বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

ব্যাচেলর লাইফ: এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা

Author

তানভীর আহমদ রাহী , চট্টগ্রাম কলেজ

প্রকাশ: ৩ মে ২০২৫ পাঠ: ৪৬ বার

ব্যাচেলর লাইফ: এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা

তানভীর আহমদ রাহী

শিক্ষার্থীদের অনেকেই পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে নতুন শহরে পড়তে আসে। তখন হোস্টেল কিংবা মেসই হয়ে ওঠে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়। সম্পূর্ণ অপরিচিত এক জগৎ—নতুন মানুষ, নতুন নিয়ম, নতুন অভ্যাস—সবকিছুতেই মানিয়ে নিতে হয়। প্রথমদিকে ভয় কাজ করে—রুমমেট কেমন হবে, খাপ খাইয়ে নিতে পারবো তো? কিন্তু ধীরে ধীরে সবার সঙ্গে পরিচিতি বাড়ে, একসময় এই অপরিচিত মানুষগুলোই হয়ে ওঠে পরিবারের মতো।

প্রতিদিনের রুটিন

হোস্টেল বা মেসের জীবন একেবারেই বাড়ির মতো নয়। ভোরে উঠে কেউ ফজরের নামাজ পড়ে, কেউবা আবার ঘুমের রাজ্যে ডুবে থাকে। ক্লাস থাকে সকাল ৮টায়, তাই সকাল ৭টার দিকেই ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করে বের হতে হয়। নাস্তার জন্য হয়তো এক কাপ চা আর সিঙ্গারা, কিংবা অনেক সময় না খেয়েই চলে যেতে হয় ক্লাসে। তখন মনে পড়ে বাড়ির সেই আয়েশি সকাল, যেখানে ঘুম থেকে উঠতেই সাজানো খাবারের টেবিল পাওয়া যেত!

দুপুর ও রাতের খাবারেও চলে নির্দিষ্ট নিয়ম। নির্দিষ্ট সময়ে লাইন ধরে খাবার নিতে হয়, দেরি হলে খাবার পাওয়া নাও যেতে পারে। দুপুরে হয়তো একটু মাছ বা মাংস থাকে, তবে পরিমাণ খুবই সামান্য। আর ডাল—এটাই সবার ভরসা, কারণ তরকারি থাকে সীমিত পরিমাণে। তখন মনে পড়ে বাড়ির খাওয়ার কথা, যেখানে কত রকমের পদ সাজানো থাকতো! এছাড়া, মেসের কঠিন বাস্তবতার মধ্যে অন্যতম সমস্যা হলো পানি সংকট। অনেক সময় পানির লাইন থাকে না, তখন এক বোতল পানির জন্যও অপেক্ষা করতে হয়। আবার, বাসার গেইট ১১-১২ টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। যা মাঝে মাঝে বিরাট সমস্যা তৈরি করে।

ব্যাচেলরদের বাঁচার অবলম্বন: বুয়া

একটি মেস বা হোস্টেলে বুয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। রান্না, ঘর পরিষ্কার, তার উপর নির্ভরশীল। একদিন বুয়া না আসলেই বোঝা যায় তার গুরুত্ব। তখন নিজেরাই রান্না করতে হয়, নয়তো হোটেলের ভরসা। ব্যাচেলরদের রুম মানেই এলোমেলো অবস্থা! সকালে যে লুঙ্গি পরে ছিল, সেটা হয়তো বিকেলেও বিছানায় গুটিয়ে রাখা, রাত হলে আবার পরা! রুমের কোণায় বই-খাতা ছড়ানো, দড়িতে শুকাতে দেওয়া কাপড়—এসবই ব্যাচেলরদের চিরচেনা দৃশ্য।

বন্ধুত্ব ও টিকে থাকার লড়াই

মেসের জীবন শুধু সংগ্রাম নয়, এতে বন্ধুত্বের এক অনন্য দিকও আছে। রুমমেটরা একে অপরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে যায়। কেউ অসুস্থ হলে আরেকজন খাবার এনে দেয়, কেউ টাকা সংকটে পড়লে বন্ধুরাই পাশে দাঁড়ায়। তবে ভুল বোঝাবুঝি বা ঝগড়াও হয়, কিন্তু সহজেই মিটেও যায়। যে ছেলে কখনো বাজার করতে জানত না, সে একদিন দশজনের বাজারের দায়িত্ব নেয়। যে ছেলে খাবার টেবিলে তৈরি খাবার ছাড়া কিছু ভাবতে পারত না, সে এখন নিজের জন্য রান্না করে, অন্যদের জন্য ভাগ করে রাখে। যে প্লেট ধোয়ার কথা ভাবতেও পারত না, সে নিজের ব্যবহৃত প্লেট নিজেই ধুয়ে নেয়। ব্যাচেলর জীবন সহজ নয়, তবে এটিই শেখায় বাস্তবতা। শেখায় আত্মনির্ভরশীলতা, পরিশ্রম আর টিকে থাকার কঠিন বাস্তবতা। এই জীবন একদিকে সংগ্রামের, অন্যদিকে এক রকম স্বাধীনতারও। জীবন গঠনের এই অধ্যায় একদিন সবার কাছেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে!

তানভীর আহমদ রাহী
শিক্ষার্থী : অনার্স প্রথম বর্ষ,ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, চট্টগ্রাম কলেজ
০১৮৯০০২০৮১৮

লেখক: সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ৩ মে ২০২৫ তারিখে প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!