ঈদে আতসবাজি এক মহামারি আকারে ধারণ করেছে

পবিত্র ঈদ উল ফিতর মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত আনন্দময় উৎসব। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনের পর মুসলিমরা ঈদ পালন করে । অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে মুুসলিম দের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও এই উৎসবে অংশগ্রহন করে । শিক্ষার্থী, চাকুুরীজিবী ,দিন মজুর সকলে বাড়তে ফিরে পরিবারের সাথে ঈদ পালন করার জন্য ।
ঈদের খুশি বহিঃপ্রকাশের জন্য অনেকে পরিবার ,বন্ধু , আত্মীয়স্বজনদের সাথে আতশবাজি ফুটিয়ে থাকেন । বিশেষ করে ঈদের আগের রাতে ও ঈদের রাতে । কিন্তু আমরা আতশবাজি সম্পর্কে খুবি উদাসীন থাকি, এর ক্ষতি সম্পর্কে জানার চেষ্টাও করি না । এই আতশবাজি পরিবেশ এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে । এছাড়াও নানারকম দুর্ঘটনা ও অঙ্গহান এর ঘটনাও শুনা যায়। গত বছর ঈদে পটুয়াখালি তে রাফি নামক এক শিশু ঈদে আতশবাজি ফুুটাতে গিয়ে শ্বাসনালি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। এছাাড়ও নববর্ষ উদযাপনে আতশবাজি এর বিকট শব্দে চার মাস বয়শি শিশু তানজীম উমায়ের মৃত্যুবরণ করে । তার পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া । এছারাও ঢাকা সহ বিভিন্ন শহরে আতশবাজি ফাটানোর ফলে পাখি , কুকুর , বিড়াল সহ ছিন্নমুল মানুষের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় । গতবছর নববর্ষে আতশবজির বিকট শব্দে প্রায় ৪০০ প্রজাতির পাখি ঢাকায় মারা জায় । আন্তর্জাতিক অংশ বিবেেচনা করলে চীনে হুবেই প্রদেশের জিয়াং সু শহরে আতশবাজি বিস্ফোরণ অনেকের মৃত্যু হয়। এছাড়াও আতশবাজির ফলে বায়ুদুষণ,পানিদুষণ হয়।
ঈদ যেহেতু মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব তাই ইসলাম ভাবনায় এর সম্পর্কে কী বলা হয়েছে দেখে নেওয়া যাক । ‘আতশ’ ফার্সি শব্দ ,জার অর্থ ‘আগুন নিয়ে খেলা ’ ।প্রখ্যাত ইসলামক স্কলার দের আলোচনা থেকে দেখা যায় আতশবাজি ব্যবহারে অর্থের অপচয় হয় , আতশবাজি ভিন্ন ধর্মের ইতিহাস, ঐতিহ্য হতে আগত তাই এটি ইসলাম গ্রহনযোগ্য নয় । অগ্নিপূজকরা আগুনকে পবিত্র মনে করে , অনেক ধর্মে অগ্নিস্নানএর কথা উল্লেখ আছে । মুসলিম প্রয়োজন দুনিয়াতে আগুন ব্যবহার করতে পারে কিন্তু জাহান্নামে যেহেতু আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়া হবে তাই আগুন দয়ে উদযপন করতে ইসলাম নিরুৎসহিত করা হয়েছে ।
যেকোন অঅভ্যাস পরিবর্তন করতে হলে তার বিকল্প থাকা চাই । তাই এই আতশবাজি প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে । বিভিন্ন পোস্টার, লিফ্লেটের মাধ্যমে এর ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে হবে শিশুদের জন্য বিকল্প আনন্দের উৎস তৈরি করতে হবে । যেমন বিভিন্ন খেলাধুলার প্রতিযোগিতার আয়জন করা , কুরান তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা জেতে পারে । পাশাপাশি সমাজের ইমাম, শিক্ষক,মা-বাবাদের আতশবাজি সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করতে হবে । এই সমাজ আমাদের , এটি রক্ষা করার দায়িত্ত আমাদের । পশু-পাখিরা এই সমাজের অংশ তাদেরও বেচে থাকার অধিকার আছে , তাই আমাদের সচেতন হতে হবে ।
