পিঠা উৎসবের আমেজে মুখর বিটিসিএলএফের সদস্যরা

পিঠা উৎসবের আমেজে মুখোর বিটিসিএলএফের সদস্যরা
লেখক: ইকরাম আকাশ
শীতের আমেজে পিঠা খাওয়ার আনন্দটা বেড়ে যায়। কুয়াশায় ভেজা সকালে হাল্কা ঠান্ডা বাতাসে গ্রাম-বাংলায় চুলোয় চড়ে হরেক পদের পিঠা তৈরির আয়োজন। পিঠা বানানোর কারিগরি এক শিল্পের পর্যায়ে পড়ে ; যা বস্তুত অনুপস্থিত। তবে বাংলাদেশের মানুষ শীত আসলেই যেন পিঠা খাওয়ার রোমাঞ্চে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চায়। কোন না কোন উপলক্ষে পিঠা খাওয়াটাই আনন্দের অনুভূতি হয়ে উঠে এবং এটি আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ করে।
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম (বিটিসিএলএফ) বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বুদ্ধিবৃত্তিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন। যেখানে শিক্ষার্থীদের মন-মগজে সৃষ্টিশীলতার বিকাশে বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ড করা হয়ে থাকে। ২০১৮ সালে এর যাত্রা শুরু হয়ে সুনামের সাথে দক্ষ ও সৃজনশীল সাহিত্যিক,কলামিস্ট সহ বিভিন্ন গুণীজনদের আশীর্বাদ পরিপুষ্ট হয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের অন্যতম একটি শাখা হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। যার গন্ডি বাংলাদেশের সর্বত্র। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই শাখা যথেষ্ট পরিপূর্ণ ও গোছানো। বাংলাদেশের প্রথম সারির জাতীয় পত্রিকায় অন্যান্য শাখার শিক্ষার্থীদের সাথে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লিখা কলাম,চিঠি,প্রবন্ধ,কবিতা,গল্প সহ বিভিন্ন লিখা প্রকাশিত হয়ে থাকে। শুধুমাত্র লিখালিখির মধ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সহ অন্যান্য শাখার বিচরণ নেই ; বস্তুনিষ্ঠ ও এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রমেও তরুণ লেখকগন সম্পৃক্ত। বিভিন্ন সময়ই সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা ও বাস্তবায়ন করা শাখার অন্যতম একটি গুণ।
বছরের শুরুতে মৃদু ঠান্ডা আবহে সূর্যের ধীম আলোয় এলিয়ে যাওয়া মাঠের প্রান্তে পিঠা উৎসব না করা সেটি কী সম্ভব! নিজেদের দায়িত্ববোধের আলোকে দেশ গঠনে লিখালিখির পাশাপাশি আনন্দের অনুভূতি গ্রহণ করাটাও একটি স্বতন্ত্র ও মননশীল কাজ। যেখানে নতুন ও পুরাতন সদস্যদের সাথে বিভিন্ন অতিথিদের সাথে দেখা হয়, সৃজনশীল কথাবার্তা ও দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। প্রতিমাসেই সরাসরি একটি বৈঠক আলোচনা ও দিকনির্দেশনামূলক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আলাপচারিতা হয়। কিন্তু পিঠা উৎসব সেটি একটি ভিন্ন উৎসবের আমেজ তৈরি করে। এদিন অনেকেই বিভিন্ন ধরনের পিঠা, ঝাল নাস্তা ও কেক তৈরী করে আনেন। সম্পূর্ণ বাসায় তৈরী এসব পিঠা ও নাস্তার আয়োজনে জড়ো হয় শাখার সদস্যবৃন্দ।
