আশার প্রদীপ ও বরকতময় শবেবরাত

শবে বরাত বরকতময় একটি রাত। শব অর্থ রাত আর বরাত অর্থ ভাগ্য। শবে বরাত শব্দের অর্থ ভাগ্যের রাত, মুক্তির রাত। বলা যায়, এ রাত আশার প্রদীপের একটি রাত। যেহেতু এ রাতে অগণিত মানুষের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং বহু জাহান্নামিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয়, তাই এ রাতটি “শবে বরাত” বা মুক্তির রাত নামে পরিচিত। হাদীস শরীফে এ রাতটি “লাইলাতুন নিসফ মিন শাবান” বা অর্ধ শাবানের রাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাতকে শবে বরাতের রাত্রী বলে ঘোষণা করা হয়। বিশেষ এ রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা আগামী এক বছরের জন্য মানুষের রিজিক, জন্ম-মৃত্যু ইত্যাদি বিষয় নির্ধারণসহ তার সৃষ্ট জীবের ওপর অসীম রহমত নাজিল করে থাকেন বলে এ রাতকে শবেবরাত বা ভাগ্যের রাতও বলা হয়।
এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে একটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে- হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, অর্ধ শা’বানের রাত বা ১৪ শা’বান দিবাগত রাত যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত বন্দেগীতে কাটাও এবং দিনের বেলায় রোযা রাখ। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা এ রাতে সূর্যাস্তের পর প্রথম আসমানে আসেন এবং বলতে থাকেন, আছে কি কোনো ক্ষমাপ্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করবো। আছে কি কোনো রিযিক প্রার্থী, আমি তাকে রিযিক দিব। আছে কি কোনো বিপদগ্রস্ত, আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দিবো। আছে কি এমন আছে কি এমন, এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত বলতে থাকেন। (সূত্র: সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ২৩৮৪; আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ১৫৫৬; শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং: ৩৮২২;)
এ রাতে যে কাজগুলো করণীয় বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে তা হলো- এ রাত দীর্ঘ সেজদায় দীর্ঘ নফল নামাজ পড়া শরিয়তের দৃষ্টিতে কাম্য। এছাড়াও এ রাতে যে সমস্ত আমল করা যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কুরআন তেলাওয়াত করা, দরুদ শরীফ পড়া, ইস্তেগফার করা, দোয়া করা, পরের দিন রোজা রাখা, জিকির করা, ক্ষমা প্রার্থনা করে দোয়া করা নিজের জন্য, পিতা-মাতার জন্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সকল মোমিন মুসলমানের জন্য।
শবে বরাতে যে কাজগুলো বর্জনীয় বা উচিত নয় তা হলো: ইবাদত-বন্দেগি বাদ দিয়ে বেহুদা ঘোরাফেরা করা, আতশবাজি ফোটানো, শরিয়ত বিরোধী আনন্দ-উল্লাস করা, বেপরোয়া আচরণ করা, অন্য কারো ইবাদতের বিঘ্ন ঘটানো।
এ মাস রমজানের প্রস্তুতির মাস। রমজান মাসের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে শাবান মাসের নফল রোজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সহিহ হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, রসুলুল্লাহ (স.) কে আমি শাবান মাস ছাড়া অন্য কোনো মাসে এতো অধিক নফল রোজা পালন করতে দেখিনি। তিনি যেন গোটা শাবান মাসই রোজা পালন করতেন। তিনি কয়েকটি দিন ব্যতীত গোটা শাবান মাস রোজা রাখতেন। (সহিহ মুসলিম)
সর্বোপরি, আল্লাহর কাছে দোয়া ও আর্জি রইলো, আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে শবে বরাতের বরকত দান করেন, রিজিক বাড়িয়ে দেন, আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে দেন এবং আমাদের সমুদয় পাপ মাফ করে দেন। আমীন।

