বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ

Author

মোঃ আরিফুল ইসলাম রাফি , জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৬ পাঠ: ৩৩ বার

রাত নামলে শহর যেন অন্য এক সত্তায় জেগে ওঠে। বাইরে থেকে তাকালে মনে হয়, এখানে কেউ থামে না, কেউ হারায় না, সবাই যেন নিজের স্বপ্নের দিকে ছুটছে। এই শহরে নারী আছে, সর্বত্র আছে; বাসে, অফিসে, বাজারে, ফুটপাতে, গার্মেন্টসে, বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে, এমনকি সেই আলো ঝলমলে কাঁচের ভবনের ভেতরেও। তবুও তারা যেন পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। তাদের উপস্থিতি আছে, কিন্তু স্বীকৃতি নেই; তাদের শ্রম আছে, কিন্তু মূল্য নেই; তাদের স্বপ্ন আছে, কিন্তু তার জন্য জায়গা নেই।

ভোরের আজানের আগেই শহরের বহু নারীর দিন শুরু হয়ে যায়। কেউ রান্নাঘরে চুলা জ্বালান, কেউ ঘুমন্ত সন্তানের পাশে বসে স্কুলের পোশাক গুছিয়ে রাখেন, কেউবা দ্রুত পায়ে হাঁটতে থাকেন বাসস্ট্যান্ডের দিকে। দিনের প্রথম বাসটি ধরতে না পারলে হয়তো চাকরিতে দেরি হবে, কর্তৃপক্ষের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, কিংবা দিনের মজুরির একটি অংশ কেটে নেওয়া হবে। তাই সূর্য ওঠার আগেই তাদের ছুটে চলা শুরু হয়। শহর তখনও পুরোপুরি জেগে ওঠেনি, অথচ তাদের যুদ্ধ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

ঢাকার ব্যস্ত সড়কে সকাল আটটার ভিড় যেন এক অদ্ভুত আয়না। সেই আয়নায় দেখা যায় শত শত নারীকে; কারও হাতে অফিস ব্যাগ, কারও কাঁধে ল্যাপটপ, কারও হাতে টিফিন ক্যারিয়ার, আবার কেউ গার্মেন্টস কারখানার ইউনিফর্ম পরে ছুটছেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। তাদের মুখে ক্লান্তি আছে, কিন্তু সেই ক্লান্তির চেয়ে বড় তাদের দায়িত্ববোধ। তারা জানেন, আজকের দিনটি শুধু নিজের জন্য নয়; পরিবারের জন্য, সন্তানের জন্য, বাবা-মায়ের জন্য, এমনকি দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু এই দৃশ্যের আরেকটি অদৃশ্য দিকও আছে। প্রতিদিন কর্মস্থলে পৌঁছানোর আগে একজন নারীকে যে মানসিক প্রস্তুতি নিতে হয়, তা অনেক সময় পুরুষ সহকর্মীদের কল্পনারও বাইরে। নিরাপদে পৌঁছাতে পারবেন তো? গণপরিবহনে অশোভন আচরণের শিকার হতে হবে না তো? অফিসে নিজের যোগ্যতার বদলে অন্য কোনো পরিচয়ে বিচার করা হবে না তো? এই প্রশ্নগুলো তাদের প্রতিদিনের নীরব সঙ্গী। অথচ একই শহরের ব্যস্ততায় এসব প্রশ্ন খুব কমই আলোচনায় আসে।

একসময় সমাজে প্রচলিত ছিল নারীর স্থান ঘরে, আর পুরুষের স্থান বাইরে। সময় সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি ভেঙে দিতে পারেনি। আজ বাংলাদেশের নারীরা ঘর ও বাইরের মধ্যকার সেই কৃত্রিম দেয়াল অতিক্রম করেছেন। তারা শুধু চাকরি করছেন না; তারা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, নতুন ব্যবসা গড়ে তুলছেন, গবেষণা করছেন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন, আদালতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করছেন, হাসপাতালে জীবন বাঁচাচ্ছেন, শ্রেণিকক্ষে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলছেন। দেশের উন্নয়নের প্রতিটি বড় অর্জনের পেছনে তাই নারীর পরিশ্রম নীরব হলেও অনস্বীকার্য।

বাংলাদেশের অর্থনীতির দিকে তাকালেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পোশাকশিল্পের কারখানাগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার নারী নিজেদের শ্রমে এমন এক অর্থনৈতিক শক্তি তৈরি করছেন, যার ওপর দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ নির্ভরশীল। দীর্ঘ সময় ধরে একই মনোযোগে কাজ করে তারা শুধু একটি পোশাক তৈরি করেন না; তৈরি করেন একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি সন্তানের শিক্ষার খরচ, একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার। অথচ তাদের অনেকের নাম আমরা জানি না। তারা সংবাদপত্রের শিরোনাম হন না, ইতিহাসের পাতায় আলাদা জায়গা পান না। কিন্তু দেশের অর্থনীতির প্রতিটি ইতিবাচক পরিসংখ্যানে তাদের ঘাম নীরবে মিশে থাকে।

