ঈদকার্ড যেন না হারায়

সকাল শুরু হয় সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করার প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে। এখন মানুষের সাথে সরাসরি আড্ডার চেয়ে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার প্রবণতা অনেক বেশি। প্রযুক্তির উৎকর্ষে আমরা হয়তো অনেক বেশি সংযুক্ত হয়েছি, তবে হৃদয়ের টান কি কোথাও কিছুটা ফিকে হয়ে যাচ্ছে ? আগে মানুষ মাইলের পর মাইল হেঁটে আত্মীয়ের বাড়ি যেত কেবল একটু দেখার জন্য, আর এখন ভিডিও কলেই সেই আনুষ্ঠানিকতা সেরে ফেলা হয়। কেনাকাটার ক্ষেত্রেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। মার্কেটে গিয়ে ভিড় ঠেলে জামা কেনার চেয়ে অনলাইনে অর্ডার করাই এখন বেশি স্বতিদায়ক। এই আধুনিকতা আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু উৎসবের সেই চিরাচরিত সামাজিক প্রাণচাঞ্চল্য যেন কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে। আগে ঈদের আনন্দ ছিল সামষ্টিক আর এখন তা অনেকটা আত্মকেন্দ্রিক ও প্রদর্শনমুখী হয়ে পড়েছে। তবে যুগের হাওয়া যেদিকেই প্রবাহিত হোক না কেনো, ঈদের মূল মাহাত্ম্য হলো সম্প্রীতি এবং সাম্য। সেকাল আর একালের এই পার্থক্যের মাঝেও যদি আমরা উৎসবের সেই প্রকৃত মানবিক মূল্যবোধ আর ত্যাগের শিক্ষা ধারণ করতে পারি, তবেই ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পাবে। উৎসব কেবল মাধ্যম বদলায়, কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার এই চিরন্তন ধারাটি চিরকাল অক্ষয় থাকা প্রয়োজন।
লেখক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত।

