জমিসংক্রান্ত আইন জানা জরুরি
বাংলাদেশের আদালতগুলোতে জমিসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মালিকানা বিরোধ, সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ, দখল পুনরুদ্ধার, রেকর্ড সংশোধনসহ নানা ধরনের মামলা প্রতিদিনই চলছে। জমিসংক্রান্ত মামলাগুলো অনেকের কাছে জটিল মনে হলেও সঠিক আইন জানা থাকলে নিজের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব।
অনেক সময় দেখা যায় জমি নিয়ে বিরোধের সমাধান পারিবারিক বা স্থানীয়ভাবে মিটমাট করার চেষ্টা হয়। এতে সাময়িক শান্তি এলেও পরে আবার বিরোধ দেখা দেয়। তাই আইনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করাই দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ উপায়।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- জমি কেউ অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে বা কোনো নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করেছে। এ ক্ষেত্রে ক্ষত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি চাইলে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। যেমন:সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর অধীনে দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করতে পারেন। তবে এই মামলা অবশ্যই ১২ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে। অবৈধ উচ্ছেদ বা অবৈধ দখলের জন্য ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর অধীনে মামলা করা যায়। আবার যদি কেউ অবৈধভাবে কারও সম্পত্তিতে প্রবেশ করে বা হস্তক্ষেপ করে তবে ফৌজদারি আইনেও মামলা করা যায়। দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ভূমি মালিকের মালিকানা প্রমাণিত হয় এমন সব দলিলপত্র আদালতে জমা দিতে হবে- যেমন খতিয়ান, নামজারি, দলিল, রেকর্ড, কর প্রদানের রশিদ ইত্যাদি। আদালত এসব প্রমাণ যাচাই করে মালিকানা নিশ্চিত হয়ে রায় দেবে। আদালতের ডিক্রি আবেদনকারীর জমির ওপর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান করে। জমিসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সর্বদা একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেয়া উচিত। এতে আবেদনকারী সঠিক আইনে মামলা করতে পারবেন এবং মালিকানা প্রমাণের প্রক্রিয়া সহজ হবে। সর্বোপরি, জমিসংক্রান্ত বিরোধ মিটমাটের চেয়ে আইনগত পথে সমাধান করা দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও টেকসই। অধিকার রক্ষায় আইনকে জানতে হবে।
