অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি জুলুমেরই নামান্তর

শিরোনাম:অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি জুলুম
জারিয়াতুল হাফসা
বাংলার মানুষের নিত্যদিনের ব্যবহৃত মসলাজাতীয় খাদ্যের মধ্যে পেঁয়াজ অন্যতম। বলা যায়, পেঁয়াজ ছাড়া বাংলার মানুষের খাবার রান্নার কাজ স্থবির হয়ে যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্যের সাথে পেঁয়াজের দামও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেড়ে গেছে। নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তদের পেটের খাবার জোটাতে যে সময় নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম; সেই সময় অতি দরকারি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নাগরিকদের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার গা’- এর অবস্থারই সৃষ্টি করে।
পেঁয়াজ একটি প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণও বটে। এটি বাঙালির খাদ্যকে মুখরোচক করে তুলতে ব্যবহৃত হলেও এর অনেক উপকারিতাও রয়েছে। পেঁয়াজে যে পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা নিয়মিত গ্রহণ করলে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়। পেঁয়াজে ভিটামিন-সি ও ক্যালসিয়াম রয়েছে, সাথে এটি হজমশক্তিও বৃদ্ধি করে। এটি রক্তের চলাচলেও কার্যকর। এই অতি প্রয়োজনীয় দেশী দ্রব্যের ওপরই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী শুরু করেছে সিন্ডিকেটের খেলা। তারা অতিরিক্ত লাভে বিক্রি করছে পেঁয়াজ, যা সাধারণ নাগরিকদের জন্য অতি উৎকণ্ঠার বিষয়। ভোক্তা অধিদফতরের অভিযান থেকে জানা যায়, পাইকারি ১১০ টাকা কেজি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করলেও পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের লাভ থাকছে: সেখানে তারা বিক্রি করছে আরো অনেক বেশি দরে। অসাধু ব্যবসায়ীদের এই জুলুম সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন খাবারের ক্ষেত্রে হিমশিম অবস্থা তৈরি করছে। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা যায়, অসদুপায়ে ব্যবসায় ইসলাম-সমর্থিত নয়। অন্যভাবে বলা যায়, এটি একপ্রকার জুলুমের নামান্তর। যেখানে পেঁয়াজের জোগান আছে পর্যাপ্ত; সেখানে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ইসলামে সবধরনের জুলুম হারাম। হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত, আল্লাহ তায়ালা বলেন-‘হে আমার বান্দারা! আমি আমার নিজের জন্য জুলুম করা হারাম করে নিয়েছি এবং তোমাদের পরস্পরের মধ্যেও জুলুম হারাম করেছি। সুতরাং তোমরা একজন অন্যজনের ওপর জুলুম করো না।’ (মুসলিম, তিরমিজি)
এ ছাড়াও রাসূল সা: বলেছেন, ‘মজুদদার খুবই নিকৃষ্টতম ব্যক্তি। যদি জিনিসপত্রের দাম হ্রাস পায় তাহলে চিন্তিত হয়ে পড়ে, আর যদি মূল্য বেড়ে যায় তাহলে আনন্দিত হয়।’ (মিশকাত)
এই জুলুমের শেষ কোথায়?
লেখক: শিক্ষার্থী, সমাজকল্যাণ ও গবেষণ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
