বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / চিঠিপত্র / নিবন্ধ

শব্দদূষণে অতিষ্ঠ চট্টগ্রাম নগরী

Author

তানভীর আহমদ রাহী , চট্টগ্রাম কলেজ

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ পাঠ: ৩৮ বার

শব্দদূষণে অতিষ্ঠ চট্টগ্রাম নগরী

তানভীর আহমদ রাহী
চট্টগ্রাম শহরে মারাত্মক ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে শব্দদূষণ। এ শহরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদসহ আরও ৪০-এর অধিক স্থানে শব্দদূষণের প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধির দিকে। যে জায়গায় মানুষের শ্রবণ ধারণক্ষমতা সাধারণত ৪০-৫০ ডেসিবেল, সেই জায়গায় মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদে প্রায় ৯০ ডেসিবেল। মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণের ফলে দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় অতিষ্ঠ জনজীবন। শব্দদূষণ এখন শুধু শহরে সীমাবদ্ধ নেই, গ্রামাঞ্চলেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে অতিরিক্ত মাত্রায়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, শব্দদূষণের প্রধান কারণ হাইড্রলিক হর্ণ ব্যবহার। যার শীর্ষে রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডবিউএইচও) অনুসন্ধান অনুসারে বায়ু দূষণের (কণা পদার্থ) প্রভাবের পরেই শব্দদূষণ স্বাস্থ্য সমস্যার দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ শব্দের কারণে বছরে ৪৮ হাজার ইস্কেমিক হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। শব্দদূষণের ফলে প্রায় ৫০-৯০ শতাংশ শ্রবণ সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের শ্রবণ ইন্দ্রিয় নষ্ট হচ্ছে। এই সমস্যাগুলো ছাড়াও সবাইকে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
দেশে ২০০৬ সাল থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা রয়েছে, যার মধ্যে শব্দদূষণের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিসূচক ব্যবস্থা নেওয়ার আইন রয়েছে। কিন্তু দিন শেষে আদৌও কি কোনো সমাধান হয়েছে? আমরা যদি উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই শব্দদূষণ কমাতে ফ্রান্সের উদ্যোগ। ৫০ ডেসিবেল-এর বেশি শব্দ হওয়ার কারণে প্যারিসের সড়কে বসানো হয় বিশেষ রাডার। সেই সকল স্থানে ক্যামেরাও রাখা হয়। বেশি শব্দদূষণ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করা হয়। যার ফলে শব্দদূষণের সমস্যা মানুষের ধারণক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। চট্টগ্রামসহ পুরো দেশে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের নজর দেওয়ার আহ্বান রইল। সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত শব্দদূষণের সমস্যা সমাধান করা হোক।
তানভীর আহমদ রাহী
শিক্ষার্থী, অনার্স প্রথম বর্ষ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ।
লেখক: সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!