শুধু শিল্প খাত নয়, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামেও বদলে গেছে নারীর পরিচয়। যে নারী একসময় নিজের মতামত প্রকাশ করতেও সংকোচ বোধ করতেন, তিনিই আজ কৃষিকাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, হাঁস-মুরগি ও মাছের খামার পরিচালনা করছেন, ক্ষুদ্র ব্যবসা করছেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিজ হাতে তৈরি পণ্য বিক্রি করছেন। প্রযুক্তি তাদের হাতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। একটি স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট সংযোগ অনেক নারীর জীবনের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। এখন গ্রামের একজন নারীও নিজের পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলায় কিংবা বিদেশে বসবাসকারী ক্রেতার কাছেও পৌঁছে দিতে পারছেন।

তবুও ক্ষমতায়নের এই গল্প একরৈখিক নয়। অগ্রগতির পাশাপাশি রয়েছে বৈষম্যের দীর্ঘ ছায়া। প্রকৃত ক্ষমতায়ন তখনই সম্ভব, যখন একজন নারী নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারবেন, নিজের স্বপ্নকে নিজের মতো করে গড়ে তুলতে পারবেন, নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারবেন এবং তার যোগ্যতার স্বীকৃতি পাবেন। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কিন্তু সেটিই শেষ নয়। সম্মান, নিরাপত্তা, সমতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার; এই চারটি স্তম্ভ ছাড়া কোনো ক্ষমতায়নই পূর্ণতা পায় না।

বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে নারীর উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। মেয়েদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ বেড়েছে, মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে, কর্মক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু এই অর্জনের পাশাপাশি নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের যুগে প্রয়োজন নতুন দক্ষতা, নতুন শিক্ষা এবং নতুন মানসিকতা। যদি নারীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন, তবে উন্নয়নের গতি একসময় থেমে যাবে। কারণ দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে কোনো রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে যেতে পারে না।

তাই নারীর ক্ষমতায়ন কেবল নারীর ইস্যু নয়; এটি জাতীয় উন্নয়নের প্রশ্ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশ্ন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রশ্ন। একজন নারী যখন কর্মক্ষেত্রে নিজের জায়গা তৈরি করেন, তখন শুধু একটি পরিবারের আয় বাড়ে না; বদলে যায় একটি প্রজন্মের চিন্তা, বদলে যায় সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি। একটি শিক্ষিত, আত্মবিশ্বাসী ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নারী আসলে একটি শক্তিশালী জাতির ভিত্তি নির্মাণ করেন।

এই পরিবর্তনের গল্প তাই কেবল পরিসংখ্যানের নয়; এটি মানুষের গল্প। এটি সেই মায়ের গল্প, যিনি নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। এটি সেই পোশাকশ্রমিকের গল্প, যিনি প্রতিদিনের কষ্টের মধ্যেও সন্তানের হাতে বই তুলে দিয়েছেন। এটি সেই নারী উদ্যোক্তার গল্প, যিনি শত বাধা পেরিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়েছেন। এটি সেই চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী, কৃষক, ব্যাংকার, সাংবাদিক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তার গল্প, যারা প্রতিদিন প্রমাণ করছেন সুযোগ পেলে নারীর সক্ষমতার কোনো সীমা নেই।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়নের পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে সমাজের প্রচলিত ধারণা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা এবং কুসংস্কার নারীদের সম্ভাবনাকে চার দেয়ালের মধ্যে আটকে রেখেছিল। মেয়েদের শিক্ষার প্রয়োজন নেই, সংসারই তাদের একমাত্র কর্মক্ষেত্র, এমন বিশ্বাস বহু পরিবারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে এসেছে। ফলে অসংখ্য প্রতিভাবান নারী নিজের স্বপ্ন দেখার সুযোগই পাননি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করে। শিক্ষার প্রসার, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, সামাজিক সচেতনতা এবং নারীদের নিজস্ব সংগ্রাম এক নতুন বাংলাদেশের জন্ম দেয়, যেখানে নারী আর কেবল পরিবারের সদস্য নন; তিনি একজন কর্মী, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং পরিবর্তনের কারিগর।

এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল শিক্ষা। শিক্ষা একজন নারীকে শুধু বইয়ের জ্ঞান দেয় না; তাকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেয় এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। আজ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার নারী নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। যে মেয়েরা একসময় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতেই ভয় পেতেন, তারাই আজ গবেষণাগারে নতুন উদ্ভাবনের অংশ হচ্ছেন, আদালতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করছেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরছেন।

