বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

গণপরিবহনে নিরাপত্তাহীনতা

Author

মো বাইজিদ শেখ , Gopalganj science and technology University

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ৬১ বার

  • গণপরিবহনে নিরাপত্তাহীনতা

    কর্মস্থলে যাতায়াত, শিক্ষা কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে প্রতিদিন লাখো মানুষ বাস, মিনিবাস, ট্রেন ও অন্যান্য গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—এই গণপরিবহন ব্যবস্থাই এখন বহু ক্ষেত্রে যাত্রীদের জন্য ভয়, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালনা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, প্রতিযোগিতামূলক গতিতে যান চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, যা অনেক সময় প্রাণহানি, স্থায়ী পঙ্গুত্ব ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনার পর যথাযথ দায়বদ্ধতা নিরূপণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাও ভুক্তভোগীদের জন্য নতুন ভোগান্তি সৃষ্টি করে।
    ফিটনেসবিহীন ও পুরোনো যানবাহনের অবাধ চলাচল গণপরিবহন ব্যবস্থার একটি বড় সমস্যা। নিয়মিত যান্ত্রিক ত্রুটি, ব্রেক বা স্টিয়ারিংজনিত সমস্যা এবং অশিক্ষিত চালকদের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে চালক ও সহকারীদের অদক্ষতা, অবহেলা কিংবা অনিয়ন্ত্রিত আচরণ যাত্রীদের জীবনকে আরো অনিরাপদ করে তোলে। গণপরিবহনে যাত্রী হয়রানির বিষয়টিও গভীর উদ্বেগের। নারী যাত্রীদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ, শারীরিক ও মানসিক হয়রানি, ছিনতাই কিংবা চুরি-ডাকাতির মতো ঘটনা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। শিক্ষার্থী ও প্রবীণ যাত্রীরাও প্রায়ই ভিড়, বিশৃঙ্খলা ও অনিরাপদ পরিবেশের কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, নির্ধারিত স্টপেজে গাড়ি না থামানো কিংবা যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার—এসব অনিয়ম জনদুর্ভোগকে তীব্র করে তুলছে। এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে গণপরিবহন ব্যবস্থায় সমন্বিত ও টেকসই সংস্কার এখন সময়ের দাবি। প্রথমত, সড়ক ও পরিবহন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। দ্বিতীয়ত, চালক ও সহকারীদের জন্য মানসম্মত প্রশিক্ষণ, মনস্তাত্ত্বিক সচেতনতা এবং পেশাগত দায়বদ্ধতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। তৃতীয়ত, যানবাহনের ফিটনেস যাচাই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে, যাতে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়কে চলাচল করতে না পারে। চতুর্থত, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা—যেমন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ডিজিটাল টিকিটিং ও অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম চালু করা যেতে পারে। পঞ্চমত, গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। একইসঙ্গে যাত্রীদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা নিজ নিজ অধিকার সম্পর্কে অবগত থাকেন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারেন।
    সর্বোপরি, একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়—এটি একটি মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হলে মানুষের কর্মক্ষমতা বাড়বে, অর্থনৈতিক কার্যক্রম গতিশীল হবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

  • মো. বাইজিদ শেখ
    শিক্ষার্থী, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

লেখক: সদস্য, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!