শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ফিচার / নিবন্ধ

কেউ মরে বিল ছেঁচে, কেউ কই খায়।

Author

এস এম ফাতিন নূর রাহী , ঢাকা কলেজ

প্রকাশ: ৩ জুন ২০২৬ পাঠ: ১৪ বার

কেউ মরে বিল ছেঁচে, কেউ কই খায়।
(সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)

—–২৫ অক্টোবর রাতে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার দেওয়ার জন্য রওনা দিলাম আমরা ৫ বন্ধু।
—–আমাদের ৫ সদস্যের দলে আমি সহ শফিকুল, আলি হাসান, রাকিব রাহিদ ও হাবিবুর রহমান ছিলো।
—–বন্ধু রাকিব রাহিদ বাসে ওঠার প্রায় ১৫ মিনিটের মাথায় বমি করা শুরু করলো। তা দেখে আমরা চিন্তিত হয়ে পড়লাম।
—–একটু পরে যাত্রা পথে ফুট ভিলেজে প্রথম যাত্রা বিরতি দিল।
—–বন্ধু রাকিব ফুট ভিলেজে নেমে বললো আমি আর যাবো না। গাড়িতে উঠলে আবার বমি হতে পারে।
—–এ কথা শুনে আমরা তাকে যাওয়ার জন্য জোর করলাম না। আবার বাড়ি ফিরে যেতেও বললাম না।
—–আমরা বললাম তোর যা ইচ্ছা তাই কর। তবে যেতে পারলে ভালো।
—–এরপর ফুট ভিলেজের টয়লেটে আমরা সবাই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিলাম। তারপর ফুট ভিলেজে কিছু খাওয়ার জন্য আমরা মনস্থির করলাম। কিন্তু সেখানে সকল খাবারের দাম প্রায় তিন গুন।
—–তাই ফুট ভিলেজে কিছু না খেয়ে ফুট ভিলেজের বাইরে গিয়ে একটি দোকান থেকে চা পান করলাম।
এরপর অসুস্থ বন্ধু রাকিব বললো,
—–গাড়িতে উঠলে আবার বমি হতে পারে। তাই এখন কী করা যায়?
এর উত্তরে আমি বললাম,
—–কিছু ফল কেন। গাড়িতে ওঠার আগে খাইস। বমি কমতে পরে।
—–তখন সে ১০০ টার ফল কিনলো।
—–এই পরামর্শটা কাজে দেবে না কী তা জানতাম না।
গাড়িতে উঠে সে একটু ফল খেলো।
—–তবে গাড়িতে ওঠার কিছুক্ষণ পারে বুঝতে পারলাম আমার পরামর্শ টি ভুল ছিলো।
—–সে গতানুগতিক ধারায় আবারও বমি করা শুরু করলো।
—–আর বমি করলে যা হয়। সে অনেকটা দূর্বল হয়ে গেল।
—–তখন ফল টুকু খাওয়ার ধর্য টাও সে হারালো।
—–আমার পাশে অসুস্থ বন্ধু রাকিব। আর তার কেনা ফল আমার ব্যাগে।
—–অসুস্থ ব্যাক্তি ফল খেতে পাচ্ছে না। কিন্তু ফল গুলো আমার ব্যাগেই রয়ে গেল। একটু পরে গাড়িতে ঝাঁকুনি শুরু হলো। তখন ভাবলাম ঝাঁকুনিতে ফল গুলো নষ্ঠ হতে পারে।
—–তাই একটু পর আমি ফল গুলো খাওয়া শুরু করলাম।
—–ঠিক তখনই বন্ধু আলি হাসান বললো,
—–কী বন্ধু রাহী…ওখানে কী হচ্ছে?
—–তখন বুঝতে পারলাম কাটির বেটা দেখতে পেরেছে যে, আমি রাকিবের কেনা ফল গুলো মেরে দিচ্ছি।
—–তাই আলি হাসানের মুখ বন্ধ করতে তাকেও কিছু খেতে দিলাম। তখন হাবিবুর ও শফিকুল বললো আমরাও আছি।
—–অগত্তা ওদের কেও দিতে হলো।
—–সবাই মিলে ভাগ বাঁটওয়ারা করে খেতে খেতে হঠাৎ করেই মনে পড়লো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিড়াল প্রবন্ধের একটি সংলাপের কথা।
“কেউ মরে বিল ছেঁচে, কেউ কই খায়।”
—–বিড়াল প্রবন্ধের ঐ উক্তিটির সাথে আমারাদের এই ঘটনাটির সাদৃশ্য লক্ষ করা যাচ্ছে।
—–এখানে,
অসুস্থ রাকিব ফল কিনলো খাওয়ার জন্য। কিন্তু সে ফল গুলো খেতে পারলো না।
—–কথায় আছে, সুযোগের সৎ ব্যবহার করতে হয়।
তাই সুযোগের সৎ ব্যবহার করে রাকিবের কেনা ফল গুলো আমরা চার জন মিলে খেয়ে ফেললাম।

তাই বলা যেতেই পারে,
সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিড়াল প্রবন্ধের এই উক্তি টি যথার্থ।
“কেউ মরে বিল ছেঁচে, কেউ কই খায়।”

লেখক: সদস্য, ঢাকা কলেজ।
লিংক কপি হয়েছে!