বিটিসিএলএফের চট্টগ্রাম সদস্যদের নিয়ে এ বছরের প্রথম অফলাইন আড্ডা অনুষ্ঠিত হয় সিআরবির শিরীষতলায় এবং এটি ছিলো পিঠা উৎসব। সকাল গড়িয়ে বিকেলবেলায় একেকজন একেক পদের পিঠা নিয়ে হাজির হয়েছিলো সিআরবিতে তাৎক্ষণিকভাবে সিআরবির অভ্যন্তরীণ মাঠে সদস্যদের নিয়ে আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে থাকেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হুমায়রা খানম জেরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা, প্রচার সম্পাদক তানজিন চৈতী ও অর্থ সম্পাদক কাজী মালিহা আক্তার। অন্যদিকে নতুন সদস্য যারা অনুষ্ঠানস্থলে পৌছানোর ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছিলেন তাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন উপ-দপ্তর সম্পাদক ইকরাম আকাশ। এক-দুই-তিন করে এভাবে বেশ কয়েকজনকে একসাথে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন সবাই। তাছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত হোন সাবেক প্রচার সম্পাদক কলামিষ্ট ও লেখক মো: জোবায়ের আহমেদ। এছাড়াও উপস্থিত হোন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মো: নেজাম উদ্দিন।
পিঠা উৎসবের শুরুতেই কুরআন থেকে তেলওয়াত করেন মো: মিজানুর রহমান এবং মনীষা গীতা থেকে পাঠ করেন। এরপর সভাপতি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। সভাপতির বক্তব্য শেষে অতিথিবৃন্দ কুশল বিনিময় করে নিজেদের মনের কথা এবং ফোরামের বিভিন্ন বিষয়াদি ও লিখা নিয়ে নতুন-পুরাতন সদস্যদের একই মেলবন্ধনে থেকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উপদেশ দেন ; যা সকল সদস্যগণ মনোযোগ সহকারে শুনে এবং তা মেনে চলার আশ্বাস দেন। এসময় অতিথিদের বক্তব্য শেষে গান গেয়ে সবার একটা সুন্দর আবহ তৈরী করেন তানজিন চৈতী সবাই ধিম গলায় গুনগুন করে গাইতে থাকে ” আমারও পরানে যাহা চায়,তুমি তাই তুমি তাই গো, আমারও পরানে যাহা চায় “। সদস্যগণের কড়তালির মাধ্যমে গানের আবহ অনন্য পরিবেশ তৈরি করে। পরবর্তীতে কেক কাটেন অতিথিবৃন্দ, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তারেক আল মুনতাসীর। এর পরবর্তীতে পিঠা সকলের নিকট পরিবেশন করেন সভাপতি হুমায়রা খানম জেরিন, রাকিব,ত্বোহা,মালিহা এবং ক্যামেরা পারসন হিসেবে এসব ক্যামেরা বন্দির দায়িত্ব ইকরাম আকাশের উপর বর্তায়। উল্লেখযোগ্য পিঠা ও ঝাল নাস্তা খাজা পিঠা,পুয়া পিঠা,ভাপা পিঠা,রোল,ফুল পিঠা,নকশি পিঠা,সমুসা,পাটিসাপটা ও আরো নাম না জানা কয়েক পদের পিঠা। পিঠা খাওয়ার আনন্দ উপভাগের পর খেলার আয়োজন করা হয় যেখানে ৩ জন জয়ী হয় যথাক্রমে ত্বোহা,সেতু এবং মেঘলা। জ্ঞানের চর্চা বাড়াতে উপহার হিসেবে বই তুলে দেন লেখক মো: জোবায়ের আহমেদের লিখা দুইটি বই যথাক্রমে আমি বৃদ্ধ হতে চাইনা ও মির্জাপুরের গল্প।
সন্ধ্যা হতেই পিঠা উৎসবের সমাপ্তি ঘটে ; তবে প্রাক্কালে সবাই একসাথে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের স্লোগান বলেন ” সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায় “। সবার প্রানবন্ত উপস্থিতি পিঠা উৎসবের আয়োজনকে আরো অনন্য করে তুলে। নতুন সদস্যদের মধ্যে আলাদা একটা ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি হয় এবং তারা স্বেচ্ছায় শেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নিজেদের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভা জাগিয়ে তোলার জন্য ফোরাম সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদী। আমরা সবাই সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে লেখনী দিয়ে দেশ ও দশের কার্যক্রমে অভূতপূর্ব উদাহরণ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারবো বলে প্রত্যাশা রাখি।
লেখক: উপ-দপ্তর সম্পাদক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত।

