শঙ্খচিলের বাড়ি কই

~আবিদা সুলতানা
লাল-নীল আলোক বাতির শহর।সূর্যের আয়ু ফুরানোর আগেই এই শহর আলোকিত হয় নানান রঙের ঝাড়বাতিতে। দিবা রাত্রি এক করে অসহ্য ছুটে চলা। শিকড়হীন এই ছুটে চলা। যেখানে সবটাই অনিশ্চিত।
উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরুতেই, সুপ্ত স্বপ্ন গুলো গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে। হাজার কাঠখড় পুড়িয়ে একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিজের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করা। যুক্ত তো হলো,এবার বাড়ি ছাড়ার পালা। আর একবার যে এই বাড়ি ছাড়লো,তার আর বাড়ি ফেরা হলো না। নতুন শহর, হাজারও নতুন মানুষের ভীড়ে নিজেকে বড্ড অসহায় অনুভব হতে থাকে। তারপর ক্যাম্পাসে আসতেই সিনিয়র জুনিয়র ফ্যাক্ট। পরিবার পরিজন ছেড়ে নতুন শহরে আসা মানুষটার অসহায়ত্বে যেন দূর থেকে চোখ রাঙানো।
দিন যায়, মাস যায় শঙ্খচিল নিজেকে মানিয়ে নিতে থাকে নানা ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে। কর্মব্যস্ত দিনগুলোর শেষাংশে সে যেন সূর্যের দীর্ঘায়ু কামনা করতে থাকে। কারণ দিন শেষে ম্যাস,হোস্টেল কিংবা হলের প্রাচীন দেওয়াল গুলো তাকে বড্ড কোনঠাসা করে তোলে। একাকিত্বের চরম উপলব্ধি অনুভব করায়। কর্মব্যস্ত দিন, দিনের পরে রাত এক অদৃশ্য তাড়াতে বাধ্যতামূলক ছুটে চলা। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে,তখন মায়ের স্নেহের আচল,বাবার যত্ন,পরিজনের অতিরিক্ত করা ব্যাপার গুলোর অবাধ প্রয়োজনীয়তা অনুভব হয় আর নিজেকে জগতের সবচেয়ে অসহায় বোধ হতে থাকে। চলতি পথে সঙ্গী হয় অনেকে কিন্তু আপনজন পাওয়া এই মিথ্যে চাকচিক্যের ভিড়ে বড্ড মুসকিল। অতীত,বর্তমান, ভবিষ্যৎ একসঙ্গে নিয়ে চলা। উপলব্ধির বয়সে এই অত্যন্ত মানসিক চাপে জর্জরিত হয়ে পড়ে প্রায় সবাই। কখনো কখনো বোধ হয়, নিশ্বাসটাও যেন রুটিনের তারকাঁটাতে পড়েছে। হতাশা,ক্লান্তি,মানসিক চাপের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনৈতিক চাপ,সর্বোপরি লোকসমাগমে থেকেও একাকিত্বের যে ব্যাপারটা।
অনিশ্চিত এক ঘরের খোঁজে শঙ্খচিল হয় বাড়ি ছাড়া। সেই কাঙ্ক্ষিত ঘর কী সে পাবে? নাকি সহস্রের মতো ঝরে পড়বে সভ্যতার অতল গহ্বরে? পরাজিতকে পৃথিবী মনে রাখে না।
এভাবেই দিবা রাত্রি এক হয়ে যায়।
অনিশ্চিত ঘরের খোঁজে
শঙ্খচিলের আর বাড়ি ফেরা হয় না।

