একাডেমিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একাডেমিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর । একাডেমিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর হলো শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক থেকে বের করে বাস্তব কাজের পরিবেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ভ্রমণ। এর দ্বারা শিক্ষার্থীরা পরিবেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ পায়। বিভিন্ন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান, কলকারখানায়, দর্শনীয় স্থান, প্রজেক্ট ইত্যাদি একাডেমিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুরের তালিকায় স্থান পায়।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই গোসলটা সেরে নিলাম। আমার সকালে একটু ক্ষুধা বেশিই লাগে। এদিকে বৃহস্পতিবার ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকায় খাওয়া দাওয়া করতে পারলাম না। রুমমেট গতকালকে চিড়া ভেজে রেখেছিলো একটু খেয়েই বেরিয়ে পড়লাম, গন্তব্য ডিপার্টমেন্ট। সেখান থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করে বাসের উদ্দেশ্যে মূল ফটকে। সবাই বাসে উঠলাম বাস ছুটে চললো এ.আর সিমেন্ট ফ্যাক্টরির উদ্দেশ্যে।
আমরা ভার্সিটি থেকে দুটি বাস নিয়েছিলাম। নিজের ভার্সিটির বাস। একটা বাসে ১৩ ও ১৪ ব্যাচের ভাই ও আপুরা। অন্যদিকে আরেকটা বাসে আমরা ১৫, ১৬ এবং ১৭ ব্যাচের ছোট,বড় ভাই – বোন একসাথে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র জুনিয়র অন্য রকম এক সম্পর্ক থাকে আর তা যদি একই বাসে ভ্রমণ হয় তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু সত্য কথা হলো এখন ক্যাম্পাসে সিনিয়র জুনিয়রদের সেই সম্পর্ক আর চোখে পড়ে না। কেমন জানি অমাবস্যার চাঁদ হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত এ.আর সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে এসে পৌঁছালাম। আমাদের সংখ্যা বেশি থাকার কারণে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় দুটি গ্রুপে পরিদর্শন ও সেমিনার করানো হবে। প্রথম বাসের বড় ভাই আপুরা পরিদর্শন ও সেমিনারে অংশ নেয়। এদিকে আমরা ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে পাশের বিএডিসি প্রকল্প ঘুরে দেখতে যাই। সবাই যখন ঘুরতেছিলো তখন আমি আর নাফি যাই অন্য দিকে। ছেলেটার বাসা ঢাকায় হওয়াই তেমন গাছপালা সম্পর্কে ভালো ধারণা নেই। আমি একটা একটা করে গাছ তাকে চিনিয়ে দিচ্ছিলাম। পরে আমার চোখ পড়ে পুরোনো একটা ভবনের দিকে। আমি আর নাফি চলে গেলাম। সূর্য তার নিজ গতিতে আলো ছড়ালেও কেনো জানি এখানে তার দৌরাত্ম অনেকটাই কম। প্রাচীনকালের ভূতুড়ে ভাব ধারণ করেছে এই ভাবনটি। কৌতূহল বসত আরো আকর্ষণ বেড়ে যায়। ভাবনটিতে প্রবেশ করা মাত্রই চোখে পড়ে সিগারেটের প্যাকেট সাথে অন্য রকম এক মোড়ানো কাগজ। এই রকম কাগজ দিয়েই নাকি ইয়াবা সেবন করে। আমি এতকিছু জানি না। পরে ভাবনের ছাদে যাই সবুজ ঘাস জীবনের সবুজত্ব হারিয়ে হলুদাভ ভাব ধারণ করেছে।
পরে আমাদের সময় আসে, আমরা সবাই সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করি, কর্তৃপক্ষ আমাদের ঘুরে ঘুরে দেখায়। সিমেন্টের কাঁচা মাল আমরা হাত দিয়ে স্পর্শ করি৷ অল্প কিছু সময়ের জন্য প্রকৃতির সাথে মিশে গেছিলাম।

