শিক্ষার্থীদের কলমে গণমাধ্যম ভাবনা
শিক্ষার্থীদের কলমে গণমাধ্যম ভাবনা
গণমাধ্যমকে বলা হয় সমাজের দর্পণ; তবে বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে এটি কেবল প্রতিফলক নয়, বরং জনমতের এক শক্তিশালী কারিগর। ৩ মে *‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’* আমাদের এই সত্যটিই স্মরণ করিয়ে দেয় যে—তথ্যের অবাধ প্রবাহ ছাড়া গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হওয়া অসম্ভব। একজন শিক্ষার্থীর চোখে গণমাধ্যম কেবল সংবাদের উৎস নয়, বরং এটি আমাদের মনন গঠন ও বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার অন্যতম প্রভাবক।
চলন্ত প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের পরিধি সংবাদপত্রের পাতা পেরিয়ে ডিজিটাল স্ক্রিনে আছড়ে পড়েছে। চোখের সামনে ভাসে দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া নানাবিধ ঘটনা। তথ্য এখন আমাদের হাতের মুঠোয়, কিন্তু এই প্রাচুর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে ‘তথ্য-বিভ্রাট’ বা মিস-ইনফরমেশনের ঝুঁকি। একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সমান্তরালে নৈতিকতার চর্চা এখন সময়ের দাবি। সস্তা জনপ্রিয়তার দৌড়ে সত্য যেন চাপা না পড়ে এবং বস্তুনিষ্ঠতা যেন ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে মাথা নত না করে—সেটি নিশ্চিত করাই হোক এই দিবসের অঙ্গীকার।
ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের মতপ্রকাশের অবারিত সুযোগ করে দিয়েছে। তবে এই ‘সিটিজেন জার্নালিজম’-এর যুগে তথ্যের সত্যতা যাচাই বা ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ অত্যন্ত জরুরি। কেননা যে কেউ সত্য মিথ্যা যাচাই-বাছাই না করে তুলে ধরছে তার মতামত ।আমরা এমন এক প্রজন্ম, যারা তথ্যের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি; তাই আমাদের দায়িত্ব হলো কেবল ভোক্তা না হয়ে একজন ‘সচেতন বিশ্লেষক’ হওয়া। গুজব প্রতিরোধ এবং যুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের কলম ও কণ্ঠ হোক অগ্রগামী।
একটি স্বাধীন ও নির্ভীক গণমাধ্যমই পারে রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা—গণমাধ্যম হবে সত্যের অতন্দ্র প্রহরী। যেখানে বস্তুনিষ্ঠতা হবে অলঙ্কার এবং জনস্বার্থ হবে একমাত্র লক্ষ্য। আগামীর সুন্দর, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে মুক্ত গণমাধ্যম ও সচেতন শিক্ষার্থীদের এই মেলবন্ধনই হোক আমাদের মূল শক্তি।ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এখানে যে কেউ মত প্রকাশ করতে পারে, যা ইতিবাচক দিক হলেও এর অপব্যবহারও কম নয়। তাই স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন তেমনি দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতার চর্চা জরুরি।
একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই পারে একটি সুস্থ, সচেতন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে। আর সেই পথচলায় শিক্ষার্থীদের ভূমিকা হবে সচেতনতা, সত্যের পক্ষে অবস্থান এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশীদার হওয়া।
মোহাম্মদ সামির হোসেন
শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সেশন ২৪ ২৫
