বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

জনশূন্য ক্যাম্পাস, নাড়ির টানে বাড়ির পথে চবি শিক্ষার্থীরা

Author

আব্দুল্লাহ আল নাঈম , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ৬১৭ বার

ঈদের বাকি আর ৩দিন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস একদমই ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। ইতোমধ্যে স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে আপন শেকড়ের টানে বাড়ি চলে গিয়েছেন বেশিরভাগ শিক্ষার্থী। অল্প কয়েকজন যারা আছেন তারাও বাড়ির পথে রওনা হতে শুরু করেছেন। গত ৮ মার্চ ঈদের ছুটি ঘোষণার পর থেকেই ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে এখন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে।

সোমবার (১৬মার্চ) ভোর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে বেড়িয়ে ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টের সামনে ব্যাগ ও লাগেজ হাতে শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ এবং ঈদের ছুটি হয়ে যাওয়ায় আবাসিক হলগুলো ছাড়তে শুরু করেছেন তারা। কেউ অটোরিকশা, কেউ মোটরবাইকে করে, কেউ বাস, ট্রেন কিংবা লঞ্চ টার্মিনালের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে।

দেখা গেছে, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ হলের ক্যান্টিন ও আশপাশের খাবারের দোকান। ফলে স্বাভাবিক সময়ের কোলাহলও অনেকটাই কমে এসেছে ক্যাম্পাসে। লেডিস ঝুপড়ি, রেলস্টেশন ও আমানত হল এলাকা, যেখানে সাধারণত দিনভর শিক্ষার্থীদের ভিড় থাকে; সেখানেও এখন নেমে এসেছে নীরবতা। একইভাবে জিরো পয়েন্ট ও শহিদ মিনার এলাকাতেও বড়ো ব্যাগ ও লাগেজ হাতে শিক্ষার্থীদের বাড়ির পথে রওনা হতে দেখা গেছে।

ক্যাম্পাসে এখন ছুটির আমেজ। অনুষদ ও হলগুলোতে বিরাজ করছে নীরবতা। লাইব্রেরি ও সেমিনার কক্ষ বন্ধ, নেই ক্যাফেটেরিয়ার চিরচেনা আড্ডার শোরগোল।

ক্যাম্পাসের আবাসিক হলগুলোতেও নীরবতা বিরাজ করছে। ডাইনিংয়ের ব্যস্ততা কমেছে, রিডিং রুমের টেবিলগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। বিদায়ের সময় রুমমেটদের একে অপরকে জড়িয়ে ধরে অগ্রিম ‘ঈদ মোবারক’ জানানো এবং সিনিয়রদের কাছে জুনিয়রদের সালামির দৃশ্যগুলো হলের প্রতিটি ব্লকে শূন্যতা তৈরি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন সাকিব বলেন, ক্যাম্পাসের ব্যস্ততার কারণে অনেকদিন বাড়ি যাওয়া হয় না। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরে পরিবারের সবার সঙ্গে একত্রিত হওয়া যেন ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হল সংসদের বিজ্ঞান, গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নিশাত সালসাবিল শিকদার বলেন, ঈদে বাড়ি ফেরার অনুভূতি সবসময়ই অন্যরকম। তবে এবারের বাড়ি ফেরা জীবন পাতায় নতুন এক অভিজ্ঞতা যোগ করেছে, তা হলো প্রথমবার ট্রেনে ইফতার করা। প্রথমে খুব একা একা লাগছিল, কিন্তু ইফতারের সময় হতেই পুরো ট্রেনের মানুষগুলো যেন একে অপরের আত্মীয় হয়ে যায়। পরস্পরের সাথে মিলে-মিশে ইফতার ভাগ করে খাওয়ার এই দৃশ্য আমাদের মুসলিম সংস্কৃতির কত সুন্দর একটি দিক, তার সাক্ষী হতে পারলাম। সত্যিই এ এক অন্য রকম অনুভূতি!

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতার বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরা ও তাদের শারীরিক সুস্বাস্থ্য কামনা করি। তাদের পরিবারের সকল সদস্যদের পবিত্র ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাই।

লেখক: সম্পাদকীয় পর্ষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে দৈনিক পূর্বতারা পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!