আঠারো বছরে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
আঠারো বছরে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মো: বাপ্পি হোসেন : পাবনা জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু, ইপিজেড, তাড়াশ ভবন, জোড় বাংলো মন্দির , মানসিক পাসপাতালসহ রয়েছে অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও দর্শনীয় স্থান। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পাবনা শহরকে পূর্ণতা দান করেছে। দিনের পর দিন প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বিদ্যাপিঠ হিসেবে জাগয়া করে নিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠা
২০০১ সালে ১৫ জুলাই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০১ পাশ হলেও ২০০৮ সালে ৫ জুন পাবনা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে রাজাপুর নামক স্থানে ঢাকা- পাবনা মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে ৩০ একরের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
একাডেমিক কার্যক্রম
২০০৯ সালের এপ্রিলে টিটিসি ক্যাম্পাসে ১৮০ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি চারটি বিভাগ নিয়ে প্রথম ব্যাচের ক্লাস শুরুর মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রমের সূচনা করেন৷ ২০০৮ সালের ১১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান অধ্যাপক ড. আমিন উদ্দিন মৃধা। উদ্বোধনী ক্লাসে লেকচার দেন প্রখ্যাত পর্দাথবিজ্ঞানী ড. জামাল নজরুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ড.এম আনোয়ার হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে একমাত্র নারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা: শামীম।
প্রধান ফটক
প্রধান ফটকটি “পাখির মতো স্বাধীন “ধারনার উপর ভিত্তি করে নির্মাণ করা। এই দৃষ্টিনন্দন ও নান্দনিক ডিজাইন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিজয় দাশ গুপ্ত। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে আলাদা । শিল্পী তার শিল্পকর্মকে রং তুলি ছাড়াই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়েছে।
স্থাপত্য
বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা স্মম্ভ, শহীদ মিনার, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, কেন্দ্রীয় মসজিদ, ক্যাফেটেরিয়া, বারো তলা এবং পাঁচ তলা বিশিষ্ট দুটি ও একটি একাডেমিক ভবন, দশ এবং পাঁচ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, অডিটোরিয়াম, টিএসসি, কনভেনশন সেন্টার, দশ এবং পাঁচ তলা চারটি আবাসিক হল, মুরাল।
সৌন্দর্য
বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অনন্য সৌন্দর্য দান করেছে এলিভেটর এক্সপ্রেস। বাতাস চত্বর, অমুক চত্বর। এল সেপের আনন্দ সরোবর। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই কৃষকের জমি, শস্যের ঘ্রাণ মিশ্রিত বাতাস আর কৃষি দিনের পর দিন সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে।
বাতাস চত্বর ও অমুক চত্বর
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে সোজা রাস্তা দিয়ে হাঁটলে এলিভেটর এক্সপ্রেস, সেখানে বাতাস চত্বর ও অমুক চত্বর। ক্যাম্পাস এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রেমিকদের মিলনায়তন হিসেবে কাজ করে। সন্ধ্যা নামলেই বিশ্ববিদ্যালয়কে এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দান করে।
প্রাপ্তি
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক বিশ্বের ২% গবেষকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতোমধ্যে বারোটি ব্যাচ গ্রাজুয়েশন শেষ করে বের হয়েছে। দেশ ও দেশের বাহিরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী শিক্ষকতা করছেন। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্কিটেকচার বিভাগের এক শিক্ষার্থীর করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয় আর্কিটেকচার বিভাগের এক শিক্ষকের দ্বারা করা হয়েছে।
সম্ভাবনা
প্রশাসনের তথ্যসূত্রে জানা যায়, ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে কেন্দ্রীয় রিসার্চ সেন্টার, দেশ ও জাতির কল্যাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে৷ ৩০ একর ক্যাম্পাসেকে ৮০ একরে বদ্ধিত্ব করা হবে। নতুন করে যুক্ত হবে আরো দুইটি বিভাগ।
কিছু কথা
প্রাপ্তি আর সম্ভাবনার বেড়া জালে বন্ধি পাবিপ্রবির বিভাগগুলো। তীব্র শিক্ষক ও ল্যাব সংকটে বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ। বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই বড় গাছ ফলে শিক্ষার্থীরা গরমের সময় গাছের শীতল হওয়ার সংকট অনুভব করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অডিটোরিয়াম থাকলেও এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। অডিটোরিয়াম ছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চা ব্যাহত হচ্ছে।
মো: বাপ্পি হোসেন
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মোবাইল: ০১৫৬০০৫০৫৬৯
