জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সংকট

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট

বরকত আলী
২০১৮-১৯ সেশনে যখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে ভর্তি হই তখন সেশনজট অনেকাংশে কমে গিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে ২ মার্চ ২০১৯ সালে শিক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এখন দ্রুতগামী ট্রেন বা দ্রুতগামী আন্তঃনগর ট্রেন’। বিভিন্ন দৈনিকে এ সংবাদ দেখে আনন্দিত হয়েছিলাম। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) চার বছর মেয়াদি কোর্স। সে হিসাবে ২০২২ সালে স্নাতক পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা; কিন্তু করোনা মহামারির জন্য তা আর সম্ভব হয়নি। তবে ঢাকা, রাজশাহী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা মহামারি-পরবর্তী সময়ে নানারকম উদ্যোগ নিয়ে সেশনজট কমিয়ে আনে এবং ২০১৮-১৯ সেশনের স্নাতক (সম্মান) কোর্স শেষ করে। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ সময়ে মন্থর গতিতে কার্যক্রম চালানোর ফলে সেশনজটের কবলে পড়ে। ফলে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একই সেশনের বন্ধুরা যখন স্নাতক শেষ করে স্নাতকোত্তর করছে বা চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমরা তখন কবে স্নাতক শেষ করতে পারব, তা নিয়ে ভাবছি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ২১০ দিন ক্লাস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিভিন্ন কলেজের বোর্ড পরীক্ষা, ইনকোর্স পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কারণে গড়ে মাত্র ৫০ দিনের বেশি ক্লাস হয় না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস বা পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও নানা মহলের মন্তব্য রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, কিছু পরীক্ষা ভালো হওয়ার পরও ফল খারাপ আসে। আবার কিছু পরীক্ষা খারাপ হওয়ার পরও ফল ভালো আসে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়টির পরীক্ষা-পরবর্তী খাতা কাটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা থাকার পরও সারাদেশের নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এটিই একমাত্র ভরসা। দেশের প্রায় অর্ধেক সংখ্যক শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে। ফলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করলে এই শিক্ষার্থীরাই পরবর্তী সময়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এত বড় একটি কর্তৃপক্ষের সব সংকট হয়তো দ্রুতই নিরসন করা যাবে না। চেষ্টা অব্যাহত থাকুক, এটাই কামনা।
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ

