ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর মূল্য

মানুষ হয়েও অনেক সময় নিজের ভেতরে ‘অমানুষ’ উপাধিটা বহন করে চলতে হয়। বাস্তব জীবনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে, ভালো মানুষ হয়ে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো কি সত্যিই কঠিন!
ভালো মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো দেশপ্রেম। সে চায় তার দেশ সব দিক থেকে উন্নত হোক। সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা দিন দিন দুষ্কর হয়ে উঠছে। ইতিহাস ঘাঁটলে আমরা তার প্রমাণ পাই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন, হয়েছেন চরম নির্যাতনের শিকার। সত্য কথা বলা যেন একধরনের অপরাধে পরিণত হয়েছে।
শৈশব থেকে আমরা বিদ্যালয়ে শিখে এসেছি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হয়। ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আমাদের সাহস জুগিয়েছে, ‘আঠারো বছর বয়স’-এর মতো কবিতা আমাদের প্রতিবাদের ভাষা শিখিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই সাহস নিয়ে সামনে এগোতে গেলে মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভয়, কিংবা অভিজিৎ
রায়ের মতো পরিণতির আশঙ্কা আমাদের থামিয়ে দেয়। তবু সাহসী লেখক আছেন, যারা যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। তাদের পথ কখনোই সহজ ছিল না, কিন্তু তারাই দেখিয়ে দিয়েছেন ভালো মানুষ হওয়া মানে নির্ভয়ে সত্যের পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজনে ঝুঁকি নেওয়া।
ভালো মানুষ হয়ে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে মূলত নিরাপত্তাহীনতার কারণে। তবু সাধারণ মানুষ ভালো হতে পারে, যদি সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তিমূলগুলো মানবিক হয়। নচেৎ ভালো মানুষ দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। তবু আশা হারালে চলবে না। কারণ সমাজ বদলায় কিছু সাহসী মানুষের হাত ধরেই, যারা ভয় পেয়েও নীরব থাকে না।
ভালো মানুষ হওয়া ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। প্রশ্ন একটাই-আমরা কোনটা বেছে নেব: নিরাপদ নীরবতা, নাকি ঝুঁকিপূর্ণ সত্য?
তামিম নূরানী প্রেমা, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

