বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

শীতের ভোর

Author

মোঃ রবিউস সানি জোহা , Islamic University

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ৮৬ বার

শীতের ভোর। চারদিকে কুয়াশার স্নিগ্ধ আচ্ছাদন। গাছের ডগায় রোদ এখনো পা রাখেনি; শিশিরে ভেজা পাতার নীচে ঠান্ডা হাওয়া হালকা কাঁপন তোলে। এমনই মুহূর্তে বগুড়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাওসিফ ভাইয়ের গ্রুপ এ মেসেজ- রস অভিযান এর। মেসেজ এর নোটিফিকেশন এ ঘুম ভাঙে আমার। ফজরের আযান দিয়েছে। নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড়ে আমরা সকলে একত্রিত হই। একে একে সকলকে ফোন দিতে থাকে তাওসিফ ভাই ও ইসরাফিল ভাই। ও দিকে আবার সভাপতি সাব্বির ভাই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল পকেট গেইটে। এরপর সকলে একত্রিত হয়ে আমরা যাত্রা শুরু করি ত্রিবেনীর উদ্দেশ্যে। রসের জন্য জায়গাটি বিখ্যাত।

পকেট গেইট থেকে সকলে ভ্যানে করে আমাদের রস অভিযান এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু। পথিমধ্যে তাওসিফ ভাইয়ের ফোনে সেলফি সেই সাথে স্লোগান – জেলা আছে? কোনসে জেলা? ‘বগুড়া’ ‘বগুড়া’ । তীব্র শীতে সভাপতি সাব্বির ভাইকে নিয়ে একটু দুষ্টুমি সেই সাথে গান, গল্প এক অন্যরকম আনন্দ অনুভূতি। চোখে উচ্ছ্বাস, মনে রসের টান। শীত মানেই রস, রস মানেই উৎসবের ছোঁয়া।

অবশেষে আমরা পৌঁছালাম কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। পৌঁছে দেখি রস প্রেমীদের বিশাল লাইন। রসের তুলনাই রস প্রেমীদের সংখ্যাই যেন বেশি। আমরা আগেই রস ওয়ালা মামাকে জানিয়ে রেখেছিলাম। তাই শত ভীড়ের মাঝেও আমাদের কপালে রস জুটেছিল। রস খেতে খেতে গ্রামের রস সংগ্রাহকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে আসে শীতের চিরন্তন গল্প। গাছের মাথায় সংগ্রহকারীর রাতভর জেগে থাকা, মাটির পাত্রে টুপটুপ করে পড়া রসের সুর, আর সেই রসের প্রথম চুমুকে জেগে ওঠা শৈশব স্মৃতি সবকিছু মিলিয়ে একটি দিন যেন কবিতার মতো মধুর হয়ে ওঠে।

বগুড়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সদস্যরা শুধু রস পান করতেই যান না তারা স্থানীয় ঐতিহ্যকে বুঝতে চান, কৃষি সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে চান, আর নিজের জেলার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করতে চান। এ আয়োজনের মাধ্যমে জেলার ভাইবোনদের মাঝে শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি হয়, যা আজকের দ্রুতলয়ের সময়ে অত্যন্ত প্রয়োজন।

রসের পাত্র ঘিরে হাসি, গল্প, ছবি আর সামান্য ঠান্ডায় উষ্ণতাটুকুও যেন আরও মধুর লাগে। কেউ কেউ প্রথমবার রস সংগ্রহের প্রক্রিয়া দেখতে পেয়ে বিস্ময়ে থমকে যান, কেউ রসের স্বাদে হারিয়ে যান গ্রামীণ স্মৃতিতে। সকলের এই একতান হাসি, চঞ্চলতা, আর সাম্প্রদায়িক ঐক্যের দৃশ্য পুরো অভিযানকে সাজিয়ে তোলে এক অনন্য রূপে।
সবকিছুর শেষে আমরা সবাই ফিরে আসি, তৃপ্তি আর আত্মতৃপ্তির হাসি নিয়ে। ক্যাম্পাস এ এসে সভাপতির পক্ষ থেকে দুধ চা অফার করা হয়। আবারও চায়ের চুমুকে গল্পের ঝড়। সেইসাথে বন্ধু চয়েস এর মেস কাহিনী। সে বিশাল কল্পনা জল্পনা তার। সাথে আমারাও তাল দিচ্ছিলাম। সবমিলিয়ে এ যেন এক দিনের ভ্রমণ নয় এটি ছিল শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এক মধুময় উপলক্ষ।
আর এই সুন্দর উদ্যোগ বারবার মনে করিয়ে দেয়
বগুড়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি শুধু ছাত্রদের সংগঠন নয় এটি একটি পরিবার, একটি ঐতিহ্যবাহী বন্ধন।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!