শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

সরকারি মেডিকেলে চিকিৎসা পাওয়া বিলাসিতা 

Author

শুভ কর্মকার , বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ পাঠ: ২৬ বার

মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্যতম হলো চিকিৎসা। কিন্তু বর্তমান সময়ে চিকিৎসা খাত যেন ধীরে ধীরে সেবার জায়গা থেকে বাণিজ্যে পরিণত হচ্ছে। সরকারি মেডিকেল থেকে শুরু করে বেসরকারি হাসপাতাল সবখানেই সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। রংপুর বিভাগের প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। এখানকার পরিবেশ এতটাই খারাপ যে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।
অর্থের অভাবে অসহায় রোগীরা বাধ্য হয়েই এই হাসপাতালে ভর্তি হন। তারা আসেন সুস্থ হওয়ার আশায়, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা ব্যবস্থার অব্যবস্থা তাদের হতাশ করে তোলে। গুরুতর অসুস্থ না হলে চিকিৎসা নিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে যেতে পারলেই যেন রোগীরা স্বস্তি পান। হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো সঠিক ব্যবস্থা নেই। দুর্গন্ধ, নোংরা পরিবেশ এবং অপরিচ্ছন্ন বাথরুম যেন নিত্যদিনের চিত্র। এমন পরিবেশ রোগীদের সুস্থতার পরিবর্তে আরও অসুস্থ করে তুলছে। সবাই এই সমস্যাগুলোর কথা জানলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। অনেক ডাক্তার শুধুমাত্র নিয়ম রক্ষার জন্য অল্প সময়ের জন্য হাসপাতালে আসেন। অধ্যাপক বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের দ্বারা রোগী দেখানো যেন সাধারণ মানুষের কাছে একপ্রকার বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে রোগী দেখে চলে যাওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের আর কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না। রোগী বাঁচলো না মরলো তা যেন কারও মাথাব্যথার বিষয় নয়। ইন্টার্ন ডাক্তাররা সার্বক্ষণিক হাসপাতালে থাকলেও তাদের শেখার মতো উপযুক্ত পরিবেশ নেই। কারণ যাদের কাছ থেকে শেখার কথা, সেই অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতিই অনেক সময় থাকে না। ফলে নতুন ডাক্তারদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনও ব্যাহত হয়। নার্সদের অবস্থাও অনেকটা একই রকম। বিশেষ করে রাতের ডিউটিতে রোগীদের ওষুধ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেই অনেক সময় তারা বিশ্রামে চলে যান। রোগীর অবস্থা খারাপ হলেও ডেকে সাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। ইন্টার্ন ডাক্তারদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে যে জরুরি মুহূর্তে রোগীর স্বজনরা ডাকলে অনেক সময় তারা বিরক্তি প্রকাশ করেন। যেন সাহায্য চাওয়াটাই অপরাধ। এসব ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বরং কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে আশঙ্কা থাকে, তার রোগীর চিকিৎসাই অবহেলিত হবে। এই ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতেও সাহস পায় না। এভাবেই চিকিৎসাসেবার নামে অবহেলা নিয়মিত ঘটেই চলেছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, যাদের এই অবহেলা বন্ধ করার কথা, অনেক সময় তাদের বিরুদ্ধেই অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে। কিছু চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের চেয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী পাঠাতে বেশি আগ্রহী এমন অভিযোগও সাধারণ মানুষের মুখে শোনা যায়। ফলে সরকারি হাসপাতালে মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়া যেন সাধারণ মানুষের জন্য বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে এই অবহেলা বন্ধ করবে, কে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনবে তা সত্যিই আজ অজানা। তবুও মানুষ আশা করে, একদিন হয়তো চিকিৎসা আবার সেবায় পরিণত হবে, অবহেলায় নয়। কারণ চিকিৎসা কোনো ব্যবসা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
লেখক: সম্পাদকীয় পর্ষদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!