বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

শিক্ষার্থী জীবনে সঞ্চয় ও বাজেট করার কৌশল।

Author

শাহাদাত হোসেন রাহাত , সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পাঠ: ১৫৬ বার

শিক্ষার্থী জীবনে অর্থের সীমাবদ্ধতা খুবই স্বাভাবিক। অনেক সময় টিউশন ফি, বই, খাবার, যাতায়াত—এই সব খরচ মিলে আয় শেষ হয়ে যায় মাসের মাঝেই। তাই সঠিক বাজেট করা জরুরি।

শিক্ষার্থী জীবন মানেই সীমিত আয়, অসীম চাহিদা। পরিবারের উপর নির্ভরশীলতা কিংবা টিউশনি বা পার্টটাইম কাজের অল্প আয়ে চলতে গিয়ে অনেকেই বুঝতে পারে—সঞ্চয় শুধু ভবিষ্যতের জন্য নয়, বর্তমানের নিরাপত্তার জন্যও জরুরি। তাই শিক্ষার্থী জীবনে বাজেট করা এক ধরনের জীবনদক্ষতা। মাসের শুরুতেই মোট আয়ের একটি তালিকা করে নেওয়া উচিত এবং খরচগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে—প্রয়োজনীয় (ভাড়া, খাবার, যাতায়াত, বই), গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য (ইন্টারনেট, মোবাইল রিচার্জ, কোচিং) এবং অপ্রয়োজনীয় (ফাস্টফুড, ক্যাফে আড্ডা, হঠাৎ কেনাকাটা, অনলাইন শপিং)। এতে খরচের চিত্র স্পষ্ট হয়। ছোট একটি খাতা বা মোবাইল নোটে প্রতিদিনের খরচ লিখে রাখলে মাস শেষে বোঝা যায় কোথায় অপচয় হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আয়ের অন্তত ১০ শতাংশ সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুললে ভবিষ্যতে বড় সিদ্ধান্ত নিতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

সঞ্চয় মানেই শুধু ব্যাংকে টাকা রাখা নয়; এটি সচেতন সিদ্ধান্তের ফল। শিক্ষার্থীরা চাইলে ব্যাংকে সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আলাদা করে টাকা জমাতে পারে। অপ্রত্যাশিত খরচ—হঠাৎ অসুস্থতা, অতিরিক্ত শিক্ষাসামগ্রী বা জরুরি ভ্রমণ—এসব পরিস্থিতিতে এই সঞ্চয় বড় সহায়ক হয়। পাশাপাশি অযথা ঋণ বা ধার করার প্রবণতা কমাতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষার্থী জীবনে গড়ে ওঠা আর্থিক শৃঙ্খলাই ভবিষ্যতের স্থিতিশীল জীবনের ভিত্তি। আজকের ছোট সঞ্চয়ই আগামী দিনের বড় স্বপ্নের পুঁজি।

 

লেখক: শাহাদাত হোসেন রাহাত

শিক্ষার্থী, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ, সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা

লেখক: সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!