আইন থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণ কেনো বন্ধ হচ্ছে না

একথা স্বীকার্য যে, ধর্ষক সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্টতর জীব। তার ভিতর মনুষ্যত্ববোধের লেশটুকুও নেই। সমাজে তাকে সবাই ঘৃণার দৃষ্টিতেই দেখে। ধর্ষণ করলে যে শাস্তি হবে, রাষ্ট্রে সে আইনও আছে; তারপরও ধর্ষণ কেন থামছে না? প্রতিদিন খবরের কাগজে এক-দুটি ধর্ষণের খবর আসছে। এর প্রতিকার কোথায়?
ধর্ষণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আইন— নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০—এই আইনের ৯ নম্বর ধারায় ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ২০২০ সালে সংশোধনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের বিধান স্পষ্টভাবে সংযোজন করা হয়। আইন থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণ কিন্তু থামার নামগন্ধ নেই। অহরহ ধর্ষণ হওয়ার পেছনে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকেই সবচেয়ে মুখ্য কারণ বলে মনে করি। কেননা, এ দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীন নয়। শাসন বিভাগের নগ্ন হস্তক্ষেপে আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে ধর্ষকের মতো জঘন্য অপরাধীও খুব সহজে বেরিয়ে পড়ে খোলা হাওয়ায়, এবং আবারও সে এমন জঘন্য অপরাধ করে বেড়াতে পারে অবলীলায়। সম্প্রতি সময়ে ঘটা কয়েকটি ধর্ষণ ভয়াবহতার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ধর্ষণের বিচার চাওয়ার ফলে তুলে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণ এবং হত্যা!। পাবনার ঈশ্বরদীতে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে বৃদ্ধা দাদীকে হত্যার পরে দুর্বৃত্তরা ১৫ বছরের নাতনিকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের পর হত্যা করে।
সকালে দাদির মরদেহ বাড়িতে, নাতনির মরদেহ বাড়ির পাশে সরিষা ক্ষেত থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ধর্ষণ রোধের একমাত্র কার্যকর উপায় বলে আমি মনে করি, ধর্ষণ প্রমাণিত হলে ধর্ষককে জনসম্মুখে কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি দেওয়া উচিত। এটি ভবিষ্যৎ ধর্ষণকারী বা ধর্ষণের মনোভাব পোষণকারীদের জন্য ভীতির কারণ হবে। আইনের এমন কঠোর শাস্তির বাস্তবায়ন দেখলে ভবিষ্যতে কেউ ধর্ষণ করার সাহস পাবে না। শাস্তি যত দ্রুত এবং কঠোর হবে, সেটি তত বেশি প্রভাব ফেলবে সমাজে। ধীরস্থির ও আড়ালে হওয়া শাস্তিই ধর্ষকের মনে সাহসের সঞ্চার করে; সে ছাড়া পেয়ে আবার অপরাধ করে। এজন্যই — William Ewart Gladstone বলেছিলেন, “Justice delayed is justice denied।” অর্থাৎ, “বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে বিচার অস্বীকার করা।”
নোমান হোসাইন অনি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

