সৌন্দর্যের প্রতীকের প্রতি দয়াবান হোন

আল্লাহর অপরূপ সৃষ্টির অন্যতম সুন্দর ও আকর্ষণীয় সৃষ্টি হচ্ছে পাখি। আকাশে ডানা মেলে আপনমনে পাখিরা উড়ে বেড়ায়। নিজস্ব ভাষায় সৃষ্টিকর্তার গুণগান করে। পাখি মানবজাতির উপকারী, পরিবেশবান্ধব এবং পৃথিবীর সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক।
পাখিরা প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য সুরক্ষা করে।কিচিরমিচির শব্দ করে ঘুরে বেড়ায়, একজোট হয়ে বৃত্তের ন্যায় আকৃতি ধারণ করে চক্কর দেয়, তখন কলকাকলির এমন দৃশ্যাবলি দেখে মানুষ চরম আনন্দে বিমোহিত হয়। পাখিরা আকাশেই সুন্দর। তাদের শিকার করা থেকে বিরত থাকুন। তাদের প্রতি দয়াবান হোন।
এক সাহাবি একবার এক পাখি শিকার করেছিলেন। প্রিয় নবী সা. তাকে পাখিটিকে কষ্ট না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, একদিন প্রিয় নবী সা. তাঁর সাহাবাদের নিয়ে বসে ইসলামকে মানবতার দুয়ারে পৌঁছে দেয়ার জন্য পরামর্শ করছিলেন। এমন সময় একজন সাহাবি কয়েকটি পাখির বাচ্চা ধরে নিয়ে উপস্থিত হলেন। আর সেই সাহাবির মাথার ওপর দিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে মা পাখিটি কিচিরমিচির করতে করতে উড়ে আসছিল। সে তার বাচ্চাদের জন্য কিচিরমিচির করছিল। নির্মম দৃশ্যটি আল্লাহর নবী সা.-এর দৃষ্টিগোচর হতেই তাঁর অন্তর যেন অজানা ব্যথায় ব্যথিত হল। সন্তানহারা মা পাখিটির আহাজারি নবী সা. এর কোমল হৃদয়ে বিষাক্ত তীরের মতো বিঁধল। নবী সা. সাহাবাকে একান্তভাবে কাছে ডেকে নিলেন, আন্তরিকতার সঙ্গে জিজ্ঞেস করে ঘটনাটা মনোযোগের সঙ্গে শুনলেন। সে সাহাবি দয়ার নবীর কষ্টমাখা চেহারা দেখেই বিষয়টি আঁচ করেন। নবী সা. সাহাবাকে পাখিটি রেখে আসার কথা বললেন। সাহাবি দ্রুত হেঁটে যেখান থেকে পাখির বাচ্চাগুলো নিয়েছিলেন সেখানে রেখে আসলেন। (আবু দাউদ)
পৃথিবীতে আল্লাহর অপার মহিমা ও প্রশংসা বর্ণনাকারী অগণিত পাখির বসবাস। কিছু কিছু পাখি বাড়িঘরের আঙিনায় বাস করে। যেমন- চড়ুই, টুনটুনি, কবুতর প্রভৃতি। কত পাখি বাড়ির আশপাশে বন-জঙ্গলে বাস করে। যেমন- দোয়েল, কোকিল, বুলবুলি, ঘুঘু, কাক ইত্যাদি আরও অনেক প্রকার পাখি বিরাজমান। অধিকাংশ পাখিই জলাভূমিতে খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় এবং নদনদীতে ভেসে বেড়ায়। পাখিরা পৃথিবীব্যাপী চলাফেরা করে। পাখিদের কোনো যানবাহনের প্রয়োজন হয় না। আল্লাহ প্রদত্ত শক্তি ও পাখার সাহায্যে সারা দুনিয়ায় ঘুরে বেড়ায়।
মানুষের জীবন রক্ষার্থে গৃহপালিত পাখিকে জবাই করে খাওয়ার জন্য আল্লাহর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বনের পাখিদের অহেতুক কষ্ট দিয়ে লালন-পালন করতে নিষেধ করা হয়েছে। বাংলাদেশে নানা প্রজাতি ও নানা রঙের বহু পাখির বাস থাকা সত্ত্বেও ঋতুর বিবর্তনে অসংখ্য অতিথি পাখির আগমন ঘটে। ঝাঁকে ঝাঁকে শীতের অতিথি পাখি ডানা ঝাপটে প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোতে ক্ষণস্থায়ী আবাস গড়ে তোলে। পাখিকে অহেতুক হত্যা করা বা শিকার করা ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যায় এবং প্রচলিত আইনেও দণ্ডনীয় অপরাধ। পাখপাখালির জীবন রক্ষা করে পাখিদের লালন-পালন প্রশংসনীয় ও পুণ্যের কাজ। তাই পাখিদের বিশেষভাবে যত্ন নেওয়া এবং তাদের প্রতি উত্তম আচরণ করা জরুরি।
সকল প্রকার সৃষ্টিসহ পাখিদের প্রতি ভালোবাসা, সদয় ব্যবহার ও দয়া প্রদর্শন করা ইসলামের বিধান। যারা পাখিদের প্রতি দয়া করবে না, আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন না। পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় অতিথি পাখিদের পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদানসহ আল্লাহর সব সৃষ্টির প্রতি সদয় ব্যবহার এবং দয়া প্রদর্শন করা অপরিহার্য।

