আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ বন্ধ করুন
সম্প্রতি আমাদের দেশের একটি প্রধান চিত্র হয়ে উঠেছে আন্দোলন। কোনো সমস্যা দেখা দিলেই রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করার প্রবণতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। অধিকার আদায়ের বিষয় হোক কিংবা সামান্য টুকিটাকি সমস্যা—সবকিছুর সমাধান যেন এখন রাস্তা অবরোধেই সীমাবদ্ধ। এর ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত মারাত্মক জনদুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ পড়ছে চরম সমস্যায়। শুধু তাই নয়, অসুস্থ রোগীরাও এই দুর্ভোগের বাইরে নয়। অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকার ঘটনাও এখন আর অস্বাভাবিক নয়। যারা দিন এনে দিন খায়, যাদের জীবন-জীবিকা প্রতিদিনের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল—তাদের জীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ সংকট।রাস্তা অবরোধের কারণে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ফলে তাদের আয়-রোজগারের কোনো সুযোগ থাকছে না। দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকার ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীরা সময়মতো পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে পারছে না, আর শ্রমজীবীরা নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হচ্ছে।এর ফলে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে সমাজে তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। প্রশ্ন হলো—এই দুর্ভোগের দায় কার? রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করার কি সত্যিই কোনো যুক্তিসংগত অর্থ আছে? আমার বোধগম্য হয় না। যদি থাকে, তবে তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দেওয়া হোক।
যেখানে আন্দোলন করলে দাবি আদায় হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে গিয়েই আন্দোলন হওয়া উচিত। সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে, তাদের দুর্ভোগে ফেলে আন্দোলন করার কোনো নৈতিকতা বা গ্রহণযোগ্যতা নেই। এর ফলাফল হিসেবে আন্দোলনকারীরা পাচ্ছে মানুষের বদদোয়া ও তাচ্ছিল্য—যা কোনো আন্দোলনের জন্যই শুভ নয়।অতএব আমাদের জোরালো দাবি—আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ বন্ধ করুন। জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করে কোনো আন্দোলনই টেকসই বা ন্যায্য হতে পারে না।
মো: জাহিদ হাসান
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
