ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেন যাত্রা পরিহার করুন

বাংলাদেশে যাতায়াতের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন মাধ্যম হলো ট্রেন।
বাংলাদেশ ট্রেন যাত্রা অত্যন্ত আরামদায়ক সত্ত্বেও অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করে থাকে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ এর অধিক জনগণের জন্য যে ট্রেন আছে , তা সংখ্যায় নগণ্য। জনগণের তুলনায় তা অপ্রতুল। অনেক সময় পর্যাপ্ত জায়গা না পেয়ে সাধারণ যাত্রীদের দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। অনেক তরুণ যুবক বিপদ জনক ভাবে ট্রেনের ছাদে উঠে থাকে, প্রায় সময় ট্রেনের ছাদে উঠতে গিয়ে অনেকে হাতে-পায়ে ব্যাথা পায়। আবার রেল লাইনের পাশে বিভিন্ন গাছপালা থাকার কারণে অনেকেই মাথায় আঘাত পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না হতে পারে। বিশেষত বিমান বন্দর রেল স্টেশনে অনেকে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যাত্রী ছাউনীর উপর দিয়ে, কাঁটা তারের বেড়া ডিঙিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠতে দেখা যায়। ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, অনিরাপদ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন, ১৮৯০ অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ । ছাদে ভ্রমণ করলে ট্রেনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে । এই অবৈধ কাজের জন্য অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড ১ বছর পর্যন্ত হতে পারে। ছাদে ভ্রমণকারীদের প্রায়শই ছিনতাইকারী বা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়, যা জীবনহানির কারণ হতে পারে।
বিশেষত দুই ঈদের সময়ে বিপুল পরিমাণে যাত্রী থাকার কারণে ট্রেনের উপর প্রচুর পরিমাণে চাপ থাকে। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচিত বছরে দুইটি ঈদে স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। সময়ের পরিবর্তনে জনসংখ্যা সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ, কিন্তু তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়েনি ট্রেনের সংখ্যা। রেলওয়ে পুলিশের উচিত যাতে কেউ ট্রেনের ছাদে উঠতে না পারে সার্বক্ষণিক টহল দেওয়া। আবার সাধারণ যাত্রীদের ট্রেনে যাতায়াত করার জন্য কখনো ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় প্রতিনিয়ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশাল জনসংখ্যার জন্য ট্রেনের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি করা উচিত। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মোঃ শরীফুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ।

