বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

ঈদকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ানোর প্রবণতা কতটা ন্যায়সঙ্গত?

Author

তারেক আল মুনতাছির , কক্সবাজার সরকারি কলেজ

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৫ পাঠ: ১৮১ বার

তারেক আল মুনতাছির ▷

ঈদ বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে একটি। এই সময়ে দেশের সর্বত্র আনন্দ ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। ঈদকে কেন্দ্র করে পোশাক, খাদ্যপণ্য, ইলেকট্রনিক্স, গৃহস্থালী সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার লোভে পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করে থাকেন, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক দেশের বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সে ঈদের নানান পণ্যে সামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি প্রয়োজন।

প্রথম আলো’র একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঈদ উপলক্ষে পোশাক, খাদ্যপণ্য, এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। এমন পরিস্থিতিতে, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত বাজার তদারকি বৃদ্ধি করা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। দ্য ডেইলি স্টার’র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদের সময় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে, ফ্যাশন ও পোশাক শিল্পে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বাজার তদারকির অভাব এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণের কার্যকর নীতিমালার অভাবে এই সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সময় খাদ্যপণ্যের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে, মাংস, দুধ, চিনি, এবং ফলমূলের দাম এই সময়ে বেড়ে যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বাজার মনিটরিং বৃদ্ধি করা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

ঈদসহ যেকোনো উৎসবের আগে কাপড়ের দোকানগুলোতে দাম বাড়ানোর প্রবণতা ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যায়। ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে সাধারণ পোশাকেও নতুন ট্যাগ লাগিয়ে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে। বিশেষ করে শপিং মল, ব্র্যান্ড শোরুম এবং নামীদামি দোকানগুলোতে এই কৌশল বেশি দেখা যায়। তারা পুরোনো স্টকের পোশাকের ওপর নতুন করে “এক্সক্লুসিভ কালেকশন” বা “ঈদ স্পেশাল” ট্যাগ লাগিয়ে দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। একই পোশাক, যা কয়েক সপ্তাহ আগে কম দামে বিক্রি হচ্ছিল, সেটিই ঈদের বাজারে নতুন নামে প্রচার করে বেশি দামে বিক্রি করা হয়।

এছাড়া, কিছু দোকান পোশাকের ট্যাগ পরিবর্তন করে বেশি দামে বিক্রির কৌশল নেয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো পোশাকের মূল দাম যদি ১২০০ টাকা হয়, তাহলে নতুন করে ১৮০০ বা ২০০০ টাকার ট্যাগ লাগিয়ে সেটি “ডিসকাউন্ট” দিয়ে বিক্রি করা হয়, যা আসলে আগের মূল্যের চেয়েও বেশি। এতে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হন এবং অনেকে না বুঝেই উচ্চমূল্যে কাপড় কিনতে বাধ্য হন। এ ধরনের দোকানগুলো সাধারণত একই পণ্যের জন্য উৎসবের আগে ও পরে ভিন্ন দাম রাখে। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো পোশাকেও নতুন ট্যাগ লাগিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হয়। ফলে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হন।

ঈদ বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে তদারকি বৃদ্ধি করার জন্য কিছু সুপারিশ করা যেতে পারে। সরকারের উচিত স্থানীয় প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা, যারা নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করবে এবং মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। প্রতিটি দোকানে পণ্যের মূল্য তালিকা সুস্পষ্টভাবে প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোক্তারা সহজেই পণ্যের দাম সম্পর্কে জানতে পারেন। এবং পন্যের ক্রয়ের রশিদ পত্র ও বিক্রয়ের রশিদ পত্র মজুদ রাখতে হবে যেনো বিশেষ অভিযানে তা প্রদর্শন করতে পারে। মূল্য বৃদ্ধি বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে অন্যরা এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকে। আমাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে জানেন এবং কোনো অনিয়ম দেখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারেন।

এই ধরনের কারসাজি রোধে বাজার মনিটরিং বাড়ানো জরুরি। সরকার ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্রেতাদেরও সচেতন হতে হবে, ট্যাগের পরিবর্তন লক্ষ করা, বাজার দর যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে দামের বিষয়ে দোকানির সঙ্গে দর কষাকষি করা উচিত। শপিং করার আগে অনলাইনে দাম তুলনা করাও একটি ভালো উপায় হতে পারে। এতে প্রতারণার সম্ভাবনা কমবে এবং বাজারে ন্যায্য মূল্য বজায় থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করি

 

দৈনিক ঐশী বাংলা, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, কক্সবাজার সরকারি কলেজ।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে দৈনিক ঐশী বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!