জল সংকট : এক সম্ভাব্য সংঘাতের ইতিকথা

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে তিনটা নদীর পানি নিয়ে জল সংঘাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে ইথিওপিয়া-মিশর(নীল নদ),ভারত-চীন (ব্রহ্মপুত্র নদ),ভারত-পাকিস্তান (সিন্ধু নদ)।
রোমের টাইবার নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো এক সময়ের পরাক্রমশালী রোমান সাম্রাজ্য এবং বসফরাস প্রণালির পোতাশ্রয়ে গড়ে উঠেছিলো বাইজেন্টাইন নগর এবং তার পরবর্তী ইতিহাস সবারই জানা।প্রাচীনকাল থেকে নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো সব সভ্যতা এবং নদীকে কেন্দ্র করে হয়েছে সংঘাত। তথ্য মতে, যিশুর জন্মের ৩১০০ বছর পূর্বে ইউফ্রেটিস নদীকে কেন্দ্র করে মেসোপটেমিয়ার দুই নগর রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত হয়েছিলো এবং যা বর্তমানেও উল্লেখযোগ্য হারে ক্রমবর্ধমান। প্যাসিফিক ইন্সটিটিউট”-এর তথ্য অনুসারে,বিশ্বব্যাপী জল নিয়ে সশস্ত্র সংঘাত ঘটেছে ১৯০০টিরও বেশি তার মধ্যে কেবল ২০০০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী জল-সম্পর্কিত সংঘাতের প্রায় ৯০ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে এবং তার মধ্যে শুধু এশিয়া মহাদেশেই অর্ধেকের বেশি ঘটনা ঘটেছে। ভূ-পৃষ্ঠের ৭১ শতাংশ জুড়ে পানির বিস্তৃতি কিন্তু তার ২.৫শতাংশ বিশুদ্ধ এবং ০.৩৩ শতাংশ মাত্র মানুষের জন্য ব্যবহারযোগ্য । ৮০০ কোটি জনসংখ্যার বিশ্বে পানি হচ্ছে এক নীরব সংকট।তাই বিশ্বে সমগ্র জলভাগ নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকলেও তার ০.৩৩ শতাংশ নিয়ে সংঘাতের তীব্র প্রভাব পড়ে জনজীবনে।
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে তিনটা নদীর পানি নিয়ে জল সংঘাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে ইথিওপিয়া-মিশর(নীল নদ),ভারত-চীন (ব্রহ্মপুত্র নদ),ভারত-পাকিস্তান (সিন্ধু নদ)। বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পানির চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে আর সেই সাথে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেইসব অঞ্চলে পানির ব্যাপক সংকট ওইসব অঞ্চলে পানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র সংঘাতের পরিমাণও বেশি। তাই এমতাবস্থায় , এসব সংঘাত এড়াতে এবং মানুষের মাঝে ন্যায্য পানি বণ্টন করতে, নিতে হবে আন্তর্জাতিক উদ্যেগ ,নীতিমালা ও আইন। যেখানে বড় ভাইয়ের মতো এসব পদক্ষেপ নিতে হয় উন্নত বিশ্বকে সেখানে অধিকাংশই সময় তাদের হাতেই রচিত হয় জল সংঘাতের ইতিহাস। আর এসব দ্বন্দ্বের মাঝে আমরা ভুলেই যাই যে ,পানির ন্যায্য বণ্টন সবার অধিকার।
*এই লেখাটি তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সাইটে সময়ে সময়ে আপডেট করা হবে।*
*Mohammad Nayem |Mizee |

