গ্রামীণ নারীর সুন্দর -শুভ্র মুহূর্ত

- শিরোনাম-ভিন্নতা আসুক কর্মসূচিতে,গ্রামীণ নারীরা পাক তাদের সুন্দর -শুভ্র মুহূর্ত।
বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবসের লক্ষ্য- নারীদের অবমূল্যায়ন নয় বরং নারীদের পরিবার সমাজে অবস্থানের মূল্যায়ন হলেও আজও বাংলাদেশের গ্রামগুলোর নিভৃত কোণে গ্রামীণ বধূরা,মায়েরা, মেয়েরা,পিতামহী-মাতামহীরা অপ্রকাশিত যন্ত্রণাতে দগ্ধ হচ্ছেন। শুভ্র অন্তরের এই সরল নারীরা কি পারছেন দিনের শেষে রাত্রি যখন নামে সেই লগ্নে শান্তি ভেজা মন নিয়ে সুখের রাজ্যে নিদ্রা যেতে?তারা কি পারছেন তাদের ইচ্ছা- ভালোলাগা- প্রতিভা প্রকাশ করতে? সেই গ্রামীণ বধূটি, বাবা-মায়ের রাজকন্যা কি পাচ্ছেন একটু শান্তি -ভালোবাসা -আদর জড়ানো তার মনের কাল্পনিক রাজপ্রাসাদ টি? আমাদের গ্রামীণ নারীরাও স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন বাস্তবায়নেরও স্বপ্ন দেখেন ;তাদেরও শান্তির শুভ্রতার লগ্ন কাটাতে ইচ্ছে জাগে। কিন্তু নারী ক্ষমতায়নের এই যুগে কিছু নারীদের অমানিশা কাটলেও প্রান্তিক গ্রামগুলোতে অথবা আমাদেরই আশেপাশের মায়েরা -বধূরা- মেয়েরা অমানিশার অন্ধকারে দিশাহীন, খুঁজে বেড়াচ্ছে তাদের মনের একরাশ শান্তি মাখানো মুহূর্ত। খুব কাছ থেকে দেখা, যাদের সাথে প্রতিনিয়ত চলা তাদেরই মধ্য থেকে এক গ্রামীণ বধূর জীবন থেকে সামান্য কিছুটা বলে যাই, “ভোরে তার ঘুম ভাঙ্গে,রাজ্যের যত কাজ_যত চিন্তা তার কাঁধে_হ্যাঁ তারই কাঁধে।অসুস্থ শরীর টেনে নিয়েই গোয়ালে ঢুকেন,গরুদের পরিচর্যা শেষে আহারের বন্দোবস্ত হয়ে গেলে সন্তানদের খাইয়ে আবার গরু নিয়ে ছুটে যান দূর প্রান্তের মাঠে। সারাদিন গরুর রাখাল হয়ে সন্ধ্যেবেলা ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ফেরা ;মুহূর্ত তারও আসে পায়না সেই বধূ তার কাল্পনিক শুভ্র -শান্তির শয়ন লগ্ন। কারণ সংসারের যত চিন্তা_আহার যোগানো_ জীবন তুল্য সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব শুধুই তার।আর তারই সুস্থ -সবল দেহের অধিকারী মেজাজ টনটনা পতি পড়ে পড়ে ঘুমোয়,খায়-দায়,ঘুরে-ফেরে,আর কিছু অস্বীকৃত বাজি খেলায় হেরে বাড়ি ফিরে। আবার সেই বাজি হেরে যাওয়া টাকার জন্যই পত্নীর উপর শুরু হয় অত্যাচার।অথচ এই মানুষটির যখন দাম্পত্য জীবনের আগের স্মৃতিচারণ শুনি;এই সেই রাজকন্যা তার বাবার প্রাসাদের।বধূটি হয়তো অশান্তির প্রাসাদকেই আপন করে নিয়েছে জীবন তুল্য সন্তানের জন্য, তার সিন্ধু সম মায়া হয়েছে সংসারের প্রতি;কিন্তু মায়া বাড়েনি তার ঐ অকর্মা পতিটির তার প্রতি।” এমন আরও অনেক নারীর জীবন কাহিনি গাথা হিসেবে তুলে ধরলে মোম সদৃশ মনের মানুষের অশ্রু আটকাবে না।এই গ্রামীণ নারীরাই পারবে শান্তির মুহূর্ত আনতে, শান্তির রাজ্যে নিদ্রা যেতে;যদি হয়-‘নারীদের ছাড়া তোমাদের জীবন অসম্পূর্ণ ;সেই অমূল্য রত্নের তোমারা সঠিক পরিচর্যা করো’এমন কোনো প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে গ্রামীণ পুরুষদের শুধরানোমূলক কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা,কোনো দিবস পালন করা।কারণ নারীকে দিনশেষে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছেই ফিরে যেতে হয়;তাদের দাবি উঠলে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছে তারা শারীরিক,মানসিকভাবে নির্যাতিত, অপদস্ত,অপমানিত হয়।শুভ্র হৃদয়ের সরলমনা গ্রামীণ নারীদের মুক্তি মিলবে ঠিক তখনই যখন গ্রামীণ পুরুষেরা রত্নগুলোকে শ্রদ্ধা- সম্মান-মায়া-ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখবে।
জারিয়াতুল হাফসা
সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মোবাঃ০১৩২৩০৬৩৫২২
ই-মেইল: zariatulhafsa22@gmail
