শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ফিচার / নিবন্ধ

কোরবানির মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি

Author

মোঃ মাহমুদুল হাসান , গণ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ পাঠ: ১৯ বার

কোরবানির মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি

 

ঈদুল আজহা ধর্মীয় উৎসবের সাথে সাথেও, এটি মানুষের হৃদয়ে মানবতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক বন্ধনের এক অপূর্ব বার্তা পৌঁছে দেয়। কোরবানি মানে কেবল পশু জবাই নয়,এর ভেতরে লুকিয়ে আছে আত্মত্যাগ, ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং মানুষে মানুষে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার শিক্ষা। প্রতি বছর কোরবানির ঈদ এলে গ্রামের কাঁচা রাস্তা থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত অলিগলি পর্যন্ত এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়

যেখানে ধনী-গরিব, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী সবাই এক অদৃশ্য বন্ধনে জড়িয়ে পড়ে।

 

গ্রামের ঈদ যেন অন্যরকম প্রাণবন্ত। ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই হাটে মানুষের ভিড়, গরুর ঘণ্টার শব্দ, শিশুদের উচ্ছ্বাস আর খামারিদের ব্যস্ততা পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তোলে। অনেক পরিবার সারা বছর অপেক্ষা করে এই দিনের জন্য। গ্রামের বাড়িতে কোরবানির সময় আত্মীয়স্বজন একত্রিত হয়, একসাথে রান্না হয়, উঠানে বসে গল্প চলে, আর মাংস ভাগাভাগির মধ্যে তৈরি হয় আন্তরিক সম্পর্কের নতুন সেতুবন্ধন। অনেক সময় দেখা যায়, যাদের সঙ্গে বছরের অন্য সময় খুব একটা যোগাযোগ থাকে না, তারাও এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কাছে চলে আসে।

 

অন্যদিকে শহরের কোরবানির চিত্র কিছুটা ভিন্ন হলেও এর মানবিক সৌন্দর্য কম নয়। ব্যস্ত নগরজীবনে মানুষ হয়তো প্রতিদিন একে অপরের খোঁজ নেওয়ার সময় পায় না, কিন্তু কোরবানির সময় প্রতিবেশীদের মধ্যে খাবার বিনিময়, একসাথে কোরবানির প্রস্তুতি কিংবা অসহায় মানুষের জন্য মাংস পৌঁছে দেওয়ার দৃশ্য সমাজে এক ধরনের সৌহার্দ্য সৃষ্টি করে। অনেক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী হয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেয়। যা আমাদের কোরবানির মহত্ত্ব কে আরো বাড়িয়ে তোলে।

 

কোরবানি মানুষকে ত্যাগের শিক্ষাও দেয়। নিজের প্রিয় সম্পদ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করার মানসিকতা মানুষকে স্বার্থপরতা থেকে দূরে সরিয়ে আনে। এই শিক্ষা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র, সব জায়গায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। যখন মানুষ অন্যের কষ্ট বুঝতে শেখে, তখন সমাজে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ কমে আসে।

 

আজকের সময়ে সামাজিক সম্প্রীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তাই কোরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু আনুষ্ঠানিকতায় নয়, বরং মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যেই নিহিত। ত্যাগের এই মহিমা যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিফলিত হয়ে সমাজ জীবন হবে আরও সহানুভূতিশীল, আরও সুন্দর এবং সম্প্রীতিময়।

 

মোঃ মাহমুদুল হাসান

শিক্ষার্থী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়

ফ্যাকাল্টি অফ ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস

লেখক: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!