বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

ইতিহাসের টানে অজানা গল্পে প্রভঞ্জন-৫ শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে

Author

রূপালী আক্তার , Islamic University

প্রকাশ: ২ এপ্রিল ২০২৫ পাঠ: ২৪ বার

ইতিহাসের টানে অজানা গল্পে প্রভঞ্জন-৫ শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির পথে

রূপালী আক্তার,ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সরকারি কাজ বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সফল হলেও বন্ধুমহলে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন।বন্ধুমহলে হঠাৎ করা পরিকল্পনা সবচেয়ে বেশি সফল হয়।ঠিক তেমনি,সফল হয়েছিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের, প্রভঞ্জন-৫ এর রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি ভ্রমণ পরিকল্পনা।

সময়টা ৪ ডিসেম্বর২০২৫, বৃহস্পতিবার। স্বভাবতই ইবির সাপ্তাহিত সাধারণ ছুটির দিন।সেদিন সকালে,ঘুম জড়ানো চোখ আধো আধো খুলে দেখছিলাম সূয্যি মামা কি আজ দেখা দিবে? হয়তো প্রকৃতিও আমাদের সঙ্গ চাইছিল।সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়েছিল ধরনী।তখনও কম্বল জরিয়ে ঘুমিয়ে আছি।হঠাৎ ফোনে মেসেজের টুং টাং শব্দে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। প্রভঞ্জন-৫ এর সদস্যরা অনলাইনে কথা বলছে।বিষয় হলো কোথাও ঘুরতে যাওয়া।তার আরও একটি কারণ হলো ডিসেম্বরের ১৭ তারিখ থেকে পরীক্ষা।পরীক্ষার আগে মুড ফ্রেশ হওয়া দরকার।হঠাৎ সিদ্ধান্ত হলো,কুষ্টিয়ার শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি যাবো।যেমন পরিকল্পনা তেমন কাজ।

আমাদের মাঝে বেশির ভাগ ক্যাম্পাসে এবং কিছু সংখ্যক কুষ্টিয়া শহরে থাকে।সবাই তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে গিয়েছি।ক্যাম্পাসের সবাই রওনা দিয়ে কুষ্টিয়া শহরে আসলো এবং চৌড়হাস মোড়ে সকলের সাক্ষাৎ হলো।রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি যাওয়ার জন্য অটো রিজার্ভ করা হলো। ২ টি অটোতে মোট ১১ জন। গাড়িতে ওঠেই শুরু হলো গানেন আড্ডা,গল্প, হৈ-হুল্লোড়।১:২০ এ আমরা রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি পৌছে গিয়েছি।

১১ জনের ১১ টি টিকেটের বিকল্পে ৬ টি টিকেট কেটে আমরা প্রবেশ করি রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে।ভাবছেন ৬ টি টিকেটে কিভাবে? চলুন জেনে আসি।কিছুদিন আগে বান্ধবীকে কুষ্টিয়া কোর্টে রিসিভ করতে গিয়েছিলাম।স্টেশনের পাশের দোকানে একটি ব্রেসলেট পছন্দ হয়।কিন্তু বিক্রেতা না থাকায় কিনতে পারিনি।যাইহোক,৩ ডিসেম্বর সেই দোকান থেকে ব্রেসলেট কিনে নিয়ে আসি এবং দোকানের মালিকের সাথে পরিচয় হয়।ওনার রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির সামনেও দোকান আছে।শিক্ষার্থীদের ১০ টাকা বেচে যাওয়া মানেই হাজার টাকা বেঁচে যাওয়া। তখন সবাইকে দাড় করিয়ে আমরা আঙ্কেলকে খুজতে থাকলাম। পেয়েও গেলাম।পরিচয়ের কারণে টাকা কিছুটা বেঁচে গিয়েছিলে।এই হলো ৬ টি টিকেটের রহস্য।

টিকেট কেটে ভিতরে প্রবেশের সাথে সুন্দর এক অনুভূতি হলো।প্রথমে সবাই সম্পূর্ণ জায়গাটা ঘুরে দেখছি।দর্শনার্থী,পর্যটক,শিক্ষার্থী ও পারিবারিক সদস্যের ভিড় ছিল।যখন জাদুঘরের ভিতরে প্রবেশ করি, মনে হয়েছিল জীবনের অন্য একটি রাজ্যে চলে এসেছি।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি,ব্যবহৃত জিনিসপত্র, গল্প,কবিতা,গান,দর্শনীয় কিছু স্থানের ছবি দেওয়ালে সেঁটে দেয়া ছিল।পারিবারিক জমিদারি কাজ তদারকির জন্য শিলাইদহে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছিলেন তিনি।তার সাহিত্যের স্বর্ণযুগ বলা হয় এই সময়টিকে।এই কুঠিবাড়িতে বসেই তিনি বহু অমর সাহিত্যকর্ম রচনা করেন যেমন- গীতাঞ্জলি, সোনার তরি,চিত্রা সহ চিঠি,গান, কবিতা।

গ্রামের মানুষ, প্রকৃতি ও নদীজীবন কবির চিন্তা ও
লেখায় গভীর প্রভাব ফেলে।কুঠিবাড়ির চারপাশের সুন্দর বাগান ও পদ্মা নদীর মনোরম দৃশ্য আমাদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছিল।আমরা যেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে মিশে গিয়েছিলাম।কারোরই যেন বাড়ি ফেরার কেনো তাড়া ছিল না।কিন্তু ফিরতে তো হবেই। ফেরার আগে আমরা অনেক কিছু কিনেছিলাম বাইরের দোকানগুলি থেকে।বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা করে মনে হলো নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করা দরকার।তাই চলে গিয়েছিলাম হরিপুর ব্রিজে।নদীর পানির টলটলে জলের শব্দ ও পাড়ের সৌন্দর্য যেন ছুয়ে দিয়েছিল সবাইকে।আনন্দভরা মন ও ক্লান্ত দেহ নিয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরে এসেছি।এভাবেই একটি সাধারণ দিন প্রভঞ্জন-৫ এর সদস্যদের কাছে অসাধারণ হয়ে উঠেছিল।

রূপালী আক্তার
শিক্ষার্থী, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ,ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

লেখক: সম্পাদকীয় পর্ষদ সদস্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।