখ্যাত রাজনৈতিক চালে তাদের সাধারণ ক্ষমা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। যদি রাজনৈতিক সমঝোতা বা কৌশলের কারণে অপরাধীরা মুক্তি পেয়ে যায়, তবে দেশে আইনের শাসন বলে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
পরিশেষে, আবরার ফাহাদ ও শরীফ ওসমান হাদির মতো হত্যাকাণ্ডগুলো কেবল একক কোনো অপরাধ নয়, বরং এগুলো ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সন্ত্রাসী আচরণের রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ। অপরাধীরা যদি দিনের পর দিন রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকে এবং রাষ্ট্র তাদের শাস্তি দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সাধারণ মানুষের কাছে রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান ধ্বংস হয়ে যাবে। হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং আবরার হত্যা মামলার জেল পালানো ও পলাতক আসামিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমেই কেবল রাষ্ট্র প্রমাণ করতে পারে যে, ন্যায়বিচার কেবল কাগুজে দলিলে সীমাবদ্ধ নয়। যদি খুনিরা একের পর এক রাজনৈতিক চালে বা প্রশাসনিক অবহেলায় বেঁচে যায়, তবে এই রাষ্ট্র ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিন্দুমাত্র আস্থা থাকবে না। সমাজ ও দেশ সঠিকভাবে চলতে হলে প্রতিটি খুনের বিচার হতে হবে দ্রুত, নিশ্চিত এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত; অন্যথায় বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিবে।

