বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / চিঠিপত্র / নিবন্ধ

কাঠের ব্রিজে থেমে যাওয়া সময়

Author

জাহিদ হাসান , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পাঠ: ২৬ বার

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার চাপে জীবন যেন অনেক সময় থমকে যায়। প্রতি সপ্তাহে দু’দিন ছুটি থাকলেও, সেই ছুটির দিন ঘিরে যত পরিকল্পনাই হোক না কেন, বাস্তবে বেশিরভাগ সময় কেটে যায় অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার প্রস্তুতিতেই। এই সপ্তাহেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। একটি অ্যাসাইনমেন্ট থাকলেও মনটা ভালো লাগছিল না, ভীষণ ক্লান্ত লাগছিল।

হঠাৎ নামাজের পর বন্ধু মাহাদীর ফোন সে বলল, “চল, ঘুরে আসি।” আমার মনও ঠিক এমন কিছুরই খোঁজ করছিল। তাই এক মুহূর্তও দেরি না করে রাজি হয়ে গেলাম।
আমি, মাহাদী, রায়হান আর জুবায়ের চারজন মিলে বেরিয়ে পড়লাম ঘোরার উদ্দেশ্যে। শুরুতে কোনো নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করা ছিল না। তখন মাহাদী বলল, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে নদী দিয়ে ঘেরা একটি সুন্দর গ্রাম আছে—সেখানে গেলে কেমন হয়? জায়গাটার নাম বসন্তুপুর, ঝিনাইদহে। কথা শেষ না হতেই আমরা রাজি হয়ে গেলাম।

একজন পরিচিত ভ্যানওয়ালা মামাকে ডেকে উঠে পড়লাম। পথ চলতে চলতেই চোখে পড়ল নদীর পাড়ঘেঁষা গ্রামের অপার সৌন্দর্য। চারপাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে এগোচ্ছিলাম আমরা। হঠাৎ ভ্যানওয়ালা মামা বলে উঠলেন,
“মামা, চাইলে আপনাদের একটা অসাধারণ জায়গায় নিয়ে যেতে পারি—মন ভালো হয়ে যাবে।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কোথায় মামা?”
তিনি বললেন, “শ্রীরামপুর কাঠের ব্রিজ।”
ঘুরতে মন চাইছিল বলেই একটুও না করিনি। বললাম, “চলুন মামা।”

কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম শ্রীরামপুর কাঠের ব্রিজে। সত্যিই জায়গাটা ছিল অসাধারণ। নদীর ওপর কাঠের তৈরি একটি ব্রিজ, আর নদীতে তখন পানির পরিমাণ খুবই কম। নদীর ওপর দিয়েই অনায়াসে চলাচল করছে গরু-ছাগল। দৃশ্যটা দেখে হঠাৎ মনে পড়ে গেল ছোটবেলায় পড়া সেই কবিতার লাইন
“আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
পাড় হয়ে যায় গরু, পাড় হয়ে যায় গাড়ি।”

ব্রিজ পার হয়ে ওপারে যেতেই প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে মনটা ভরে গেল। চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ—মনে হলো, এই তো আমাদের লাল-সবুজের বাংলার আসল রূপ।

কিছুটা এগোতেই শুরু হলো আমাদের দুষ্টুমি আর হাসি-ঠাট্টা। পথের ধারে একটি তেঁতুল গাছ দেখে রায়হান মজা করে গাছে উঠতে গেল, কিন্তু পারল না। পরক্ষণেই সে নিজেকে “পীর বাবা” সাজিয়ে মাহাদীর হাত দেখে তার ভবিষ্যৎ বলে দিল। এমন মজা আর হাসিতে কেটে যেতে লাগল আমাদের বিকেলটা।

নামাজের সময় হলে নামাজ আদায় করলাম। নামাজের পর স্থানীয় এক মামার সঙ্গে কথা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
“মামা, আমাদের গ্রাম আপনাদের কেমন লাগল?”
আমি বললাম, “এক কথায় অসাধারণ।”
তিনি হেসে বললেন,
“এখন তো তেমন সুন্দর লাগছে না, মাঘ মাসে আবার আসবেন—তখন দেখবেন প্রকৃতির আসল রূপ।”

আমি বললাম, “অবশ্যই আসব মামা। এমন সুন্দর আর মনোমুগ্ধকর জায়গা কখনো মিস করা যায় না।”এরপর দোলনায় উঠে কিছু ছবি তুললাম। দোলনায় দুলতে দুলতে মনে হলো, যেন আবার সেই ছোটবেলায় ফিরে গেছি। পুরো বিকালটা কেটে গেল এক মধুর স্বপ্নের মতো—যার স্মৃতি মনে থাকলে মন আপনাতেই ভালো হয়ে যায়।

মো: জাহিদ হাসান
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
মোবাইল : 01720472135
ইমেইল : jh7790920@gmail.com

লেখক: তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!