ছোটগল্প ( আর্তনাদ)

<span;>প্রতিদিনের ন্যায় চেংটু ও সজিব আজকেও গার্লস স্কুলের পাশে বসে সিগারেট টানছে। এরকম কর্মকান্ড তাদের নিত্যদিনের। চেংটু বাবা মা হারিয়ে নদীতে ভাসমান খরের মতো ঘুরে ঘুরে বেড়ায়। পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন। কোথায় তাঁর সমবয়সীরা আড্ডা দিচ্ছে সেটা যেন নখদর্পনে জানা। সতেরো বছর বয়সী এই তরুণের মধ্যে যেমন আছে লক্ষ প্রাণের উন্মাদনা তেমনি লক্ষ কালো স্রোত ও। কালো স্রোতটাই যেন সে বেচে নেয়। মদ, গাঁজা, সিগারেট খাওয়া সে অনেক আগেই শিখেছে। জড়িয়েছে নানান অনৈতিক কর্মকান্ডে। সজিবের সাথে তাঁর অনেকদিনের পরিচয়। সজিব সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছে। ক্লাসের বান্ধবীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করার জন্য তাঁকে স্কুল চ্যুত করা হয়। সেই থেকে তারও পড়াশোনা সঙ্গে আর যোগসূত্র ঘটেনি। এখন যেন সে চেংটুর সর্বক্ষণের আড্ডার সঙ্গী। হাট বাজারের এমন কোন প্রান্ত নেই যে তাদের দুজনের দেখা মেলে না। কিছুদিন আগে একটা হত্যাকান্ডের সাথে উভয়ে জড়িত। বাজে কর্মকান্ডের দেখা মিললে দু’জনের নাম যে আগেই উঠে আসে। রাস্তায় মেয়ে দেখলে খারাপ মন্তব্যতেও তাঁরা পটু। কিছুদিন আগে রহমান চাচার মেয়েকে দেখে এমন মন্তব্য করেছিল যে অবর্ণনীয়। ছোট মেয়েটি শেষ পর্যন্ত স্কুলে আসা বাদ দেয়। গার্লস স্কুলের পাশে তাদের আড্ডাটা দীর্ঘক্ষণ চলছিল। স্কুল পড়তে আসা মিনু মেয়েটি তাদের নজরে ধরে। তাঁকে দেখে দু’জনে কানাঘুষা করে বলে “দোস্ত কি মাল রে, মালটাকে হাতছাড়া করা যায় না”। স্কুল ছুটি না হওয়া পর্যন্ত স্কুল গেটের সামনে উভয়ে আড্ডা দেয়।
<span;>বিকেল পাঁচটায় স্কুল ছুটি হলে শত মেয়ের ভীড়ে তাঁরা মিনুকে খুঁজে নেয়। মিনুর যাত্রা পথের পিছু নেয়। চেংটু আর সজিব মিনুর আগে থেকে পরিচিতি। সে তাঁদেরকে ভাই বলে সম্বোধন করে। বাড়ি ফেরার যাত্রাপথে তাঁদের দু’জনকে পেয়ে মিনু বেশ নিশ্চিত মনে পথ চলতে শুরু করে। বাড়িও বেশ দূরে যেতে প্রায় সন্ধ্যা হবে। তিনজনে বেশ গল্প করতে করতে পথ চলছে। কিছুক্ষণ পরে মিনুর বোধ হলো কাল বৈশাখী ঝরের মতো কে যেন তাঁকে উড়ে নিয়ে গেল। চোখ খুলতেই
<span;>দেখতে পেল চেংটু আর সজিব। তাঁরা তাকে বাড়ির যাত্রাপথ থেকে দূরে নির্জন জায়গায় নিয়ে এসেছে। মিনুকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মিনুর গলা ফাটানো চিৎকার কেউ শুনতে পাচ্ছে না- “কে আছো বাঁচাও; কে আছো বাঁচাও। ও ভাইয়েরা আমি তোমার বোন । আমার ইজ্জত নষ্ট কর না। এই সমাজ আমাকে মেনে নিবে না; আমি বাঁচতে পারব না। মরণ ছাড়া আমার কোনো পথ নেই।” কিন্তু চেংটু আর সজিব তাঁদের লক্ষ্য থেকে পিছপা হলো না।

