বৈশাখে দুঃখের জমিদারি
বৈশাখে দুঃখের জমিদারি
— নুসরাত জাহান জেরিন
বৈশাখ এলেই মনে পড়ে যায়—
গ্রাম বাংলার চিরচিরায়িত সংস্কৃতি ফেলে আসা শৈশব কৈশোরের কথা,
মনে পড়ে যায়—
সোনালী দিনের গিরস্তি বাড়ির সেই উঠোন আমার উদোম মনের বেখেয়ালিপনা,
মনে পড়ে যায়—
বয়েসী পরিশ্রমি দাদার ধান কাটা শেষে বাড়ি ফেরা, রোদে পোড়া বৃষ্টি ভেজা শরীর, রোপিত ফসলের স্বপ্ন ভরা দ্যুতিময় দু’চোখ,
চোখে ভেসে উঠে—
ফসলি জমি থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে কাঁঠাল গাছের নিচে দাদার ক্লান্ত শরীর হেলান দিয়ে বসা,
মনে পড়ে যায়—
লবণ পানি খাওয়ানোর জন্য দাদী শিখায় তুলে রাখা, ফুল তোলা কাচের গ্লাস নিয়ে কাছে যাওয়া আর শাড়ীর আঁচলে ঘাম মুছে দেওয়ার মধুর সময়।
বৈশাখে-ই মনে পড়ে যায়—
উঠোনের মাঝে ছড়ানো ফসলে হাসি আনন্দে, মলম মাড়ানোর ঘুর্ণিতে আমার ছুটে চলা।
ধানের বুনো গন্ধ গায়ে মেখে, আমার নানা অবুঝ খেলা।
বৈশাখে-ই মনে পড়ে যায়—
চারমুখো মাটির চুলার আগুনের ধোঁয়া যেন
অগ্নিগিরির মাঝখান থেকে চারটি ছোট্ট আদরে টিলা, সেই আগুনের ধোয়ায় সুন্দরী দাদীর দুধে আলতা মুখ গোলাপী আভায় যেন অপ্সরা। দাদুর চোখে অন্ন সম্ভারের সুখদৃষ্টি, কষ্টের মাঝেও যেন তৃপ্তির হাসি। এমন ধানসিদ্ধ করার আমেজে সন্ধ্যা রাতে মাদুর পেতে উঠোনে বসে কিচ্ছার আসর আর ঝড়ের তাণ্ডবের শংকার মধ্যেও রৌদ্রজ্জ্বল দিনের আশায় আকাশের গতিবিধি বারবার দেখা।
মনে পড়ে যায়—
সূর্যোদয় উঠোনে, পাতিভরা সোনালী ধান ছড়িয়ে দেওয়ার কথা মনে পড়ে যায় আরো কত কি!
পাউড়ি হাতে নিয়ে ধান শুকানোর বেলায় দুষ্টুমি,
আমার আলতা পড়া পা ডুবে যেতো রোদ মাখা উঠানের ছেঁকে যাওয়া ধানের ভেতরে।
স্মৃতির পাতায় সেই উঠোনে—
আমি এখন দাদা-দাদী আর শৈশব হারানোর ব্যথায় সোনালী ধানের বদলে, বিরহ আর দুঃখকে গোলায় রাখি।
একমাত্র!
একমাত্র বৈশাখে-ই করি দুঃখের জমিদারি।।
লেখক পরিচিতি-
নামঃ নুসরাত জাহান জেরিন
ঠিকানাঃ দক্ষিণ মৌড়াইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
মোবাইলঃ 01715673007
ইমেইলঃ nusratjahanjarin746@gmail.com
