বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ইসলাম / নিবন্ধ

যাকাতের নিসাব পরিমাণ এবং খাতসমূহ

Author

জারিয়াতুল হাফসা , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৫ পাঠ: ৪৪ বার

 

শিরোনাম : যাকাতের নিসাব পরিমাণ এবং খাতসমূহ

‘যাকাত’ একটি আরবি শব্দ ;যার আভিধানিক অর্থ : পবিত্রতা,বৃদ্ধি ইত্যাদি এবং পারিভাষিক অর্থ : নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ নির্দিষ্ট সময় কোনো ব্যক্তির মালিকানায় থাকলে তার উপর নির্ধারিত খাতে অর্থ বন্টন করা। যাকাত দাতার দ্বারা গ্রহীতার উপর করুণা নয় বরং দাতার সম্পদে গ্রহীতার আল্লাহ প্রদত্ত অধিকার। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তাদের (ধনীদের)সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে। ” (সূরা আয-যারিয়াত:আয়াত ১৯)।যাকাত প্রদানের মাধ্যমে সম্পদশালী ব্যক্তির সম্পদ পবিত্র হয় এবং প্রার্থীরা তাদের অধিকার পাওয়ার মাধ্যমে আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে সক্ষম হয়।
যাকাতের নিসাব বা নির্ধারিত পরিমাণ প্রযোজ্য হয় প্রধানত সোনা-রুপা, গবাদি পশু, ফসল,নগদ টাকা, ব্যবসায়িক পণ্য ও খনিজ সম্পদের উপর।নিসাব পরিমাণ সম্পদের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
১.সোনা-রুপার ক্ষেত্রে :সোনা ৮৫ গ্রাম বা ৭.২৯ তোলা বা ভরি এবং রুপা ৫৯৫ গ্রাম বা ৫১.০২ ভরি কারো মালিকানায় এক বছর থাকলে তাকে নির্দিষ্ট সময় পর উক্ত সোনা ও রুপার পরিমাণের উপর ২.৫০% হারে যাকাত দিতে হবে।
২.ফসল ও ফলমূলের ক্ষেত্রে :ফল -ফসলের যাকাতকে ‘ওশর’ বলা হয়।  ফল ও ফসলের নিসাব ৫ ওয়াসাক বা ২৫ মণ মতান্তরে ১৭ মণ। ফল- ফসল চাষাবাদের সময় প্রাকৃতিক মাধ্যম ব্যবহৃত হলে উৎপন্ন ফসলের এক-দশমাংশ এবং কৃত্রিম মাধ্যম ব্যবহৃত হলে ১/২০ অংশ হিসেবে ঐ উৎপন্ন  ফসলের উপর একবার যাকাত প্রদান করতে হবে।
৩.নগদ টাকার ক্ষেত্রে : নগদ টাকার ক্ষেত্রে ব্যাংক নোট-চেক নিসাব পরিমাণ হলে ঐ নির্ধারিত অর্থের ১/৪০ ভাগ বা ২.৫০% যাকাত আদায় করতে হবে।
৪.গবাদি পশুর ক্ষেত্রে : গবাদি পশুর (উট,দুম্বা, গরু,ছাগল,ভেড়া) ক্ষেত্রে নিসাব পরিমাণ হলো : উট ৫ টি,গরু-মহিষ ৩০টি,ছাগল-ভেড়া-দুম্বা ৪০ টি।উটের ক্ষেত্রে একটি বকরি, মেষ বা দুম্বা;ছাগল-ভেড়া-দুম্বার ক্ষেত্রে একটি বকরি,মেষ বা দুম্বা এবং গরু-মহিষের ক্ষেত্রে এক বছরের গরু,মহিষ বা ষাঁড় যাকাত হিসেবে প্রদান করতে হবে। এর কম হলে যাকাত দিতে হবে না।
এছাড়া ব্যবসায়িক পণ্য, জমিজমা বা ইজারা সম্পত্তি এবং অন্যান্য সম্পদের উপরও যাকাত প্রযোজ্য রয়েছে।
আল কুরআনে যাকাতের নির্ধারিত খাতগুলোতে যাকাত প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুরআনে যাকাতের খাত সম্পর্কিত উল্লিখিত আয়াত:
“নিশ্চয়ই যাকাত হলো কেবল ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন এবং তা দাস মুক্তির জন্য,ঋণগ্রস্তদের জন্য,আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য;এ হলো আল্লাহ তায়ালার বিধান।আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।(সূরা আত-তাওবা:আয়াত ৬০)।
যাকাতের খাতগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ :
প্রথম খাত: ফকির
ফকির হলো এমন কেউ যার সামান্য কিছু সম্পদ আছে কিন্তু তা তার জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট নয়,এমন ব্যক্তি যাকাতের খাতের আওতাভুক্ত।
দ্বিতীয় খাত: মিসকিন
মিসকিন অর্থ হলো যার কিছুই নয় এমন ব্যক্তি যা যাকাতের একটি খাত।
তৃতীয় খাত:আমিলীন(যাকাত আদায়ের সাথে জড়িত ব্যক্তিগণ)
যাকাত আদায় ও ব্যবস্থাপনার কাজে জড়িত ব্যক্তিগণ যাকাতের অন্যতম একটি খাত।
চতুর্থ খাত:মুয়াল্লাফাতুল কুলুব(অন্তর জয় করার উদ্দেশ্যে)
ইসলাম ধর্ম বহির্ভূত অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ইসলামের প্রতি চিত্ত আকর্ষণের জন্য যাকাতের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।
পঞ্চম খাত:রিকাব(শৃঙ্খলমুক্ত করা)
দাস-দাসীদের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে যাকাত প্রদান করা যেতে পারে।
ষষ্ঠ খাত:গারিমীন(ঋণমুক্ত করার জন্য)
গরিব ও অভাবী মুসলিম ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে ঋণ থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্য সম্পাদন যাকাতের খাতের আওতাভুক্ত।তবে যারা অধিক ব্যয়ের কারণে ঋণগ্রস্ত থাকেন তারা এ খাতের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
সপ্তম খাত:ফি সাবিলিল্লাহ(আল্লাহর পথে ব্যয় করা)
আল্লাহর পথে জিহাদ করার উদ্দেশ্যে ব্যয়কৃত অর্থ(অস্ত্রের যোগান, ঘাঁটি তৈরিসহ অন্যান্য খরচ) বহন করা যাকাতের একটি অন্যতম বড় খাতের অন্তর্ভুক্ত।
অষ্টম খাত:ইবনুস সাবিল(মুসাফিরকে প্রদান)
যে ব্যক্তি সফরে এসে অর্থ হারিয়ে যাওয়ার কারণে বা অন্য কারণে নিঃস্ব হয়ে গেছেন ঐ ব্যক্তি যাকাতের খাতের অন্তর্ভুক্ত হবে যদিও সে সম্পদশালী হয়।
কোনো ব্যক্তিকে প্রদত্ত যাকাত তার অন্তত একদিনের প্রয়োজন মেটানোর চেয়ে যেন কম না হয়;সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
যাকাত একটি ফরজ ইবাদত যেটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ। তাই নিয়ম মেনে যাকাত প্রদান অত্যাবশ্যকীয়।

লেখক: সম্পাদকীয় পর্ষদ সদস্য, প্রশিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক, খোলা কাগজ, খবরের কাগজ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!