সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কারা

সড়ক দূর্ঘটনার জন্য কী শুধু চালক দায়ী? নাকি সাথে আমরা নিজেরাও দায়ী? চালকের অসাবধানতাই যে সড়ক দূর্ঘটনার প্রধান কারন তা কিন্তু নয় আবার চালকের দোষও এড়ানো যাবেনা।
সড়ক দুর্ঘটনার কয়েকটি কারণ রয়েছে যেমন-রাস্তাঘাটের স্বল্পতা, রাস্তার উপর নির্মাণকাজের বিভিন্ন জিনিষপত্র রাখা, ফুটপাতের মধ্যে দোকান বসানো, ট্রাফিক আইন না মানা। যেখানে সেখানে নিজেদের ইচ্ছে মতো গাড়ি থামানো হচ্ছে। যেখানে মন চাইছে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানো নামানো হচ্ছে। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো হচ্ছে, শুধু দ্রুত নয়; চালকের মাদক গ্রহণ, সিটবেল্ট না বাঁধা, হেলমেট না ব্যবহার করা।
এক গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, রাজধানীর সড়কগুলোতে ২ লাখ ১৬ হাজার যানবাহন চলতে পারে কিন্তু তার বিপরীতে ঢাকায় বর্তমানে প্রায় পাঁচগুণ বেশি যানবাহন চলছে। অথচ যাতায়াত করছে মাত্র ৮ ভাগ যাত্রী।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, লাইসেন্স না থাকা ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোসহ নানা অপরাধে প্রতি বছর গড়ে ৬২ জন চালককে দেওয়া হয়েছে জেল, মামলা হয়েছে ৫২৬ জনের বিরুদ্ধে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এ ব্যবস্থাই কি কাজে আসবে? অন্য আর একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রায় ৪৭ শতাংশ পথচারী। ৫৩ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বেপরোয়া গতি। মহাসড়কে ছোট যানবাহনের চলাচল, ভাঙা রাস্তা, অতিরিক্ত দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো, যাত্রীদের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন না মানা, মূল সড়কে চলাচল, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়া এগুলোও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এক্ষেত্রে চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সেল গঠন, মহাসড়কে নিয়ন্ত্রিত গতিতে যানবাহন চালানো, সড়ক নির্মাণ, চালকদের প্রশিক্ষিত করে তোলা, জেব্রা ক্রসিং প্রভৃতি নিয়মকানুন মেনে চললে প্রাণহানী অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব এবং দূর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যাবে বলে মনে করি। এবং সেই সাথে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জন-প্রশাসন বিভাগে দায়িত্বরতদের যথাযথ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

