বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ইসলাম / নিবন্ধ

সন্তানের প্রতি মা-বাবার দায়িত্ব

Author

তানভীর আহমদ রাহী , চট্টগ্রাম কলেজ

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৫ পাঠ: ৫১ বার

  1. সন্তানদের প্রতি মা-বাবার দায়িত্ব

    তানভীর আহমদ রাহী

    সন্তান প্রতিপালন বাবা-মায়ের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব। ইসলাম শুধুমাত্র সন্তান জন্মদানকে নয়, বরং তাদের সঠিকভাবে লালন-পালন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান এবং সুস্থ-সফল জীবন নিশ্চিত করাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে। শিশুরা যেন ন্যায়সংগত, নৈতিক ও আত্মিক বিকাশ লাভ করতে পারে, সে বিষয়ে ইসলাম বাবা-মায়ের ওপর বেশ কিছু দায়িত্ব ও অধিকার নির্ধারণ করেছে।

    সন্তানের জন্য হালাল জীবিকা নিশ্চিত করা
    একজন বাবা-মায়ের প্রথম দায়িত্ব হলো সন্তানকে হালাল উপার্জনের মাধ্যমে লালন-পালন করা। ইসলাম স্পষ্টভাবে হারাম রুজিকে নিষিদ্ধ করেছে এবং হালাল আহার ও জীবনযাত্রার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

    সন্তানের জন্য অর্থবোধক ও সুন্দর নাম রাখা
    ইসলামে নবজাতকের জন্য একটি সুন্দর ও অর্থবোধক নাম রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাসূল (সা.) ভালো অর্থবহ নাম রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং কখনো কখনো নাম পরিবর্তনও করেছেন, যদি তা অনুপযুক্ত হয়।

    সন্তানকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া
    সন্তানদের ঈমান, আকিদা, নামাজ, রোজা, কুরআন শিক্ষা এবং উত্তম চরিত্র গঠনের জন্য বাবা-মায়ের দায়িত্ব অপরিসীম। হাদিসে এসেছে, তোমরা তোমাদের সন্তানদের নামাজের আদেশ দাও যখন তারা সাত বছরে পৌঁছাবে (আবু দাউদ)।

    ন্যায়সঙ্গত আচরণ ও পক্ষপাত এড়িয়ে চলা
    সন্তানদের মধ্যে পক্ষপাতিত্ব করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাসূল (সা.) বলেন, আল্লাহর ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের প্রতি সমান আচরণ করো (সহিহ মুসলিম)।

    সন্তানের জন্য নিরাপদ ও নৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা
    শিশুর নৈতিক ও আত্মিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সুস্থ পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ অপরিহার্য। খারাপ বন্ধু, নেতিবাচক সংস্কৃতি ও গুনাহ থেকে সন্তানদের দূরে রাখা বাবা-মায়ের দায়িত্ব।

    সন্তানের কল্যাণ কামনায় দোয়া করা
    কুরআনে এসেছে, তারা বলে: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের জন্য আমাদের স্ত্রী এবং সন্তানদের চোখের শীতলতা দান করো (সূরা আল-ফুরকান: ৭৪)। সন্তানের সৎপথে চলার জন্য এবং তাদের ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের জন্য বাবা-মায়ের দোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সন্তানের ভবিষ্যৎ ও বিবাহের ব্যবস্থা করা
    শিশুদের সুস্থ মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য বাবা-মায়ের উচিত উপযুক্ত সময়ে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা। রাসূল (সা.) বলেছেন, যার সন্তান বিয়ের উপযুক্ত হয়, অথচ সে বিয়ে দেয় না, সে গুনাহর কাজে সন্তানের সহায়তা করল (মুসনাদ আহমদ)।

    ভালোবাসাপূর্ণ ও স্নেহশীল আচরণ করা
    রাসূল (সা.) শিশুদের প্রতি গভীর ভালোবাসা দেখিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, যে ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের মধ্যে নয় (তিরমিজি)। তাই বাবা-মায়ের উচিত শাসনের নামে কঠোরতা না দেখিয়ে ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ করা।

    সন্তানের ইহকাল ও পরকালীন কল্যাণ নিশ্চিত করা
    শুধু দুনিয়াবি সফলতা নয়, বরং সন্তান যেন জান্নাতের পথে চলতে পারে, সে দিকেও খেয়াল রাখা বাবা-মায়ের অন্যতম দায়িত্ব। রাসূল (সা.) বলেছেন, যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি জিনিস চলতে থাকে: (১) সদকায়ে জারিয়া, (২) এমন জ্ঞান যা থেকে উপকার পাওয়া যায়, (৩) সৎ সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে (মুসলিম)।

    সন্তান প্রতিপালন শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়, এটি ইসলামের দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও বটে। একজন বাবা-মা যদি সন্তানের প্রতি ইসলামের নির্দেশিত হকসমূহ যথাযথভাবে পালন করেন, তাহলে দুনিয়া ও আখিরাতে তারা সফল হবেন। ইসলামিক শিক্ষার আলোকে সন্তানদের ন্যায়সংগতভাবে গড়ে তোলা সমাজের জন্যও কল্যাণকর।

    তানভীর আহমদ রাহী
    শিক্ষার্থী : ফাযিল প্রথম বর্ষ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসা

লেখক: সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে দেশ রুপান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!