কপাল

আশরাফ এখন ভীষণ একা। দু-চোখ খোলার পর থেকে সে পিতা মাতাকে দেখতে পায়নি। বৃদ্ধ দাদির হাতে বড় হচ্ছিল। তাঁর নয় বছর বয়সে দাদিও অজানা পথে পাড়ি জমায়। বিশাল পৃথিবীর বুকে আশরাফ এখন একা; শুধু একা নয় ভীষণ একা। দাদি চলে যাওয়ার পর থেকে তাঁকে সংগ্রাম করে বাঁচতে হয়। বাঁচার তাগিদে দৈনিক দুইশো টাকার বেতনে একটা চায়ের দোকানে সে কাজ নেয়। এই টাকার মধ্যে সে খাওয়া দাওয়া ও কিছু সঞ্চয় করেছিল। দুই বছরে তাঁর বেশকিছু সঞ্চয়ও হয়েছিল। এই সঞ্চয় যেন তাঁর দৈনিক বারো ঘণ্টার পরিশ্রমকে ভুলে দিয়েছিল। একসময় পার্শ্ববর্তী উলাপুর গ্রামে ‘সমবায় সমিতি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জানান দেয়,সেখানে টাকা রাখলে বছরান্তে কিছু মুনাফা দিবে। এই মুনাফার আশায় গ্রামের অনেকে সবকিছু বেচে টাকা জমা রাখতে শুরু করে। একসময় আশরাফের কানে এই খবর যায়। আশরাফের জীর্ণ বাড়ি; খড়ের চাল। বৃষ্টি এলে টিপটিপ করে জল গাড়িয়ে তাঁর শোয়ার খাটে পড়ে। আশরাফ ও স্বপ্ন দেখে, যে সঞ্চয় আছে তার অতিরিক্ত কিছু পেলে সে একটা টিনের ঘর তুলতে পারবে; সেই জমানো টাকা দিয়ে সে দুটো গরুও কিনবে। এই স্বপ্নের মধ্যে যেন সে বিভোর।এই আশায় সে সমবায় সমিতিতে টাকা জমা রাখে। কিন্তু এক বছর যাওয়ার পর সেই সমিতি টাকা নিয়ে উধাও হয়। কান্নায় ভেঙে পড়ে উলাপুর গ্রামের মানুষজন। আশরাফও ভেঙে পড়ে। দিনদিন তাঁর শরীর অবনতির দিকে যায়। শরীরে প্রতিদিন জ্বর লেগেই থাকে। সঞ্চয় হারানোর পর ওষুধ কেনার মতো টাকা তাঁর নেই। জ্বর সরানোর জন্য জলপট্টি দেওয়া ছাড়া তার অন্য কোনো উপায় থাকে না। এভাবে জলপট্টি দিয়ে আশরাফের জ্বর সরে কিন্তু তাঁর ভাগ্য আর সরে না!!
<span;>

