বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ফিচার / নিবন্ধ

পায়ে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার: তরুণ স্কাউটদের প্লাস্টিকমুক্ত সমুদ্রের অঙ্গীকার

Author

শাহাদাত হোসেন রাহাত , সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা

প্রকাশ: ১ এপ্রিল ২০২৬ পাঠ: ২০৫ বার

সমুদ্রকে প্লাস্টিকমুক্ত করার বার্তা নিয়ে ১৫০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে এক অনন্য পরিভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন সমতট মুক্ত স্কাউট গ্রুপ ও প্যাট্রিয়ট ওপেন স্কাউট গ্রুপের চারজন রোভার স্কাউট।

এই দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং যাত্রায় অংশ নেন সমতট মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সেবা স্তরের রোভার ফাতিন আহমেদ মাহী ও মাহিবুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ স্তরের মোঃ গোলাম রাব্বি এবং প্যাট্রিয়ট ওপেন স্কাউট গ্রুপের সেবা স্তরের রোভার শামসিল আরিফীন। ২৪শে মার্চ থেকে ২৮শে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত পাঁচ দিনের এই পরিভ্রমণ শুরু হয় সরকারী হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে এবং শেষ হয় কক্সবাজার জেলা পরিষদে গিয়ে।

পাঁচ দিনের এই যাত্রাপথ ছিল বৈচিত্র্যময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। তারা গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ, লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদ, চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ এবং রামু উপজেলা অতিক্রম করেন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে কাজ করেন।

এই পরিভ্রমণের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—

“আজকের সিদ্ধান্ত, প্লাস্টিক মুক্ত সমুদ্র।”

এই স্লোগানকে সামনে রেখে তারা শুধু হাঁটেননি, বরং বাস্তব উদ্যোগও গ্রহণ করেছেন। কক্সবাজারের সরকারি শিশু পরিবারে তারা প্লাস্টিকবিরোধী সচেতনতা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেন। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বার্তা রেখে যান।

শহরের ব্যস্ত সড়ক থেকে শুরু করে গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক পরিবেশ—সবখানেই তাদের পদচারণা ছিল দৃঢ়তার প্রতীক। এই দীর্ঘ যাত্রা শুধু শারীরিক সহনশীলতার পরীক্ষা নয়, বরং দায়িত্ববোধ, সামাজিক সচেতনতা এবং পরিবেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বর্তমান বিশ্বে প্লাস্টিক দূষণ একটি ভয়াবহ সমস্যা। সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে, আর এর প্রভাব সরাসরি মানুষের জীবনেও পড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে এই চার তরুণ স্কাউটের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তারা প্রমাণ করেছেন—পরিবর্তনের জন্য বড় প্ল্যাটফর্ম নয়, দরকার বড় মন ও সঠিক উদ্যোগ।

স্কাউটিং কেবল একটি কার্যক্রম নয়, এটি একটি সমাজসেবামূলক উদ্যোগ। সেই উদ্যোগ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে এই চারজন তরুণ দেখিয়ে দিলেন, কিভাবে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

এই ১৫০ কিলোমিটারের পদযাত্রা হয়তো সংখ্যায় ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু এর বার্তা অনেক বড়। এটি আমাদের সবাইকে মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতি রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। আজকের ছোট ছোট পদক্ষেপই আগামী দিনের বড় পরিবর্তনের ভিত্তি গড়ে তোলে।

এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দেশের তরুণ সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে থাকবে।

লেখক: সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!