অর্থনীতির ভাষায় নারীর অবদান পরিমাপ করা যায় পরিসংখ্যান দিয়ে, কিন্তু বাস্তবতার ভাষায় তা পরিমাপ করা যায় মানুষের জীবন বদলে যাওয়ার গল্প দিয়ে। একটি পোশাক কারখানায় কাজ করা একজন নারীর মাসিক আয় হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু সেই আয় দিয়েই গ্রামের ছোট ভাইয়ের পড়াশোনা চলে, বাবার চিকিৎসা হয়, মেয়ের স্কুলের ফি জমা দেওয়া হয়। একটি ছোট বেতন কখনো কখনো একটি পরিবারের ভাগ্য বদলে দেয়। তাই কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি সামাজিক পরিবর্তনেরও অন্যতম ভিত্তি।

তবে এই ইতিবাচক পরিবর্তনের মধ্যেও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বাড়লেও নেতৃত্বের উচ্চ পর্যায়ে তাদের উপস্থিতি এখনো তুলনামূলক কম। অনেক প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে নারীদের সংখ্যা হাতে গোনা। এর একটি বড় কারণ হলো দীর্ঘদিনের সামাজিক বৈষম্য এবং সুযোগের অসম বণ্টন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক নারী প্রয়োজনীয় সহায়তা, প্রশিক্ষণ কিংবা উৎসাহ পান না। ফলে মাঝপথেই অনেক সম্ভাবনা থেমে যায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অদৃশ্য শ্রম। একজন কর্মজীবী নারী অফিস থেকে ফিরে যে গৃহস্থালির কাজ করেন, তার কোনো আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয় না। রান্না, সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা, অসুস্থ মানুষের সেবা; এসব কাজ সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেগুলোকে এখনো ‘স্বাভাবিক দায়িত্ব’ হিসেবে দেখা হয়। ফলে একজন নারী একই দিনে দুটি পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করেও অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পান না।

কর্মক্ষেত্রে সমান কাজের জন্য সমান পারিশ্রমিক নিশ্চিত করাও এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনলেও সর্বত্র একই চিত্র দেখা যায় না। যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সমান হওয়া সত্ত্বেও অনেক নারী কাঙ্ক্ষিত বেতন বা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হন। আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সময়ও অনেক প্রতিষ্ঠানে নারীর সক্ষমতার চেয়ে তার পারিবারিক দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেন একজন নারীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে তার দক্ষতা নয়, বরং তিনি মা হবেন কি না, পরিবারকে কত সময় দেবেন, এমন প্রশ্ন।

তবে আশার কথা হলো, এই চিত্র ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এখন নারীরা গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন। বিচার বিভাগ, প্রশাসন, কূটনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, ব্যাংকিং, সশস্ত্র বাহিনী এবং উদ্যোক্তা খাতে নারীদের সফল উপস্থিতি নতুন প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। ছোট ছোট মেয়েরা এখন স্বপ্ন দেখে শুধু শিক্ষক বা চিকিৎসক হওয়ার নয়; তারা বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা, বিচারপতি কিংবা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়ার স্বপ্নও দেখে।

রাত যত গভীর হয়, শহরের আলো তত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সেই আলোয় আমরা প্রতিদিন হাজারো নারীকে দেখি, কেউ দ্রুত পায়ে বাস ধরছেন, কেউ হাসপাতালের করিডোরে রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ অফিসের শেষ ফাইলটি গুছিয়ে বাড়ি ফিরছেন, কেউ আবার সন্তানের ঘুম ভাঙার আগেই পরদিনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের গল্পে নেই অতিনাটকীয়তা, নেই বড় বড় শিরোনাম; আছে শুধু নীরব দায়িত্ব, অদম্য সাহস এবং অবিরাম পথচলা।

হয়তো একদিন এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে কোনো মেয়েকে নিজের স্বপ্নের জন্য লড়তে হবে না; তাকে শুধু নিজের মেধা, পরিশ্রম ও সততার পরিচয় দিতে হবে। যেখানে কর্মক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি আর আলোচনার বিষয় হবে না, কারণ সেটাই হবে স্বাভাবিক। যেখানে ক্ষমতায়ন কোনো প্রকল্পের নাম হবে না, বরং প্রতিটি নাগরিকের প্রতিদিনের বাস্তবতা হবে।

সেদিন রাতের শহরকে নতুন করে দেখার প্রয়োজন হবে না। কারণ তখন শহরের প্রতিটি আলো শুধু ভবনের কাঁচে নয়, প্রতিটি নারীর চোখেও সমান উজ্জ্বল হয়ে জ্বলবে। আর সেই আলোই হবে একটি সমতাভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

লেখক: সদস্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!